সকাল ৭:২১, সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং
/ ফুটবল / দলবদল শেষ এবার লড়াইয়ের অপেক্ষা
দলবদল শেষ এবার লড়াইয়ের অপেক্ষা
অক্টোবর ১৭, ২০১৮



ফুটবলারদের দলবদল শেষ হয়েছে, চলছে এবার মাঠে নামার প্রস্তুতি- লড়াইয়ের অপেক্ষা এখন। মোহামেডানের ঐতিহ্য ফুরিয়েছে বহু আগেই। কর্মকর্তাদের সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা, সাংগঠনিক দৈন্যদশা আর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার কারণে এককালের সেরা এই ক্লাবটি এখন আর শিরোপা জয়ের জন্য দল গড়েননা। টিকে থাকার চেষ্টা থাকে নিজেদের। তাই সমর্থকরা‌ও এখন আর শিরোপার স্বপ্ন দেখেন না। তবে মোহামেডান তাদের অতীত গৌরব ধরে রাখতে না পারলেও দাপটের সঙ্গে টিকে থাকা ঢাকা আবাহনী পেশাদার লীগের ১০ আসরের ছয়টিতেই শিরোপা ঘরে তুলেছে। হ্যাটট্রিক শিরোপা ঘরে তোলার জন্য এবার‌ও শক্তিশালী দল গড়েছে আকাশি-হলুদ শিবির। শেখ রাসেল, শেখ জামাল, সাইফ স্পোর্টিংয়ের পর আবাহনীর নতুন হুমকি হয়ে উঠেছে এবার বসুন্ধরা কিংস।

তবে গত মৌসুমে আগমণেই হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মণ, মতিন মিয়া ইব্রাহিমদের দলে ভিড়িয়ে শক্তিশালী দল গড়েছিল নবাগত এই ক্লাবটি। প্রি-সিজন ক্যাম্প, দেশ-বিদেশে প্রস্তুতি ম্যাচ সবই করেছিল ক্লাবটির কর্মকর্তারা। কিন্তু ভালো মানের বিদেশি না থাকায় সফলতা আসেনি। এবার অবশ্য জাতীয় দলের তারকাদের পেছনে ছোটেনি ক্লাবটি। জামাল ভূঁইয়া ছাড়া সবশেষ জাতীয় দলের খেলোয়াড় আছেন মাত্র তিনজন। এরা হলেন ডিফেন্ডার রহমত মিয়া, ফরোয়ার্ড জাফর ইকবাল ও জাভেদ খান। কলোম্বিয়ার বয়সভিত্তিক দলে খেলা ডেনিয়ার করডোবা, জনটন করবোডা ও ডেনিশ বলাকভ যোগ দেয়াতে শক্তি বেড়েছে ক্লাবটির। ব্রিটিশ কোচ স্টুয়ার্ড হলের অধীনে তাদের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বেশ আগেভাগেই।

ফুটবলে নতুন চমক নিয়ে এসেছে বসুন্ধরা কিংস। কোস্টারিকার হয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা ড্যানিয়েল কলিনড্রেস নাম লিখিয়েছেন ক্লাবটিতে। আক্রমণ ভাগে আছেন থাইল্যান্ড লীগ খেলা ব্রাজেলিয়ান মার্কোস ভিনিসিয়াস। পাশাপাশি দেশি ফুটবলার সংগ্রহও খুব ভালো হয়েছে বসুন্ধরা কিংসের। রক্ষণভাগে আছেন জাতীয় দলের সুশান্ত ত্রিপুরা, নাসির চৌধুরী, অভিজ্ঞ রেজাউল করীম রেজা, দিদারুল আলম, স্প্যানিশ গিওর্গি গোটর ও নুরুল নাঈম। মধ্যমাঠে তাদের প্রতিভার ছড়াছড়ি। আছেন সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ইমন বাবু, মাসুক মিয়া জনি, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, হেমন্ত ভিনসেন্ট, মতিনসহ অনেক দেশি খেলোয়াড়। পাশাপাশি ড্যানিয়েল কলিনড্রেসের সঙ্গে যোগ হবে এশিয়ান কোটায় আরেক মিডফিল্ডার। ফরোয়ার্ড লাইনে ভিনিসিয়াসের সঙ্গী হবেন দেশি সুফিল কিংবা সবুজ। কাগজ-কলমে শক্তির তুল্যমূল্য মাপলে বসুন্ধরা কিংস অনেক এগিয়ে অন্যদের চেয়ে।

কাগজে-কলমে বসুন্ধরার পরই চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীর অবস্থান। গতবারের দলটিকেই প্রায় ধরে রেখে শক্তিবৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেছে ঢাকার জায়ান্টরা। এক মৌসুম পরই আবাহনীর ডেরায় ফিরেছেন ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। মাঝে মাঝে মামুনুল ইসলাম মামুন ঢাকা আবাহনী এসেছেন চট্টগ্রাম মোহামেডানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। হাইতি জাতীয় দলে খেলা বেলফোর্ট, পরীক্ষিত সানডে সিজুবা আবাহনীর আক্রমণভাগের বড় শক্তির নাম। এশীয় কোটায় থাকবেন আফগানিস্তানের ডিফেন্ডার মাশি সাইগানি। চার নাম্বার বিদেশি দক্ষিণ কোরিয়ার মিন হোয়াক।

বসুন্ধরা আবাহনী সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের পরের অবস্থান এবার শেখ রাসেলের। সবশেষ জাতীয় দলের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা, ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ, ইয়াসিন খান ও মিডফিল্ডার বিপলু আহমেদ নাম লিখিয়েছেন শেখ রাসেলে। চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলরক্ষক আশরাফুল রানার পাশাপাশি শেখ রাসেল দলে ভিড়িয়েছেন মোহামেডানের গোলরক্ষক মামুন খানকে। নিঃসন্দেহে গোলপোস্ট বেশি সুরক্ষিত রাসেলেরই। গত মৌসুমের ১১ জন ধরে রেখে তারা এবার বেশি খেলোয়াড় টেনেছে চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে, ৫ জন। কেবল পোস্টই নয়, রক্ষণভাগও বেশ শক্তিশালী শেখ রাসেলের। জাতীয় দলের দুই ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ, ইয়াসিন খানের সঙ্গে জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার আরিফুল ইসলাম, পুরনো খেলোয়াড় খালেকুজ্জামান, উত্তম কুমার বণিককে এবার দেখা যাবে নীল জার্সিতে। বিদেশি খেলোয়াড় চারজনের মধ্যে রাসেল এশিয়ান কোটায় নিয়েছে অলিশার নামের উজবেকিস্তানের এক ফরোয়ার্ডকে। নতুন এনেছে অ্যালেক্স সিলভা নামের এক ব্রাজিলিয়ানকে। গত মৌসুমে শেখ জামালে খেলা নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড রাফায়েল ও চট্টগ্রাম আবাহনীতে খেলা নাইজেরিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাক অ্যালিসনকে দলে নিয়েছে শেখ রাসেল।

লড়াই করার মতোই দল হয়েছে শেখ জামাল ও আরামবাগের। দল দুটির মূল শক্তি তাদের কোচ। গত মৌসুমে তরুণ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে শিরোপা লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন জোসেফ আফুসি। মাঝপথে তার দল ত্যাগে ছন্দপতন ঘটে ক্লাবটির। স্বাধীনতা কাপের শিরোপা জিতিয়ে আরামবাগকে জায়ান্টে রূপান্তরিত করেন মারুফুল হক। এরা দুজন এবারও ক্লাব দুটিকে ভালো কিছু করার সাহস যোগাচ্ছেন। নতুন কিছু ফুটবলারের জন্য বড় মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র। গতবারের রানার্সআপ চট্টগ্রাম আবাহনীর টার্গেট সম্মানজনক অবস্থান। আর ঐহিত্যবাহী ঢাকা মোহামেডানের কোনো লক্ষ্য নেই। এদিকে টিকে থাকার লক্ষ্যেই দল গড়েছে ব্রাদার্স, বিজেএমসি, রহমতগঞ্জ ও নোফেল স্পোর্টিং ক্লাব।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :