সকাল ৭:২২, সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং
/ ক্রিকেট / ছেলেকে সেঞ্চুরি উৎসর্গ করলেন ইমরুল কায়েস
ছেলেকে সেঞ্চুরি উৎসর্গ করলেন ইমরুল কায়েস
অক্টোবর ২১, ২০১৮



সময়টা ভালো কাটছে ইমরুল কায়েসের। এশিয়া কাপের মাঝপথে ডাক পেয়ে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন ভালোভাবেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও হেসেছে তার ব্যাট। সতীর্থদের একে একে ঝরে পড়তে দেখেছেন কিন্তু একপাশ আগলে ঠায় দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত ব্যাট চালিয়েছেন ইমরুল কায়েস।
সেই অক্টোবর, সেই মিরপুর, সেই শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। আরেকটি ওয়ানডে সেঞ্চুরি। আগেরটির সঙ্গে দূরত্ব দু’বছরের। আর দিনের হিসেবে মাঝে কেটে গেছে ৭৪৪ দিন।

ইমরুল নিজের আগের ওয়ানডে শতকটি করেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর, এই মিরপুরেই। দুই বছর ১৪ দিন পর পেলেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় তিনঅঙ্ক। উদযাপনটা এমনিতেই অন্যরকম হতে পারত এ বাঁহাতি ওপেনারের! সেটিকে আরও বিশেষভাবে বিশেষ ভঙ্গিমায় উদযাপন করেছেন ইমরুল।
কিছুদিন আগেই বাবা হয়েছেন ইমরুল। সন্তান তার জন্য সৌভাগ্য নিয়ে এসেছে। আর তাই তো ছেলেকে উৎসর্গ করেছেন গুরুত্বপূর্ণ এ শতক। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েই হেলমেট খুলে কোলে নবজাতক নেয়ার মতো করে ব্যাট নিয়ে দোলালেন ইমরুল।

যারা ক্রিকেটের সঙ্গে ক্রিকেটারদের হাড়ির খবর রাখেন, তাদের বুঝতে ভুল হওয়ার কথা নয়! কয়েক সপ্তাহ আগে পৃথিবীর আলো দেখা ছেলেকে উদ্দেশ্য করেই যে ওরকম উদযাপন করেছেন ইমরুল, সেটি আপাতত তার মুখে জেনে নেয়ার উপায় নেই। তবে ছেলেকেই যে ‘সেঞ্চুরি’ উৎসর্গ, বোঝারও বাকি থাকল না কারও!

গত ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথিবীতে এসেছে ইমরুল-নাঈমা দম্পতির প্রথম সন্তান। ছেলে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই পেলেন সেঞ্চুরি। ছেলে সৌভাগ্যই বয়ে এনেছে বটে!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শতকটা ছিল স্রোতের বিপরীতে লড়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শতকেও একই গল্প লিখলেন ইমরুল। নিজে যখন একপাশ সামলে সাবলীলভাবে খেলছেন, অন্যপাশে সতীর্থদের সাজঘরে ফেরার তাড়া! একজন স্বীকৃত ব্যাটসম্যানের অভাবে আটকে যেতে পারতেন। তবে শেষদিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে বড় জুটি গড়ে দলকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহই এনে দিয়েছেন।

৪৩তম ওভারে টেন্ডাই চাতারার দ্বিতীয় বল লেগে ঘুরিয়ে দিয়েই ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির আনন্দে মাতেন ইমরুল কায়েস। এ পথে বল খেলেছেন ১১৯টি। ৮টি বাউন্ডারির পাশাপাশি হাঁকিয়েছেন ৩টি ওভার বাউন্ডারি। ৪৮.৪ ওভারে ৭ম উইকেটে ১৪৪ রানে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল কায়েস। আউট হওয়ার আগে দলকে ২৬৬ রানে পৌছে দেন। ১৪০ বল খেলে ১৩টি চার ও ৬টি ছক্কা হাকিয়েছেন মেহেরপুরের এ ক্রিকেটার।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দলের বিপর্যয়ে বলতে গেলে একাই লড়ছেন এ বাঁহাতি।
দ্রুত তিন উইকেট হারলেও এক পাশ আগলে লড়ে গেছেন যোদ্ধার মতো। মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে দলের ব্যাটিং বিপর্যয় এড়ান এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। সফরকারী বোলারদের তোপের মুখে ১৩৯ রানেই সাজঘরে ফিরেছেন স্বাগতিকদের ৬ ব্যাটসম্যান। সপ্তম উইকেটে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তাতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। প্রথমে মোহাম্মদ মিঠুনকে (৩৭) সঙ্গে নিয়ে বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করেছেন ইমরুল। এ পথে ক্যারিয়ারের ১৬তম অর্ধশতক করেন। সিকান্দার রাজার করা ইনিংসের ২০তম ওভারের তৃতীয় বল অফ সাইডে ঠেলে দিয়েই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ইমরুল। যা করতে ৬৪ বল খেলেন এ বাঁহাতি। যেখানে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছয়ের মার।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :