রাত ৪:২৬, শনিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং
/ অলিম্পিক (বিওএ) / ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ভাড়ায় চলে অনুশীলন
ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ভাড়ায় চলে অনুশীলন
অক্টোবর ৬, ২০১৮



কবিরুল ইসলাম, সিলেট থেকে

পুরুষ অ্যাথলেটদের জন্য নির্মিত দেশের একমাত্র ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি রয়েছে পূণ্যভূমি সিলেটে। অন্য চারটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স থেকে এটি সবচেয়ে আধুনিক ও সৃমদ্ধ। এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক সুইমিংপুল, ফুটবল ও ক্রিকেট মাঠ, জিমনেশিয়াম এবং ব্যাডমিন্টন, কাবাডি ‌ও লন টেনিসের আলাদা আলাদা কোর্ট। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য রয়েছে আবাসিক হোস্টেল। প্রায় সাড়ে ছয় একর জমির উপর ২০১৪ সালে নির্মিত এ ক্রীড়া কমপ্লেক্সটির মূল লক্ষ্যই ছিল ক্রীড়াঙ্গনের উর্বরভূমি সিলেট থেকে আর‌ও খেলোয়াড় তৈরি করা। সে জন্যই জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিয়ন্ত্রনে দিয়ে দেয়া হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ২৬ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত আধুনিক সুবিধা সম্বলিত অ্যাথলেট তৈরির কারখানাটি এখন ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে!

স্থাণীয় বিভিন্ন সংগঠনের কাছে মাসিক ও বাৎসরিক চুক্তিতে ভাড়া দেয়া হচ্ছে ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে সুইমিংপুল ও আউটডোর মাঠটি। ফলে পেশাদার খেলোয়াড়দের চেয়ে সৌখিন খেলোয়াড়দেরই প্রাধান্য এখানে বেশী। অন্যদিকে, অর্থাভাবে অনুশীলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সিলেটের পেশাদার ক্রীড়াবিদরা। তাই ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মানের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

শুক্রবার সকাল ১০টায় উপশহরের মাছিমপুরস্থ আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেই দেখা যায় মূল মাঠে কয়েকশ' মানুষ ব্যস্ত ক্রিকেট ও ফুটবল খেলায়। তবে এরা কেউ প্রফেশনাল খেলোয়াড় নন। সবাই স্থাণীয় অধিবাসী। কিশোর-যুবক থেকে শুরু করে শিশুরা পর্যন্ত খেলায় ব্যস্ত যে যার মতো। খেলার এ মাঠটি বছর চুক্তিতে ভাড়া দেয়া হয়েছে সিলেটের এম কে গ্যালাকটিকো স্পোর্টস একাডেমিকে। বিনিময়ে প্রতি মাসে জেলা ক্রীড়া সংস্থা পাচ্ছে চল্লিশ হাজার টাকা। এই একাডেমিতে কোন প্রফেশনাল ফুটবলার কিংবা ক্রিকেটার প্রশিক্ষন নিচ্ছেন না। স্থাণীয় সৌখিন মানুষগুলো নিজেদের ফিটনেস ঠিক রাখার জন্যই নিয়মিত অনুশীলন করছেন গ্যালাকটিকোতে ভর্তি হয়ে।

আউটডোর মাঠের পশ্চিম পাশেই অবস্থিত সুইমিংপুল। সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠতেই দেখা গেলো আধুনিক সুবিধা সম্বলিত বিশালাকৃতির সুইমিংপুল। প্রায় ২০জনের মতো কিশোর-যুবক সাঁতার কাটছেন। এদের কেউ জেলা কিংবা জাতীয় পর্যায়ে সাঁতারে অংশগ্রহনের উদ্দেশ্যে নন, বরং শখের বসেই সাঁতার কাটছেন। সিলেট সুইমিং ক্লাব নামের একটি অপেশাদার ক্লাবকে মাসে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেয়া হয়েছে পাঁচ বছরের চুক্তিতে। আর প্রতিষ্ঠানটিও সুযোগ বুঝে এখানে আসা মানুষদের পকেট কাটতে ব্যস্ত। পুলে নেমে এক ঘন্টার জন্য দুইশত টাকা গুনতে হচ্ছে স্থানীয়দের। আছে মাসিক ও বছর চুক্তির সাঁতারুও।

সিলেট সুইমিং ক্লাবের তত্বাবধায়ক মোস্তাক আহমেদ জানান, 'এখানে কয়েকটি ক্যাটাগড়িতে মেম্বারশীপ প্রদান করা হয়ে থাকে। তিন মাসের জন্য পাঁচ হাজার, ৬ মাসের জন্য নাম লেখালে সাত হাজার, এক বছরের ফি বাবদ দশ হাজার এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রতি মেম্বারের কাছ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা নিয়ে থাকি আমরা। প্রায় একশত পার্মানেন্ট মেম্বার আছেন আমাদের।'

ক্রীড়া কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত জিমনেশিয়ামের ভেতরে রয়েছে তিনটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট। সেখানে অনুশীলনে ব্যস্ত শাটলাররা। স্থানীয় একটি ব্যাডমিন্টন একাডেমির ছাত্র তারা। অনুশীলন করছেন টাকার বিনিময়ে। প্রতিদিন চারটি ব্যাডমিন্টন একাডেমির ছাত্র-ছাত্রীরা এখানে প্রশিক্ষন নেন। একাডেমিগুলো হচ্ছে চৌকশ ব্যাডমিন্টন একাডেমি, রোটস ব্যাডমিন্টন একাডেমি, দুলাল ব্যাডমিন্টন একাডেমি ও ব্যাডমিন্টন হাউজ। রাতের বেলায় শহরের উঁচু শ্রেনীর মানুষরা ফ্লাড লাইটের আলোয় ব্যাডমিন্টন খেলে থাকেন। প্রতিটি একাডেমিকেই প্রশিক্ষনের জন্য দিতে হচ্ছে ভাড়া। আর উশুর খেলোয়াড়রা অনুশীলনের জন্য জিমনেশিয়ামের ভেতরে নয়, বরং জায়গা পেয়েছেন বাইরে ঘাসের উপর। মাস শেষে ভাড়া গুনতে না পারার কারনেই উশু জিমনেশিয়ামের বাইরে!

খেলোয়াড়র তৈরির প্রতিষ্ঠানটি কেনো ভাড়া দেয়া হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহম্মেদ সেলিম বলেন, ‘সুইমিংপুল থেকে শুরু করে জিমনেশিয়াম রক্ষনাবেক্ষনের জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। আমাদের এতো ফান্ড নেই। আর সিলেটে পেশাদার সাঁতারুদের অভাব রয়েছে। একটি সুইমিংপুল তাই বিভিন্ন একাডেমির কাছে আমরা ভাড়া দিয়ে রেখেছি। ’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :