রাত ৪:১৩, শনিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / কৌশলে পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল
কৌশলে পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ
অক্টোবর ৮, ২০১৮



কবিরুল ইসলাম, কক্সবাজার থেকে

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ করে ফেলেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এক ম্যাচ জিতেই ছয় জাতির এই টুর্নামেন্টের সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লাল-সবুজের দল। এবার লক্ষ্য ফাইনাল। তবে সে পথ পাড়ি দিতে টপকাতে হবে ‘ফিলিস্তিন’ নামক বিশাল এক হার্ডল। সে দেয়াল ডিঙ্গানোটা বেশ কষ্টসাধ্য। তাই এবার ভিন্ন কৌশলে খেলতে চায় বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে লাওস ও ফিলিপাইনের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক খেলা লাল-সবুজ শিবিরকে শেষ চারের লড়াইয়ে কিছুটা রক্ষনাত্মক ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। র‌্যাংকিং আর শক্তির বিচারে আকাশ-পাতাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির বিরুদ্ধে কাউন্টার অ্যাটাকে খেলে ম্যাচ জিততে চান জেমি ডে’র শিষ্যরা। অন্যদিকে, স্বাগিতকদের বিরুদ্ধে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চায় ফিলিস্তিন।

কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে বুধবার দুপুর আড়াইটায় র‌্যাংকিংয়ের ১০০ নম্বরে থাকা ফিলিস্তিনের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক শিবির। এ ম্যাচটিকে সামনে রেখে আজ সোমবার ম্যাচ ভেন্যুতে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন মামুনুল, ওয়ালী ফয়ছাল, ইব্রাহিমরা। দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এক ঘন্টা কড়া রোদে ঘাম ঝড়িয়েছে টিম বাংলাদেশ। অনুশীলনে দলের সঙ্গে ছিলেন না হেড কোচ জেমি ডে। দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা অনুভব করায় স্থানীয় হাসপাতালে চেকআপ করানো হয়েছে তাকে। অসুস্থতা গুরুতর না হলেও চিকিৎসকরা তার ইসিজি করেছেন। হেড কোচ না আসায় সহকারী কোচের অধীনে অনুশীলন করেছে দল। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের উপর আলাদা নজর দেয়া হয়েছে অনুশীলনে। গোলরক্ষক আশরাফুল রানাকে দেখা গেছে বেশ কসরত করতে। এ দু’টি বিভাগে বেশ জোড় দেয়া হয়েছে অনুশীলনে। ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষণভাগ আগলে রাখাটাকেই এখন বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছে স্বাগতিকরা। প্রতিপক্ষের দীর্ঘ দেহী ফরোয়ার্ডদের আক্রমনগুলো নসাৎ করে দিতে চান তপু বর্মন, টুটুল হোসেন বাদশারা। চলতি এ আসরের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল আক্রমনভাগের দু’জন করে ফটুবলার নিয়ে মাঠে নেমেছিল। বুধবারও এর ব্যতিক্রম হবে না।

অনুশীলন শেষে দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু বলেন, ‘ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে আমাদের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। আজ অনুশীলনে রক্ষণের উপরই বেশী জোর দেয়া হয়েছে। তবে কৌশল কি হবে ম্যাচের দিন, সেটা আগামীকাল অনুশীলন শেষে হেড কোচ জানাবেন।’ ফরমেশন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা কোচের বিষয়। কোন ফরমেশনে খেলবে দল সেটা আগামীকালই হয়তো জানতে পারবে সবাই। আর ফিলিস্তিন আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী একটা দল। কিন্তু ফুটবলটা ৯০ মিনিটের খেলা। বুধবার দুপুরে যারা গোল পাবে তারাই জিতবে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিপক্ষ দলকে থামিয়ে রাখা এবং গোল আদায় করে নেয়া।’

বর্তমান জাতীয় দলে রয়েছেন কক্সবাজারের চার ফুটবলার। এরা হলেন ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলম সবুজ, ইব্রাহিম, ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা ও গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকু। হোম ভেন্যুতে খেলায় আলাদা কোন চাপ থাকবে কী না- এমন প্রশ্নের জবাবে সবুজ বলেন, ‘এটি আমার ঘরের মাঠ। এখানে চাপের কোন বিষয় নয়। বরং এটা আমার জন্য আরো ভালো খেলার প্রেরণা। কারণ নিজের পরিবারের সবাই আসবে মাঠে। আমার লক্ষ্য থাকবে গোল করা। কিন্তু দল যদি জয় পায় আর আমি গোল নাও করতে পারি, তবুও কোন আফসোস থাকবে না।’ দলের আরেক ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম জানান, ‘আমি নিজের মাঠে খেলতে উদগ্রীব হয়ে আছি। যদি একাদশে সুযোগ পাই তাহলে অবশ্যই গোলের চেষ্টা থাকবে। আমার লক্ষ্য জয় নিয়ে ঢাকায় ফেরা।’

এদিকে, ফিলিস্তিনের কোচ আইলাদ আলী নুরুদ্দিনী স্বাগতিকদের সমীহ করে বলেন, ‘তারা বেশ শক্তিশালী। স্ট্রেংথও অনেক ভালো। এখানকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ম্যাচের দিন দল সাজাবো। এবং জয়ের জন্যই মাঠে নামবো। সেভাবেই আমরা প্রস্তুত হয়ে এসেছি।’ অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘মাঠে নামার পর বাংলাদেশের খেলা দেখে আমাদের রণ কৌশল সাজাবো।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :