বিকাল ৫:২৬, রবিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং
/ ফুটবল / কক্সবাজারে ডিএফএ আছে লিগ নেই
কক্সবাজারে ডিএফএ আছে লিগ নেই
অক্টোবর ৯, ২০১৮



কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার (ডিএসএ) সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ)। অন্য জেলায় ডিএসএ-ডিএফএ’র মধ্যে দা-কুমড়ার সম্পর্ক থাকলেও এখানে ব্যতিক্রম। দু’টি পক্ষ মিলেমিশেই বছরব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে থাকে। কিন্তু ফুটবল লিগ চালাতে পারছে না জেলা ফুটবলের সর্বোচ্চ অভিবাবক সংস্থাটি। গত চার বছর ধরেই বন্ধ স্থানীয় ফুটবল লিগ। ডিএফএ’র নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে তিন বছর হতে চলেছে। আরো এক বছর ক্ষমতায় থাকবে তারা। অথচ এখনো পর্যন্ত কোন ফুটবল টুর্নামেন্ট ডিএফএ’র ব্যানারে আয়োজন করতে পারেনি তারা! ডিএফএ’র এমন ব্যর্থতার কারণে জেলা থেকে নতুন করে কোন ফুটবলার উঠে আসছে না।

কক্সবাজারকে বলা হয়ে থাকে ফুটবলার তৈরির হ্যাচারি। স্বাধীনতার পর থেকেই এই পর্যটন নগরী থেকে অনেক ফুটবলারই নাম লিখিয়েছেন জাতীয় দলে। বর্তমানেও লাল-সুবজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন চার ফুটবলার। এরা হলেন, ইব্রাহিম, জনি, সুবজ ও সুশান্ত। এদের পর আর কোন ফুটবলারই উঠে আসতে পারেননি। পাইপ লাইনও বন্ধ। ভবিষ্যতে যে কক্সবজার থেকে ফুটবলার ঢাকার মাত মাতাবে- তারও কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। জেলা লিগ থেকে শুরু করে প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগও মাঠে গড়ায় না। সবশেষ ২০১৪ সালে লিগ আয়োজন করেছিল ডিএফএ। সে লিগে অলস্টার ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। চার বছর ধরে লিগ বন্ধ থাকায় অনেক ক্লাবও বন্ধ হওয়ার পথে। ফুটবলাররাও ছেড়ে দিচ্ছেন খেলা। জীবিকার তাগিদে কেউ ব্যবসা কেউ বা চাকরীর দিকে ঝুকেছেন। ফুটবল মাঠে না থাকায় হতাশ স্থানীয় ফুটবলার ও সংগঠকরা। ডিএএফএ’র সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী, লিগ শুরু করতে না পারার জন্য রাজনৈতিক কারনকে দায়ী করে বলেন, ‘দেশের সার্বিক রাজনৈতিক কারনে লিগ আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। গত মৌসুমে দল-বদল করেও পৌরসভার ইলেকশনের কারনে লিগ করতে পারিনি। তবে আগামী মাসেই লিগ মাঠে নামানোর পরিকল্পনা আছে।’ তবে সহ সভাপতি শাহজাহান আনসারী ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ হয়েছি লিগ মাঠে গড়াতে। নিজেদের সমন্বয়হীনতার কারণে তিন বছর ক্ষমতায় থাকার পরও একটি টুর্নামেন্টও করতে পারিনি। ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছি শুধু। সভাপতির অসহযোগিতার কারণে অনেক সিদ্ধান্তই আমরা নিতে পারছি না।’

ডিএসএ’র সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু বলেন, ‘ডিএফএ’র সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুর মতো। তারা যে কোন কাজেই আমাদের সহযোগিতা পেয়ে থাকে। অথচ কেনো তারা লিগ চালাতে পারছে না সেটা বুঝতে পারছি না। অন্য জেলার ডিএফএগুলো মাঠ সংকটে ভোগে। আর আমরা তাদেরকে মাঠ দিতে প্রস্তুত। ডিএফএ না পারলেও জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে আমরা প্রতিবছরই বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করছি।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :