রাত ৪:১২, শনিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং
/ ফুটবল / অনুশীলন মাঠ নিয়ে শঙ্কা কক্সবাজারে
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল
অনুশীলন মাঠ নিয়ে শঙ্কা কক্সবাজারে
অক্টোবর ৭, ২০১৮



দীর্ঘ আট বছর পর কক্সবাজারে ফিরেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট। ২০১০ সালে প্রথম ও শেষবারের মতো সমুদ্র সৈকত নগরীতে বসেছিল সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ। এরপর আর কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি পর্যটনের শহরে। দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ফেরায় খুশী স্থানীয় আয়োজক থেকে শুরু করে দর্শকরা। তবে আয়োজকদেহর সব অর্জন ম্লান করে দিতে পারে অনুশীলন মাঠের সংকট। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মাঠ ও পুলিশ লাইন মাঠে সেমি ফাইনালিষ্ট চার দলের অনুশীলনের জন্য আবেদন করেছিল জেলা ক্রীড়া সংস্থা (ডিএসএ) ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ)। পুলিশ লাইন মাঠের অনুমতি মিললেও বিজিবি মাঠের অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ লাইন মাঠ নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। সেটা নাকি অনুশীলনের অনুপোযুক্ত! অনুশীলন মাঠের এমন সংকটের কারনে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে কক্সবাজারের সফলতা।

কক্সবাজারে বাংলাদেশ ফুটবল দল

চলতি বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের খেলাগুলো হয়েছে সিলেটে। গ্রুপ পর্ব শেষে সেমি ফাইনালের দু’টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কক্সবাজারস্থ বীরশ্রেষ্ট রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে। মাত্র দুই সপ্তাহের নোটিশে ভেন্যু থেকে শুরু করে আয়োজনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ডিএসএ ও ডিএফএ। আজ রবিবার দুপুরে সেমি ফাইনালিষ্ট চার দল বাংলাদেশ, ফিলিস্তিন, তাজিকিস্তান ও ফিলিপাইন সমুদ্রনগরীতে পৌঁছেছে। আগামীকাল সকালে অনুশীলনের কথা রয়েছে টিমগুলোর। তবে মাঠ সমস্যার কারনে অনুশীলনের সিডিউল মেলানো হিমশিম খেতে হবে আয়োজকদের। এ ব্যাপারে ডিএসএ’র সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু বলেন, ‘আমরা অনুশীলনের জন্য পুলিশ লাইন ও বিজিবি মাঠ চেয়েছিলাম। পুলিশ লাইন মাঠটি ব্যাবহারের অনুমতি পেলেও বিজিবি এখনো আমাদের অনুমোদন দেয়নি। কি কারনে তারা এমনটি করেছে সেটি আমাদের জানা নেই। তবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ নিয়ে যেদিন জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আমরা প্রথম সভা করেছিলাম, সেদিন বিজিবির পক্ষ মৌখিকভাবে ব্যাবহারের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। এটা আসলে দেশের স্বার্থে ব্যাবহারের অনুমতি দেয়া দরকার। এখানে শুধু কক্সবাজারের সম্মান নয়, পুরো দেশের সম্মান জড়িত।’

বাফুফে সদস্য ও জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার বিজন বড়ুয়া বলেন, ‘পুলিশ লাইন মাঠটি সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে আমাদের প্রচুর ঘাম ঝরাতে হয়েছে। বিজিবি মাঠের ব্যপারেও আমরা আশাবাদী। আশাকরি আগমিকাল সকালের মধ্যে এ ব্যাপারে একটা ফয়সালা হয়ে যাবে।’ টুর্নামেন্টের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কক্সবাজারের এ ক্রীড়া সংগঠক বলেন, ‘বাফুফে’র মাধ্যমে কক্সবাজারকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য ভেন্যু কক্সবাজারে ঠিক করেছে। আমরা এই আয়োজন সফল করতে আমরা সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করেছি। গ্যালরী সজ্জিত করণ, খেলোয়াড়দের জন্য ড্রেসিং রুমসহ সব আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ।’ ডিএসএ’র সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু বলেন, ‘মাঠসহ গ্যালারী আমরা নিজেদের অর্থে সংস্কার করেছি। শহরের আশপাশে চলছে প্রচারনা। টিকিট বিক্রির জন্য স্টেডিয়ামের বাইরে বুথ নির্মান করা হয়েছে। ব্যাংকেও পাওয়া যাবে টিকিট।’ তবে বাংলাদেশ-ফিলিস্তিনের মধ্যকার সেমি ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে চিন্তিত তিনি, ‘আমাদের স্টেডিয়ামে দর্শক ধারন ক্ষমতা মাত্র দশ হাজার। সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে আরো দুই হাজার অতিরিক্ত আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু দর্শকদের যে পরিমান আগ্রহ বাংলাদেশ-ফিলিস্তিন ম্যাচ নিয়ে, তা নিয়ে সত্যিই আমি উদ্বিন।’ দীর্ঘ আট বছর পর কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক আসর ফেরায় খুশী ২০১০ সালের সাফ নারী ফুটবল প্রতিযোগিতা কমিটির সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন, ‘অতীতের আর্ন্তজাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারো আমরা সফল ভাবে আয়োজন করার প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে সরকারের আন্তরিকতা থাকলে কক্সবাজার স্টেডিয়ামে কিছু গ্যালারী, ইনডোর স্টেডিয়াম, ফ্লাড লাইট বসালে আরো বৃহৎ আয়োজন করা যেতো।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :