বিকাল ৩:৫০, সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / নেপালের কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায়
সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ
নেপালের কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায়
সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮



নেপালের কাছে হেরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গেল বাংলাদেশ। ২০১১, ২০১৩ ও ২০১৫ সালের পর ২০১৮— টানা চার আসরে গ্রুপেই থামল লাল-সবুজদের দৌড়। তাতে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে উঠলো নেপাল ও পাকিস্তান।

ফুটবলে সবসময় ভালো খেলেও জয় পাওয়া যায় না। ভালো ফুটবল খেলার পর ভাগ্যবিড়ম্বনার অভিজ্ঞতা‌ও হলো স্বাগতিকদের। টানা দুই ম্যাচ জিতে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে থেকেও ভাগ্যবিড়ম্বনায় বাদ পড়তে হলো বাংলাদেশকে।

গ্রুপে নেপাল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল সমান, ৬ পয়েন্ট করে। তিন দলের পয়েন্ট সমান হওয়ায় প্রথমে বিবেচিত হয়েছে মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসেব। এখানে তিন দলই সহাবস্থানে। পরবর্তীতে বিবেচিত হয়েছে গোল-গড়। ওই হিসাবে গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিফাইনালে গেছে নেপাল, তাদের সঙ্গী হয় পাকিস্তান।

সেমিফাইনালের টিকিট পেতে অন্তত এক পয়েন্টই যথেষ্ট ছিলো বাংলাদেশের— ম্যাচের আগে সমীকরণটি এমনই ছিলো। একের অধিক গোল করে ন্যূনতম ব্যবধানে হারলেও অংকের হিসেবে শেষ চারে যাওয়ার সুযোগ ছিলো। এমন ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সমন্বয়ে কিক-অফের পরই চালকের আসনে ছিল স্বাগতিকরা। গ্যালারিতে অবস্থান নেয়া প্রায় ২৫ হাজার দর্শকও দলকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিল।

গোলের পরিষ্কার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারলেও প্রতিপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করেই খেলছিল স্বাগতিকরা। ভুটান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেও দলের খেলা সমর্থকদের তৃপ্তির রসদ দিতে পারেনি। আজ শনিবার গোলরক্ষক সহিদুল আলমের এক ভুল বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। ৩৩ মিনিটে ডান দিক থেকে বিমল ঘারতি মাগারের সেটপিস গ্রিপে নিতে গিয়ে হাত ফসকে বেরিয়ে যায় ঢাকা আবাহনীর হয়ে খেলা এ গোলরক্ষকের। শ্রীলংকার বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচে তার ভুলেই হারে বাংলাদেশ। ১০ দিনের মাথায় আরেকটি শিশুসুলভ ভুল। ওই ভুলটাই সাফ অভিযান শেষ করে দিয়েছে।

২০১১ সালে দিল্লি সাফে এই নেপালের বিপক্ষেই সাগর থাপার সেটপিস থেকে দলকে গোল খাওয়ান সহিদুল। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটের ওই গোল বাংলাদেশের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পথটা চওড়া করে।

অথচ ৪-৩-২-১ ফরমেশনে অনেকদিন পর ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে খেলছিল লাল-সবুজরা। কখনো উইং ধরে, কখনোবা দ্রুত পাস খেলে প্রতিপক্ষের দুর্গে হানা দিচ্ছিল স্বাগতিকরা। তবে গোলের পর ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। সুযোগ নিয়ে গুছিয়ে ওঠে নেপাল। প্রথমার্ধের বাকি সময় আক্রমণভাগের দুই দিকেই বিমলের দৌড়ঝাঁপ বাড়ে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আর কোনো বিপদ হয়নি। ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকেই এ অর্ধ শেষ করে স্বাগতিকরা।

পুরো ম্যাচে নেপালের গোছালো ফুটবল দেখা গেছে গোল হজমের পর প্রথমার্ধের বাকি সময়েই। বিরতির পর বাংলাদেশের গতি আরো বাড়ে। এ সময় ইমন মাহমুদ বাবু মাঠে আসায় মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণও বৃদ্ধি পায়। পুরোপুরি রক্ষণাত্মক খোলসে বন্দি হয়ে যাওয়া নেপালের রক্ষণ ভেদ করে গোলের ভালো সম্ভাবনা অবশ্য তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। নিজেদের দুর্গ আগলে সুযোগ বুঝে পাল্টা আক্রমণে গেছে নেপাল। তেমনই এক আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোল করে বাংলাদেশকে ছিটকে দেয় অতিথিরা। বিশাল রাইয়ের থ্রু-পাস ধরে ডান পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন নবযুগ শ্রেষ্ঠা (২-০)।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :