দুর্দান্ত জয়ে শুরু বাংলাদেশের

দুর্দান্ত জয়ে শুরু বাংলাদেশের

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারিয়ে বড় জয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মাশরাফিদের বিপক্ষে ২৬২ রানের টার্গেটে নেমে মাত্র ১২৪ রানের গুটিয়ে যায় লংকান ইনিংস।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৬২ রান খুব একটা বড় সংগ্রহ নয়। তবে লড়াই চালিয়ে যা‌ওয়ার মতো। কিন্তু দুবাইয়ের ব্যাটিং সহায়ক পিচে সেটা মোটেই সম্ভব নয়। আজ শনিবার টুর্নামেন্ট শুরুর ম্যাচে নাগালের মধ্যে থাকা লক্ষ্যটাকেই পাহাড়সম উচ্চতায় নিয়ে যান বাংলাদেশের বোলাররা।

টাইগারদের নিখুঁত বোলিংয়ে লঙ্কানদের ইনিংস থেমে যায় ৩৫.২ ওভারে। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নিয়ে লংকান শিবিরে ধ্বস নামান। একটি করে উইকেট তুলে নেন রুবেল হোসেন, সাকিব আল হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলরুয়ান পেরেরা সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন। উপুল থারাঙ্গার ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান।

আগে টস জিতে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে সওয়ার হয়ে আড়াইশ পেরোনো পুঁজি পায় বাংলাদেশ। মুশফিকের ১৪৪, মোহাম্মদ মিঠুনের ৬৩ ও শেষটায় তামিম ইকবালের স্পোর্টসম্যানশিপের অনন্য নজিরের পর বোলাররা হয়ে ওঠেন আগ্রাসী।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচ আর দশটা ম্যাচের মতো নয়। টানা ম্যাচ খেলায় সম্প্রতি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাঘ-সিংহের লড়াইটি। এবার বড় মঞ্চে লঙ্কানদের বিপক্ষে বড় জয় এশিয়া কাপে নিজেদের অন্যতম ফেভারিটের বার্তাই দিয়ে রাখল মাশরাফীবাহিনী।

তামিম ইকবাল শুরুতে আঙুলে চোট পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফেরেন। আবার ২২ গজে নেমে ব্যাটিং করার অবস্থায় ছিলেন না তিনি। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি দেখে নেমে যান সেঞ্চুরি করা মুশফিককে সঙ্গ দিতে। আর তাতে শেষ উইকেটে যোগ হয় ৩২ রান।

মরুর বুকে বাংলাদেশের শুরুটাও ভালো ছিল না। শুরুতেই লিটন দাস ও সাকিব আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন রানের খাতা না খুলেই। তামিম ইকবাল আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে বিপদ আরও বাড়ে। বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। তাতে মেলে লড়াকু সংগ্রহের ভিত।

২২৯ রানে ৯ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হয়ে তামিম শেষ জুটিতে না নামলে ওখানেই থামতো ইনিংস। ঝুঁকি নিয়ে এ ওপেনার শেষে নামায় যোগ হয় আরও ৩২ রান। তাতেই বাংলাদেশ পায় ২৬১ রানের লড়াকু পুঁজি।

১৪৪ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে মুশফিক দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন আউট হন তখন বাকি ইনিংসের ৩ বল। ৪৯.৩ ওভারে থামে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ মিঠুনের (৬৩) সঙ্গে মুশফিকের তৃতীয় উইকেটে ১৩২ রানের জুটি, আর শেষটায় মুশফিকের মারমুখী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পায় লড়াকু সংগ্রহ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD