সকাল ১০:৩০, বৃহস্পতিবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / তামিমের দুরন্ত সাহস
তামিমের দুরন্ত সাহস
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮



একটা দল জয়ের জন্য যে কতোটা মরিয়া হতে পারে, এশিয়া কাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের ‌ওপেনার তামিমকে দেখলেই বুঝা যায়। সেই সঙ্গে বুঝা যায়, দলের প্রতি খেলোয়াড়দের ভালোবাসা এবং অন্তরের এক অদৃশ্য টান। যা দেখা যায়না-দেখানো‌ও যায়না, শুধু অনুভব করা যায়। দলীয় ২২৯ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমান আউট হওয়ার পর ক্রিকেটবোদ্ধারা নেমে পড়েছিলেন ইনিংস কাঁটাছেঁড়ার কাজে। বাঁহাতের কব্জিতে মারাত্মক চোট নিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট তামিম ইকবাল মাঠ ছেড়েছিলেন ম্যাচের শুরুতেই। ইনিংস চলাকালেই জানা যায়, ম্যাচে তো বটেই, পুরো আসরেই আর খেলা হবে না বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনারের।

অথচ সবাইকে অবাক করে দিয়ে অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিতে একহাতে ব্যাট ধরে ক্রিজের দিকে এগোতে থাকলেন তামিম। বিস্ময়ে ঘোর লাগা চোখে তাকালেন কেউ কেউ। যে তামিম এশিয়া কাপ থেকেই ছিটকে গেছেন, তিনি কী করে নামছেন ব্যাট করতে! কী সাহস তার!

৪৭তম ওভারের শেষ বলটা মোকাবেলা করতে হল তামিমকেই। সুরাঙ্গা লাকমলের নিখাদ ডেলিভারিকে আটকালেন একহাতে ধরা ব্যাটে। তামিমের এই জাদুকরি গুণ আর অদম্য মানসিকতায় যেন আরও সাহস পেলেন সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম। পরের ১৫ বল একাই খেলে গেলেন তামিমকে রানারের ভূমিকায় রেখে। সেই ১৫ বলে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ৩২ রান।

প্লাস্টার করা হাতটাকে কোনোমতে গ্লাভসে আটকে তামিমের মাঠে নামা, কিংবা একজন পেসারের ছোঁড়া বল অন্য হাতে ধরা ব্যাট ঠুকে মোকাবেলা করার মানসিকতা মুগ্ধ করেছে সবাইকে।

শনিবার শুরু হওয়া এশিয়া কাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ। দলীয় ৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর লাকমলেরই করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলটি লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে হাতে চোট পান তামিম। যার ফলে তাৎক্ষনিক মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

ব্যথার পরিমাণ বেশি থাকায় চোটের ধরন জানতে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। যে চোটের কারণে তামিমকে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে, সেই চোট নিয়েই অভিন্ন ইনিংসে ব্যাট করতে নামা মুগ্ধ করেছে তামিমের ভক্ত থেকে নিন্দুক- সবাইকে। তামিম আর মুশফিক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ইনিংসের অন্তিম মুহূর্তে ৩২ রান এনে দেন।

তামিমের আগে এমন ‘ঘটনা ঘটিয়েছিলেন’ দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনি টেস্টে হারের মুখে থাকা দলকে বাঁচাতে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন স্মিথ। তখনও শেষদিনের খেলার বাকি ছিল ৮.২ ওভার। ভাঙা একটি হাত নিয়ে স্মিথ সেদিন দলকে জেতাতে না পারলেও জয় করে নিয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমিদের হৃদয়। তবে তামিমের এই খেলোয়াড়ি মানসিকতা ক্রিকেটপ্রেমিদের হৃদয় জয় তো করলোই, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশী বোলারদের কল্যাণে জয়ই দিয়েই এবারের এশিয়া কাপ মিশন শুরু করলো লাল-সবুজের দল।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :