সকাল ১০:২৫, বৃহস্পতিবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশীপ বাছাইপর্ব
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮



শক্তিশালী ভিয়েতনামকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশীপের বাছাই পর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে বাংলার কিশোরীরা। আজ রবিবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ মহিদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে, প্রতিপক্ষকে কোন পাত্তাই দেননি মারিয়া, আঁখি, তহুরারা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপাত্য ধরে রেখে ম্যাচ জিতে নেয় তারা। চার ম্যাচে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বাংলার কিশোরীদের। প্রতিপক্ষের জালে ২৭ বার বল পাঠানোর বিপরীতে একটি গোলও হজম করতে হয়নি গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যদের। অন্যদিকে, ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ ভিয়েতনাম। আগামী বছর ২৩ ফেব্রুয়ারী থেকে থাইল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় রাউন্ড খেলতে যাবে বাংলাদেশ।

বল মাঠে গড়ানোর পর থেকেই ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক খেলতে শুরু করে টিম বাংলাদেশ। ম্যাচের ৫ মিনিটেই লিড নেয়ার সুযোগও এসেছিল। কিন্তু রিতুর আড়াআড়ি শটটি সাইডবার ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে সে যাত্রা বেচে যায় ভিয়েতনাম। একের পর এক আক্রমন করে ভিয়েতনামকে কোনঠাঁসা করে ফেলেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু গোলের দেখা পাওয়া হচ্ছিল না। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে অবশ্য প্রতিপক্ষ দলটির শক্ত প্রাচীরে চিড় ধরিয়েছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। কিন্তু শামসুন্নাহার জুনিয়রের দেয়া সেই গোলটি অফ সাইড কল করে বাতিল করে দেন অস্ট্রেলিয়ান রেফারি ক্যাথরিন।

খানিক সময়ের জন্য হতাশার কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিল লাল-সবুজ শিবির। সেই মেঘ দূর করতে বেশী সময় নেননি মারিয়া-আঁখিরা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোল করে সবাইকে উৎসবে মাতিয়ে তোলেন তহুরা খাতুন। ভিয়েতনামের গোলরক্ষক থি ওয়ান তহুরা নেওয়া শটটি গ্রীপে নিতে ব্যর্থ হলে সামনে দাঁড়ানো শামসুন্নাহার জুনিয়র সামনের দিকে ঠেলে দেন বল। দৌড়ে এসে তহুরা খাতুন নিঁচু হেডে বল জালে জড়ান। উৎসবে মেতে উঠে মাঠে ছুঁটে আসা হাজার তিনেক সমর্থক (১-০)।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমনের সেই ধারা অব্যাহত রাখে রাখে স্বাগতিকরা। তহুরার হাত ধরে গোলও পেয়ে গিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। কিন্তু এবারো অফসাইড কল করে গোল বাতিল করে দেন রেফারি ক্যাথরিন। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন প্রতিবাদও জানান। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। গোল বাতিলের পর যেনো আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে মারিয়া মান্ডার দল। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চূরমার করে দিয়ে ম্যাচের ৬৩ মিনিটে স্কোর লাইন ২-০তে নিয়ে যান আঁখি খাতুন। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বল শামসুন্নাহার জুনিয়র শট নিলে সাইডবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে আঁখি শট নিলে প্রথম গোল গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলে আবারো জোড়ালো শটে নিশানা ভেদ করেন বাংলাদেশ দলের এ ডিফেন্ডার (২-০)।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে আরো একবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছিলেন তহুরা খাতুন। এবারো গোলটিও বাতিল হয়ে যায় অফ সাইডের কারনে।

একে একে তিনটি গোল অফ সাইড কল করে বাতিল করায় হতাশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, ‘একটি গোলও অফ সাইড ছিল না। আর এগুলো নিয়ে কোন অভিযোগ দিলে কাজ হয় না। গত সাত-আট বছরে আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। অভিযোগ দিলে এএফসি বলে রেফারিরা সঠিক সিদ্ধান্তই নেন। তাই এসব বিষয়ে কোন অভিযোগ দিতে চাই না।’

শিষ্যদের পারফর্ম্যান্সে সন্তুষ্ঠ কোচ বলেন, ‘মেয়েরা অনেক কষ্ট করেছে। শুরু থেকেই আজ এটাকিং ছিল। ভিয়েতনামকে এক মুহুর্তের জন্যও সুযোগ দেয়নি আমার দল। আমি দলের পারফর্ম্যান্সে খুব খুশী।’

দু’টি গোল বাতিল করলেও হতাশ নন স্কোরার তহুরা খাতুন, ‘আমার গোল বাতিল করেছে তাতে মোটেও খারাপ লাগছে না। কারন দল জিতেছে।’ দলের আরেক গোলদাতা আঁখি খাতুন বলেন, ‘দলের এমন জয়ে আনন্দটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। খুব ভালো লাগছে গোল করতে পারায়।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :