বিকাল ৪:১৩, শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
/ অলিম্পিক (বিওএ) / উশুতে চলছে দলাদলি
উশুতে চলছে দলাদলি
সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮



নানা ইস্যুতে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মার্শল আর্টের অন্যতম ইভেন্ট উশু অ্যাসোসিয়েশেন। ২০১০ সালে দেশের মাটিতে উশুতে দুটি স্বর্ণ সহ বেশকযেকটি পদক এলেও এরপর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেমন সাফল্য নেই। খেলার উন্নতির চেয়ে কর্মকর্তারা ব্যস্ত দলাদলিতে। খেলা নিয়ে ভাবার সময় যেন কারো মধ্যে নেই। এবার ডুয়ান কোর্স পরিচালিনা নিয়ে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমগীর ভুইয়ার বিপক্ষে অভিযোগে করেছেন অংশগ্রহনকারীরা।

গত ৩০ আগষ্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডুয়ান কোর্সে অংশ নেয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয় উশু অ্যাসোসিয়েশনে। তবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে কোর্সটি শেষ করা হয় মাত্র দু’দিনেই। যদিও এর জন্য ৮২ জনের কাছ থেকে দু’হাজার টাকা করে নেন কর্মকর্তারা। চীনের দু’কোচ দিয়ে কোর্সের অনুশীলন করানোর কথা বললেও শেষ পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক নিজেই কোর্স পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোর্সে অংশ নেয়া বিকেএসপির উশু কোচ সালমান এল রহমান জানান, ‘এবারের ডুয়ান কোর্সে অনেক কিছুই ঘটেছে। প্রথমে আমাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, চীনের কোচ দিয়ে ডুয়ান ট্রেনিং কোর্স করানো হবে। যেখানে নয়টি ডুয়ান কোর্স থাকে। বাংলাদেশে এর আগে কখনো এই কোর্স হয়নি। চীনের থাউলু কোচ চেন জিয়াং এবং সান্দা কোচ মাউ নুংসুয়ানের মাধ্যমে কোর্স করানোর কথা বলা হয়েছিল। এই দু’জনেই ফাইট ও সান্দায় অভিজ্ঞ। সেজন্য প্রথমে ২০০০ টাকা করে নিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন। পরবর্তীতে আবার বেল্টের জন্য টাকা চেয়েছিল। প্রথম ডুয়ান থেকে শুরু করে অষ্টম ডুয়ান পর্যন্ত যথাক্রমে ১০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ দিতে করতে বলা হয়। কোর্সের জন্য থাকা খাওয়া অ্যাসোসিয়েশন দেবে বলেছিল। কিন্তু থাকার ব্যবস্থা করলেও নিজেদের খরচাতেই খেতে হয়েছে।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ছাত্রদেরকে সার্টিফিকেট দেয়া হবে না, তা আগেই বলা হয়েছিল। তাই অধিকাংশ কোচেরা আবেদন করেন। অথচ জুনিয়র অনেকের কাছ থেকেই বেল্ট ও সার্টিফিকেটের জন্য ১০০ থেকে ৮০০ টাকা নিয়েছেন তারা। সবচেয়ে বড় কথা হলো থাউলু ও আর্টে বিশেষজ্ঞ বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু সান্দাতে তিনি কখনো খেলেননি। উনার কোনো সার্টিফিকেটও নেই। আন্তর্জাতিকভাবে তিনি আর্টে পাশও করেননি। অথচ চীনের কোচদের বসিয়ে রেখে তিনি কিভাবে সান্দার পরীক্ষা নেন তা বোধগম্য নয়। উপরন্তু চীনের কোচদের দিয়ে সার্টিফিকেটে সই করিয়ে নিয়েছেন। পরে নিজেদের মতো করে গ্রেড দিয়েছে পছন্দের প্রশিক্ষণার্থীদের। বিকেএসপির এ কোচ বলেন, বাংলাদেশের চীনা দূতাবাস ১২ লাখ টাকা দিয়েছে খেলা পরিচালনা করতে এবং ডুয়ান কোর্সের সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য। তাহলে কেন আমাদের কাছ থেকে এত টাকা নেয়া হল। কেনইবা চারদিনের জায়গায় দু’দিন কোর্স করানো হলো তা বুঝতে পারছি না। তাছাড়া কেনইবা অনুশীলন করাতে আসা চীনের কোচদের সই করে আমাদের সার্টিফিকেট দেয়া হল তাও বুঝিনা। ডুয়ান কোর্সের নামে এটা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই হয়নি।

উশুর খেলোযাড় ও কমৃকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ডুয়ান কোর্সের নামে প্রহসন করায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে। ফলে বিষয়টি নিয়ে খুব শিগগিরই এক সভায় বসবেন উশু অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছে সাবেক সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিষোদাগারেও জড়িয়ে পড়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। বিষয়টি নিয়ে উশু অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. আবদুস সোবহান গোলাপের কাছে চার পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্রও দিয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু।

অভিযোগের ব্যাপারে মোবাইল ফোনে শাহ আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, ‘তাদের সব কথা সত্যি নয়। কোর্স ফি নেয়া হয়েছে। ডুয়ানের সার্টিফিকেটের জন্যও অর্থ নেয়া হয়েছে। তবে তাদের খাওয়া দেয়ার কথা বলা হয়নি। তাছাড়া মাঝে-মধ্যে চীনের কোচরাও কোর্স করিয়েছেন। এছাড়া যারা সার্টিফিকেট নিতে চায়নি তারা নেয়নি। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :