সন্ধ্যা ৭:০৭, বৃহস্পতিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং
/ এশিয়ান গেমস / হতাশায় গেমস শেষ বাংলাদেশের
এশিয়ান গেমস ২০১৮
হতাশায় গেমস শেষ বাংলাদেশের
আগস্ট ২৮, ২০১৮



কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ন গেমসের গত কয়েকটি আসর থেকে পদক নিয়েই দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে কাবাডিতে পদক ছিল নিশ্চিত। কিন্তু এবার শুধুই হতাশা। একরাশ দু:খ নিয়ে শূণ্য হাতেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেয়া লাল-সবুজের পতাকাবাহিরা কোন ইভেন্টেই আশাব্যঞ্জক সাফল্য পায়নি। উল্টো ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতে ছিল লজ্জাজনক পারফর্ম্যান্স।

ট্র্যাকে কিংবা কোর্টে, সব জায়গাতেই অ্যাথলেটরা ছিলেন বিবর্ণ। পারফরমেন্স মোটেই ছিল না আশা জাগানিয়া। শুধু লজ্জাতেই ফেলেছে দেশকে। বিশেষ করে সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, শ্যূটিং, ভারোত্তোলন, গলফ, রেসলিং ও রোয়িংয়ের শুরুতেই বাদ পড়েন অ্যাথলেটরা। চূড়ান্ত পর্বে লড়াইয়ে যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেননি। তবে, পদক না পেলেও এবার জাকার্তায় এসে নিজেদের উন্নতির গ্রাফটা ঠিকই প্রমান হয়েছে ফুটবল, হকি আর আরচ্যারিতে। আর সম্ভাবনাময় ইভেন্ট কাবাডিতে (মহিলা) গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়ে নিজেদের জাতীয় খেলার অবস্থা যে কোথায় গিয়ে ঠেঁকেছে, সেটাই প্রমান করেছেন মালেকারা।

চলতি এ আসরের ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেয় লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক এবং কর্মকর্তা মিলে বাংলাদেশ ক্রীড়া দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৪৪ জন। বিশাল এ বহর নিয়ে বেশ কয়েক ধাপে জাকার্তায় এসেছিল তারা। অথচ গেমস শেষ হওয়ার আগেই অধিকাংশ ক্রীড়াবিদ ফিরেছেন দেশে।

ইন্দোনেশিয়ায় এখন হকি দল ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কর্মকর্তারা ছাড়া আর কেউ নেই। হকি ইভেন্টেও পদকের কোন সম্ভাবনা নেই। জেগে আছে শুধু স্থান নির্ধারনী ম্যাচ জয়ের আশা। সেটাও পঞ্চম কিংবা ৬ষ্ঠ স্থানের জন্য। ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ একটি পদকও দেশে নিয়ে ফিরতে পারেনি। এটা যে কতোটা লজ্জা আর কষ্টের, সেটা হয়তো অনুধাবন করতে পারেননি বিওএ কর্মকর্তারা।

কাবাডি ইভেন্টে প্রতিবারই একটা পদক জেতে বাংলাদেশ। আগের আসরগুলোতে নিদেনপক্ষে একটি ব্রোঞ্জ এলেও এবার একেবারেই শূণ্য হাতে ফিরতে হয়েছে। তিন খেলার সব ক’টিতে হেরে বিদায় নিয়েছে চার বছর আগের ব্রোঞ্জ জয়ীরা। অন্যদিকে পুরুষ কাবাডি দল কিছুটা সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। সাঁতার থেকে পদকের স্বপ্ন না দেখলেও নিজেদের উন্নতিটা প্রমান করবেন মাহফিজুর রহমান সাগর ও খাদিজা আক্তার বৃষ্টি, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু হিটেই বাদ পড়েছেন দেশসেরা এই দুই সাঁতারু। সাগরতো ২০০ মিটারে পুলেই নামেননি অনুশীলন করতে না পারার দোহাই দিয়ে।

শ্যূটিং রেঞ্জেও গ্রাস করেছিল হতাশা। দেশসেরা শ্যূটারররা ইন্দোনেশিয়া এসে পদক জয়তো দূরের কথা, নিজেদের সেরাটাও দিতে ব্যর্থ হন। আবদুল্লাহেল বাকী, রিসালাতুল ইসলাম, উম্মে জাকিয়া সুলতানা, শারমিন আক্তার রত্নারা হতাশ করেছেন পালেম্বাংয়ের কাজাবারিং শ্যূটিং কমপ্লেক্সে।

এবারের গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্চপাষ্টে লাল-সবুজের পতাকা ছিল যে অ্যাথলেটের কাঁধে, সেই মাবিয়ার পারফর্ম্যান্স‌ই সবচেয়ে বাজে। নিজেকে ছাড়িয়ে যেতেও পারেননি তিনি। দেশসেরা এ ভারোত্তোলক ব্যর্থ হন স্ন্যাচ আর ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ইভেন্টে। বার বার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সামর্থ্যরে অধিক ভার তুলতে ব্যর্থ হন গোহাটি এসএ গেমসে সোনা জেতা এই তারকা ভারোত্তোলক।

বাস্কেটবলের অবস্থা ছিল আরো করুণ। টানা দুই ম্যাচে হেরেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের। কুস্তির শুরুতেই শেষ হয়ে যায় লাল-সবুজদের স্বপ্ন। মোহাম্মদ আলী আমজাদ ও শরৎ চন্দ্র রায়ের পর প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেন শিরিন সুলতানা। বিচ ভলিবলে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে যায় লাল-সবুজরা। ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডের লড়াইয়ে নামার পর প্রমানিত হয়েছে বাংলাদেশী অ্যাথলেটরা যে দিনদিন কতোটা পিছিয়ে পড়ছে। আবু তালেব ও সুমি আক্তাররা হিটেই বাদ পড়েছেন অ্যাথলেটিক্স থেকে। তাদের পারফর্ম্যান্স ছিল আরো হতাশার।

তবে এতো হতাশার মধ্যেও আশা জাগিয়েছে ফুটবল, হকি ও আরচ্যারি ইভেন্ট। পদক না আসলেও এ তিন ইভেন্টে যে বাংলাদেশ আগের চেয়ে উন্নতি করেছে সেটা প্রমান হয়েছে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :