সকাল ৮:৩৮, শুক্রবার, ২২শে মার্চ, ২০১৯ ইং
/ এশিয়ান গেমস / ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত হকিতে
এশিয়ান গেমস ২০১৮
ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত হকিতে
আগস্ট ২৬, ২০১৮



কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমস হকি ইভেন্টে ষষ্ঠ কিংবা পঞ্চম হওয়ার লক্ষ নিয়েই ইন্দোনেশিয়া এসেছিল বাংলাদেশ দল। আজ রবিবার থাইল্যান্ডকে পরাস্ত করার মধ্য দিয়ে সে টার্গেট পূরণ হয়েছে লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলার দামাল ছেলেরা। আর পঞ্চম স্থানের জন্য লড়াইয়ে নামবে ১ সেপ্টেম্বর। একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ওই ম্যাচে হারলেও ষষ্ঠ স্থানটি নিশ্চিতই থাকবে গোবিনাথনের শিষ্যদের।

এ জয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের আগামী আসরের বাছাইপর্ব খেলতে হবে না লাল-সবুজদের। প্রায় বিশ বছর পর আসা সুযোগটি দারুনভাবে কাজে লাগিয়েছেন জিমি-চয়নরা।

জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে ৩-১ গোলের জয় পায় ফরহাদ আহম্মেদ শিটুলবাহিনী। বাংলাদেশের হয়ে আশরাফুল জোড়া গোল করেন। অপর গোলটি আসে মিলন হোসেনের ষ্টিক থেকে। থাইল্যান্ডের হয়ে হারাপান সান্ত্বনাসূচক একমাত্র গোলটি করেন।

এশিয়ান গেমসে ১৯৭৮ সালে প্রথম অংশ নিয়েই ষষ্ঠ হয়েছিল বাংলাদেশ হকি। এরপর আর উপরের দিকে আসা হয়নি। দিনদিন অবনমনই হয়েছে হকিতে। সবশেষ দু’টি আসরে (২০১০ ও ২০১৪ সালে) অষ্টম হয়েই দেশে ফিরতে হয়েছিল। দীর্ঘ ৪০ বছর পর ছয়ের দেখা পেল আশরাফুল-জিমি-চয়নরা।

এটি চয়নের শেষ এশিয়ান গেমস বিধায় দিনটিকে স্মৃতির পাতায়ই রাখতে চাইলেন চয়ন, ‘চারটি এশিয়ান গেমসে খেলছি। আগের তিনটিতে কোন সাফল্য নেই। তাই এটিকে আমার জীবনের সেরা গেমস বললে অত্যুক্তি হবে না। এটি আমার একার কৃতিত্ব নয়। দলীয় সাফল্য। আমি দলের একটা অংশ। সকলেরই চেষ্টা ছিল ম্যাচ জয়ের। ২০ বছর পর এমন সুযোগ কেউ নষ্ট করতে চাইনি বলে জান প্রান বাজি রেখে খেলেছি।’

ম্যাচে দু’গোল করা উদীয়মান পিসি মাস্টার আশরাফুল জানান, ‘আমাদের চেয়ে থাইল্যান্ড অনেক বেশি উন্নতি করেছে। যে থাইল্যান্ডকে বলে কয়ে হারাতাম আমরা, সেই দলটির বিপক্ষে প্রথম ত্রিশ মিনিট গোলশুন্য ছিলাম। কিছুটা হতাশা তৈরি হলেও আমরা মানসিকভাবে জেতার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। দলের জয়ে সকলেই খুশি। আগ থেকেই আমাদের বোঝাপড়া ছিল।’

নিজেদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই কোয়ার্টারে কোনো গোলের দেখাই পায়নি বাংলাদেশ। অবশেষে তৃতীয় কোয়ার্টারে আসে সফলতা। গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচের ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ শিবিরে হাসি ফুঁটিয়ে তুলেন আশরাফুল। প্রথম পিসিটাই কাজে লাগান এ পিসি মাস্টার। জিমি-সারোয়ার কম্বিনেশনে আশরাফুরের দারুণ ড্রাগ অ্যান্ড ফ্লিকে গোলের দেখা পায় লাল-সবুজরা (১-০)।

ঠিক ছয় মিনিট পরেই গোলের গ্রাফটা আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে প্র্রশান্তি নিয়ে আসেন সেই আশরাফুল। একই কম্বিেিনশনে দ্বিতীয় পিসি থেকে গোল করে থাইল্যান্ডকে চাপের মুখে ফেলে দেন তরুন এ ফরোয়ার্ড (২-০)।

শেষ কোয়ার্টারের ৩ মিনিটে একটি গোল শোধ দেন থাইল্যান্ডের হারাপান বুরিরাক (২-১)। ৫৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আশরাফুল- মিমোর আদান প্রদানে বল পেয়ে যান মিলন হোসেন। থাইল্যান্ডের গোলকীপার শুয়ে পড়ে ঠেকানোর চেষ্টা করে‌ও ব্যর্থ হন (৩-১)। এরপর আর কোন গোল না হলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে গোবিনাথনের শিষ্যরা।

ম্যাচ শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর গেলা কোচ গোবিনাথান বলেন, ‘থাইল্যান্ড যে এত উন্নতী করেছে তা বুঝতে পারিনি। ছেলেরা জয় পেয়েছে তাতে আমি খুশি। কিন্ত মাঠের খেলায় সন্তষ্ট হতে পারিনি। মুলত বাংলাদেশের ’দরকার দীর্ঘ মেয়াদে প্রশিক্ষন। তোমাদের প্রতিভা আছে বিকশিত হতে সময়ের প্রয়োজন।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :