সন্ধ্যা ৭:০৬, বৃহস্পতিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং
/ এশিয়ান গেমস / ব্যর্থতার দায় একে অন্যের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা
এশিয়ান গেমস ২০১৮
ব্যর্থতার দায় একে অন্যের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা
আগস্ট ৩০, ২০১৮



কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমস থেকে এবার শূণ্য হাতেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৪টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে একটি ইভেন্টেও কোন পদকের দেখা পায়নি লাল-সবুজরা। প্রত্যাশার ইভেন্ট মহিলা কাবাডি, শ্যূটিং ও গলফ জুড়ে ছিল শুধুই হতাশা। প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এছাড়া ভারোত্তোলন, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্সের মতো ইভেন্টগুলো থেকে হিটে বাদ পড়ে লজ্জায় মুখ লুকিয়েছেন অ্যাথলেটরা। এমন হতাশাজনক পারফর্ম্যান্সের পর অংশগ্রহনকারীরা দোষারোপ করছেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিবাবক অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ)। আর অলিম্পিক দোষারোপ করছে অ্যাথলেটদের। উভয় পক্ষের এ দোষারোপের মধ্যেই শেষ হয় বাংলাদেশের এবারের এশিয়ান গেমস মিশন। কিন্তু ব্যর্থতার মূল কারন উদঘাটনে কারোই যেনো কোন ভূমিকা নেই। ভুলটা আসলে কোথায়? সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন না কেউ। 

আমাদের পাশের দেশ ভারত যখন একের পর এক স্বর্ণ পদক জিতে উৎসবে মাতছে, তখন আমাদের হিসেবের খাতায় প্রাপ্তি একেবারেই শূণ্য। অতিথি হয়েই থাকতে হয়েছে গেমসে। পদক তালিকায় এবারো শীর্ষে আছে চীন। এরইমধ্যে ১০৬ ডিসিপ্লিনের স্বর্ণ পদক জয় করেছে তারা (আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত)। গত আসরের মতো এবারো তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার সিঁড়িতে এক কদম এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপানের সংগ্রহ ৫৩টি স্বর্ণসহ ১৬৩টি পদক। দক্ষিণ কোরিয়া ৩৭টি ডিসিপ্লিনে সেরা হয়ে তিন নম্বরে রয়েছে। আর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ৩০টি স্বর্ণ পদক নিয়ে তালিকার চার নম্বরে আছে।

আমাদের পাশের দেশ ভারত ১১টি স্বর্ণসহ ৫৪টি পদক জিতে নিয়ে সেরা দশে অবস্থান করছে। ইন্দোনেশিয়ার মতো গরীব একটি রাষ্ট্র যদি একের পর এক স্বর্ণ পদক জিততে পারে তাহলে আমরা কেনো পারিনা? পিছিয়ে থাকতে হবে কেনো বাংলাদেশের? ভারত যদি দিন দিন উন্নতি করতে পারে তাহলে আমরা কেনো পারিনা? এমন প্রশ্ন আসলে সবার মনেই। উত্তর নেই কারো কাছে, শুধু প্রশ্নের পাহাড়। আসলেই কি উত্তর নেই? না কি জেনেও আমরা হাঁটছি ভুল পথে?

এবারের আসরে আসার অন্তত সাত মাস আগেই বিওএ অ্যাথলেটদের অনুশীলন শুরু করার কথা জানিয়েছিল। কয়েকটি ইভেন্টে তারা জোড় দিয়ে ক্যাম্প শুরুও করেছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটে মাঝ পথেই ক্যাম্প বন্ধ হয়ে যায়। ক্যাম্প নিয়ে এমন ধোঁয়াশার কারনে মনোকষ্ট ছিল অংশগ্রহনকারীদের মধ্যেও। সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর নিজের ক্ষোভ সামলাতে না পেরে বলেছিলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া আসার মাত্র এক মাস আগে ক্যাম্প শুরু করেছিলাম। যেটা মোটেও পর্যাপ্ত ছিল না আমার জন্য। আরো বেশী করে অনুশীলনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিওএ সেটা করেনি। ভেবেছিলাম এবার সাত-আট মাস সময় পাচ্ছি। ভালো কিছু করতে পারবো। কিন্তু না, বিওএ’র উদাসীনতার কারনে তা আর হয়নি।’

ক্ষোভ ছিল এসএ গেমসের ভারেত্তোলন ইভেন্টে স্বর্ণজয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্ত’র কণ্ঠেও। চলতি এ আসরের মার্চপাষ্টে বাংলাদেশের পতাকা বহনকারী এ অ্যাথলেট জানান, ‘বিওএ আমার অনুশীলনের ব্যবস্থাই করেনি। যতোটুকু করেছি নিজের চেষ্টাতেই করেছি। বিওএ যদি অনুশীলনের ব্যবস্থা করতো, তাহলে আরো ভালো কিছু করতে পারতাম।’ আসলে কতোটুকু ভালো বা উন্নতি করতেন সাঁতারু সাগর কিংবা মাবিয়ারা, সেটা পরের বিষয়। তার আগে বিওএ’র উচিত ছিল আগে থেকেই ক্যাম্প শুরু করা এবং ইভেন্ট ধরে উন্নতির চেষ্টা করা।

তবে অ্যাথলেটদের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ ডেপুটি সেফ দ্যান মিশন একে সরকার, ‘এখানে এককভাবে বিওএ’র দোষ দিলে চলবে না। অ্যাথলেটরও নিজ উদ্যেগে ভালো করার মানসিকতা থাকতে হবে। তারা শুধু অংশগ্রহন করার জন্যই আসে। দেশকে কিছু দেয়ার চিন্তা তাদের মাথায় কাজ করে না। আমাদের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনিভাবে অ্যাথলেটদেরও দায়িত্ব নিয়ে অংশগ্রহন করা উচিত।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :