বিকাল ৪:১২, শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
/ এশিয়ান গেমস / ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ
এশিয়ান গেমস ২০১৮
ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ
আগস্ট ২০, ২০১৮



প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেলো বাংলাদেশ। শক্তিশালী কাতারের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের অবিশ্বাস্য এক জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে জেমি ডে’র শিষ্যরা। ম্যাচের ৯০ মিনিট ছিল গোল শূণ্য ড্র। অতিরিক্ত দু’মিনিটের খেলা চলছিল তখন। দু’দলই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল পয়েন্ট ভাগ করে মাঠ ছাড়ার। ঠিক ঐ মুহুর্তেই সব হিসেব-নিকেষ পাল্টে দেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। ডান পায়ের মাটি কামড়ানো দারুণ এক শটে কাতারের জালে বল প্রবেশ করান। উল্লাসে মেতে উঠে বাংলাদেশ শিবির। এমন একটি জয় যে কতোটা দরকার ছিল, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ঝিমিয়ে পড়া ফুটবলে আবারো সুদিনের বাতাস লাগবে এ জয়ে।

দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলতে হলে কাতারের বিরুদ্ধে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না। কারন গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ গোলে হার ও থাইল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলের ড্র’র কারণে ঝুলিতে ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। এমন সমীকরনের ম্যাচে জালে উঠে বাংলার দামাল ছেলেরা। অতীত রেকর্ড আর ফিফা র‌্যাকিংকে দু’পায়ে মাড়িয়ে বিশাল এক যুদ্ধে জয় ছিঁনিয়ে আনেন জামাল-সুফিলরা। এ জয় অনেক বড় এক ঘটনা দেশের ফুটবলের জন্য।

সন্ধ্যা সাতটায় জাকার্তার প্যাট্রিয়ট স্টেডিয়ামে কাতারের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। আগের চারবারের মুখোমুখিতে তিনবারই হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। একটি মাত্র ম্যাচে ড্র পেয়েছিল। সেটাও ১৯৭৯ সালে। অতীত রেকর্ডের সঙ্গে ফিফা র‌্যাংকিংও ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির পক্ষে। র‌্যাংকিংয়ে তাদের ৯৮ নম্বরে। আর বাংলাদেশ রয়েছে ১৯৪ তম স্থানে। দু’দলের শক্তির ফারাকটা এখানেই প্রমানীত। কিন্তু জীবন-মরন লড়াইয়ে যেনো অন্য এক বাংলাদেশকে দেখা যায়।

শুরু থেকেই কাতারের উপর চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করে জেমি ডে’র শিষ্যরা। ম্যাচের ৮ মিনিটেই প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বাঁদিক থেকে নেয়া সুফিলের জোড়ালো শট খুঁজে পায়নি জালের ঠিকানা। অল্পের জন্য সাইডবার ঘেঁষে বল বাইরে চলে যায়। আক্রমনাতœক ফুটবলের কৌশল নিয়ে মাঠে নামা লাল-সবুজ শিবির ৯মিনিট বাদেই গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করে। ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে যান সুফিল। কাতারের গোলরক্ষক মারওয়ান বাদরিলদিনকে ওয়ান বাই ওয়ান পজিশনে পেয়েও নিশানা ভেদ করতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষককে ডস দিতে পারলেই নিশ্চিত গোল পেয়ে যেতো বাংলাদেশ। কিন্তু সরাসরি বল তুলে দেন গোলরক্ষকের হাতে।

আক্রমন ও রক্ষণবাগের সঙ্গে গতকাল গোলরক্ষক আশরাফুল রানাও ছিলেন উজ্জ্বল। তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গেই কাতারের তিনটি আক্রমন প্রতিহত করে দরকে বিপদমুক্ত করেছেন। ৩৮ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভিত আরো একবার নাড়িয়ে দিয়েছিলেন জেমি ডে’র শিষ্যরা। জামাল ভূঁইয়ার কর্ণার কিকে বক্সের ভেতর থেকে হেড নেন তপু বর্মন। কাতারের গোলরক্ষক মারওয়ান বাদরিলদিন বুকে জড়িয়ে নিলে হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে। প্রথমার্ধে দূর্দান্ত খেলা লাল-সবুজরা দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আক্রমনের ধার ধরে রেখেছিল। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে কাতারের তিন ফুটবলারকে ডস দিয়ে ডানদিক থেকে বক্সে প্রবেশ করেও নিজের ভুলে গোলের মুখ দেখা হয়নি বিপুলের। তিনি ফাঁকায় দাঁড়ানো সুফিলকে পাস দিলেই নিশ্চিত গোল হয়ে যেতো। কিন্তু নিজে গোলের ট্রাই করতে গিয়ে সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে বল তুলে দেন এ মিডফিল্ডার।

ম্যাচের মূল সময় শেষে যখন অতিরিক্ত সময়ে খেলা মাঠে গড়ায়। অতিরিক্ত দুই মিনিটের খেলাও শেষের পথে। রেফারি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শেষ বাঁশী বাজানোর। ঠিক ঐ মুহুর্তে গোলরক্ষক আশরাফুল রানার থ্রু থেকে মাশুক মিয়া জনির দেয়া পাসে বল পেয়ে জামাল ভূঁইয়া কাতারের দু’ই ডিফেন্ডার কাটিয়ে প্রবেশ করেন ডি বক্সে। সেখান থেকে ডান পায়ের জোড়ালো এক শটে বল জড়ান জালে (১-০)। উৎসবে মেতে উঠে লাল-সবুজ শিবির। কাতারের বিরুদ্ধে দারুণ এ জয়ে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেলো টিম বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক হারে যখন বিধ্বস্ত বাংলাদেশ দল। দলটি নিয়ে যখন স্বপ্ন দেখতেও ভয় পান সমর্থকরা। ঠিক ঐ সময়টাতে পাওয়া এমন জয় সত্যিই নতুন করে ভাবতে শেখাবে সবাই।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :