বিকাল ৩:০০, শনিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৮ ইং
/ ফিফা ওয়াল্ড কাপ ২০১৮ / শেষ হাসি কার ইংল্যান্ড নাকি ক্রোয়েশিয়ার
বিশ্বকাপ ফুটবল
শেষ হাসি কার ইংল্যান্ড নাকি ক্রোয়েশিয়ার
জুলাই ১০, ২০১৮



ফারদিন আল সাজু

বিশ্বকাপ শুরুর আগে টপ ফেভারিটদের তালিকায় থাকা দলগুলো বাদ পড়েছে একের পর এক। স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়েই ঘরে ফিরতে হয়েছে। বিশ্ব ফুটবল আসর শুরুর আগে যে চার তারকাদের নিয়ে আলোচনা ছিলো- মেসি-নেইমার-রোনালদো-সালাহ্ রা এখন শুধুই দর্শক। তাতে কিন্তু বিশ্বকাপের উম্মাদনা মোটেই কমেনি। এবারে আসরের প্রতিটি ম্যাচই জমজমট। কারন এই আসরে প্রত্যেকটি দলই একে অন্যকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। তাইতো দর্শকরা অধীর আগ্রহ নিয়ে মস্কোর লুজানিকি স্টেডিয়াম অপেক্ষা করছে সেই রকম এক উত্তেজানপর্ন্য ম্যাচ দেখার জন্য। যেখানে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে আগামীকাল বুধবার রাত ১২টায় মুখোমুুখি হবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া।

 

সাম্প্রতিক পারফ্যামেন্স ১৯৯৮ সালে স্বাধীন দেশ হিসাবে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই দুনিয়াকে চমকে দিয়েছেলো ক্রোয়েশিয়া। আবির্ভাবেই সেমিফাইনালে উঠে সবাইকে হতবাক করে দেয় তারা। জার্মানির কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিলো। তবে সেই ভুল আর করেনি ক্রোয়াটরা। স্বাগতিক রাশিয়াকে পেনান্টি শুট আউটে ৪-৩ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারে মতো সেমিফাইনালে উঠে ক্রোয়েশিয়া। তাদের প্রতিপক্ষ ১৯৬৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। জলাতকো দালিচের এই দল ইতোমধ্যে প্রমান করেছে, এবারে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল তারা। দারুন মিডফিল্ড, আক্রামণভাগ ও জমাট ডিফেন্স নিয়ে এই দলটি যে বড় বড় নামে ভয় পায়না, তার প্রমান রেখেছে তারা। প্রথম পর্বে আর্জেন্টিনাকে দিয়েছে সাপের ছোঁবোল। তবে দ্বিতীয় পর্বে তারা আবার ডেনমার্ককে গুটিয়ে দেয়। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক দেশ রাশিয়ার। সেই উত্তেজনাপূর্ন্য ম্যাচে স্বাগতিকদের মাঠে স্বাগতিকদের হারিয়ে সেমিফাইনাল খেলা নিশ্চিত করে ক্রোয়েশিয়ানরা।

তবে কোয়র্টার-ফাইনালে রাশিয়া বিপক্ষে জয়ের জন্য তাদের পেনান্টি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ক্রোয়েশিয়া দলটির খেলোয়াড়রা মনে করছেন, তারা প্রমান করেছন, তারা আরো বড় কিছুর যোগ্য। সেই বড় কিছুর পথেই তারা ছুটতে চান বলেছিলেন ডিফেন্ডার দোমাগোজ ভিদা। তিনি বলেন 'আমরা এই বিশ্বকাপে বড় কিছু আশা দেখছি, আমাদের আরও বড় কিছু স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। আমরা আসলেই ভালো খেলছি। আমাদের এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, যাদের কল্যাণে আমরা অবশ্যই শেষ পর্যন্ত যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারি।'

এ তো গেলো ক্রোয়েশিয়নদের কথা আসি ইংল্যান্ড প্রসঙ্গে, এবার আসরে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দল গড়েছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে তারা টিকে আছে তারা বীর-দাপটে। প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তারা যেভাবে খেলে এসেছে তাতেই অনেকের ধারণা এবারে আসরে সোনালী ট্রাফিটি তাদেরই প্রাপ্য। গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছিলো তারা। প্রথম রাউন্ডে ৬ পয়েন্ট নিযে ‘জি' গ্রুপের রানার্সআপ হিসাবে নকআউট পর্বে পা রাখে ইংল্যান্ড। রাউন্ড অফ সিক্সটিনে কলম্বিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত আর অতিরিক্ত সময়ে খেলা ১-১ গোলে অমিমাংসিত থাকায় টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয় পায় ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপীয় জায়েন্ট সুইডেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমি ফাইনালের টিকেট পায় ইংল্যান্ড।

মূল তারকা:

মধ্য মাঠে বর্তমান সময়ের সেরা তারকা লুকা মড্রিচ ক্রোয়েশিয়ার প্রাণ ভোমরা। তবে ইভান রকিটিচও কম যান না। দারুন ছন্দে আছে তিনি। এছাড়া মারিও মানজুকিচও ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। গোলরক্ষক সুবাসিচও শেষ ষোলোর ম্যাচে তিনটি পেনান্টি ফিরিয়ে নজর কেড়েছেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দলের প্রাণের ভোমরা হ্যারিকেন। এখন পর্যন্ত ৬ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে। করেছেন হ্যাটট্রিক। এছাড়াও ইংল্যান্ড দলের মূল শক্তি তাদের টিম কম্বিনেশন।

হেড টু হেড:

এর আগে ৭ বার মুখোমুখি হয়েছিলো এই দুই দল। ইংল্যান্ড জিতেছিলো ৪ টিতে ড্র হয়েছিলো ১টি ম্যাচে এবং ক্রোয়েশিয়া জয় পেয়েছিলো ২ টিতে। ইংল্যান্ডের বড় জয়: ২০০৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ক্রোয়েশিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিলো। অন্যাদিকে ক্রোয়েশিয়ার বড় সাফল্য: ২০০৭ সালে ৩-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিলো।

ইতিহাস বিবেচনায় এগিয়ে থাকবে ইংল্যান্ড, কিন্তু সাম্প্রতিক ফর্ম অনুযায়ী ক্রোয়েশিয়াও ছেড়ে কথা বলবেনা। প্রতিটি ম্যাচেই একের পর এক চমক দেখিয়েই যচ্ছে তারা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :