সন্ধ্যা ৬:২৮, সোমবার, ২২শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং
/ ফিফা ওয়াল্ড কাপ ২০১৮ / আর্জেন্টিনার বিদায় কোয়ার্টারে ফ্রান্স
আর্জেন্টিনার বিদায় কোয়ার্টারে ফ্রান্স
জুলাই ১, ২০১৮



সাত গোলের ক্ল্যাসিক ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেলো ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ‘লা ব্লু’দের জয়ে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচ সেরা এমবাপে করেন দুই গোল। আর এতে ২০০২ সালের পর আবারও কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

অগোছালো মাঝমাঠ আর ভঙ্গুর রক্ষণের কারণে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হলো আর্জেন্টিনাকে। আর সেই সুযোগে রাশিয়ার কাজানে ফরাশি বিপ্লবে নেতৃত্ব দিলেন, এমবাপে। তাতে বিশ্বকাপ শিরোপা অধরা মাধুরীই হয়ে রইলো পাঁচবারের বিশ্বসেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির কাছে।

অবশ্য আর্জেন্টিনার পরাজয়ের চিত্রটা আরো করুণ, আরো অপমানের। তাদের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগে ঝড়ের গতিতে একের পর এক করে ফ্রান্স। তাতে ১৩ মিনিটে স্পটকিকে ‘লা ব্লু’দের এগিয়ে দেন আতোয়ান গ্রিজম্যান।

গ্রিজম্যানের গোল করা ম্যাচে ফ্রান্স কখনও হারেনি, এই রেকর্ড যে মিথে পরিণত হবে সেটা তখনও বুঝা যায়নি। তবে ফ্রান্সের লং পাস এবং এমবাপের গতির কাছে পিছিয়ে পড়তে থাকে আর্জেন্টিনা। তবে ২৮ মিনিটে আর্জেন্টিনার আক্রমণ ফেরাতে উমিতি হাত দিয়ে বল ঠেকালেও এড়িয়ে যান, ইরানের রেফারি।
অবশেষে ৪১ মিনিটে ডি বক্সের উপর থেকে ডি মারিয়া বাম পায়ের দূরন্ত এক শটে ম্যাচে ১-১ গোলে সমতা ফেরান।

বিরতি থেকে ফিরেই ব্যবধান বাড়ায় আর্জেন্টিনা। বানেগার ফ্রিকিকে মেসির প্রচেষ্টা মার্কাদোর পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ২-১-এ লিড পায় আলবিসেলেস্তেরা।

তবে এই লিডও বেশিক্ষণ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি আর্জেন্টিনার। রক্ষণের ভুলে ম্যাচে সমতা ফেরান বেঞ্জামিন পাভার্ড।

পরে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেন এমবাপে। ৬৪ থেকে ৬৮ চার মিনিটে দুই গোল করে, কিশোর খেলোয়াড় হিসেবে বিশ^কাপের এক ম্যাচে ১৯৫৮ সালে গড়া ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি পেলের রেকর্ডে ভাগ বসান কিলিয়ান এমবাপে।

ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া মেসির দল কয়েকবার ফ্রান্সের সীমানায় আক্রমণও চালায়। শেষে ইনজুরি টাইমে মেসির ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে দারুণ এক গোলও করেন বদলি খেলোয়াড় অ্যাগুয়েরো। কিন্তু ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাতে ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজয়ের প্রতিশোধও নিলো ফ্রান্স।

আর বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে আসা পাঁচবারের বিশ্বসেরা খেলোয়াড় মেসি ট্র্যাজিক হিরো হিসেবেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :