রাত ১২:৩৭, বৃহস্পতিবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং
/ বিশ্বকাপ ফুটবল / টিম টু ওয়াচ: আর্জেন্টিনা
টিম টু ওয়াচ: আর্জেন্টিনা
জুন ২, ২০১৮



বিশ্বকাপ ফুটবল আসর শুরু হতে খুব একটা বেশি দেরী নেই। দলগুলো নিজেদের প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করেছ। বেশিরভাগ দলই বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে। যারা এখন‌ও করেনি আগামী ৪ জুনের মধ্যে তারা‌ও চূড়ান্ত করে ফেলবে দল। বিশ্বকাপের দলগুলোর কথা জানাচ্ছেন, ফারদিন আল সাজু। আজ রয়েছে, আর্জেন্টিনার কথা।

বিশ্বকাপে বরাবরই হট ফেভারিট আর্জেন্টিনা। শিরোপা জয়ে ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা ইটালির থেকে পিছেয়ে থাকলেও ধারাবাহিক সাফল্যের মাপকাঠিতে আর্জেন্টিনা সেরাদের সেরা। দলটি এখন পর্যন্ত পাঁচবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে। কিন্তু ট্রফি জিতেছে মাত্র দুইবার (১৯৭৮,১৯৮৬)। এই রেকর্ড সত্যিই আর্জেন্টিনা দলের সাথে বেমানান। ১৯৯০ সালে জার্মানির সাথে বিতর্কিত এক পেনল্টিতে পরাজিত হয় লা-আলবিলেস্তেরা। সবশেষ ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে আবার‌ও সেই জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ের গোলে পরাজিত হয়ে তৃতীয় শিরোপা হাতছাড়া করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

এছাড়াও তাদের চারবার (১৯৬৬,১৯৯৮,২০০৬,২০১০) কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার অভিঞ্জতা আছে। কোপা আমেরিকায় তার ১৪ টি শিরোপা জিতে সুনাম কুড়িয়েছে অনেক। ফ্রান্স ছাড়া জাতীয় দলগুলোর মধ্যে অর্জেন্টিনা একমাত্র দল যেখানে ফিফা স্বীকৃত শীর্ষস্থানীয় তিনটি শিরোপা জিতেছে। ২০০৭ সালে আর্জেন্টিনা প্রথমবারে মত ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ উঠে আসে।

ফুটবলপ্রেমীরা আর্জেন্টিনা বলতেই পাগল। তাদের টিম ওয়ার্ক এবং প্রতিটি পজিশনের জন্য রায়েছে ওয়ার্ল্ড ক্লাস প্লেয়ার। তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাসের দূরন্ত শটগুলো যে কত ভয়ংকর তা ইতোমধ্যে সবাই দেখেছে। টিম স্পিরিটে পরিপূর্ন দলটি সবসময় প্রতিপক্ষের কাছে হুমকি। কাউন্টার অ্যাটকে তারা খুবই বিপদজনক। যেকোন মুহূর্তে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে পারেন দলের ফরোয়ার্ডরা। তাইতো টিভির সামনে বসে তাদের প্রশংসা করতে ভোলেন না আর্জেন্টিনার সমর্থকরা।

তবে সবশেষ বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা ১৯৮৬ সালে। কিংবদন্তি ম্যারাডোনার জাদুতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কেটে গেছে ৩২ বছর। তাই এবার শিরোপা পূনরুদ্ধারে জন্য অভিঞ্জদের নিয়ে ২৩ সদস্যর চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন কোচ হোর্হে সাম্পাওলি। তবে চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি চলতি মৌসুমে ৩৪ ম্যাচে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ২৯ গোল করা ইন্টার মিলানের অধিনায়ক মাউরো ইকার্দির। এছাড়া আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্য দু:সংবাদ বয়ে এনেছে সেরা গোলরক্ষক সের্হিও রোমেরো ইনজুরি। যে কারনে এবারে বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না তার। তবে এবারে আসরে নিজেদের ফেবারেট মানছেন সাম্পাওলি। কারণ তার আস্থার জায়গা সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। মেসিই যে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় এই নিয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে আক্রমনের মূল দায়িত্বে থাকবেন বার্সার এ্ই স্ট্রাইকার। বাছাই পর্বে ধুঁকতে থাকা আর্জেন্টিাকে একাই তুলেছেন বিশ্বকাপে। গতি, ড্রিবলিং, ডিফেন্সে-নিখুঁত পাস, দুর পাল্লার শট, গোল স্কোরিং ক্ষমতা, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষমতা, প্লে মেকিং অ্যাববিলিট কি নেই তার মধ্যে?তাই তো আকাশি-সাদা সমর্থকরা মোসির কাধে চেপেরই এবার বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখছে।

লিওনেল মেসি হলেন আর্জেন্টিনা দলের তালিসমান। অসাধারন ফুটবল শৈলি প্রদর্শন করে ইতোমধ্যেই সেরাদের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন ৩০ বছরের এই স্টাইকার। যেকোন প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের এক নাম মেসি। মেসি ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে পাঁচবার ফিফা ব্যালন ডি অর’ পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়া প্রথম খেলোয়াড় হিসাবে তিনি তিনবার ইউরোপিয়ান সোনার বুট জিতেছেন। বার্সেলানার হয়ে মেসি সাতটি লা-লিগা, দুটি কোপা দেল রে, পাঁচটি স্প্যনিশ সুপার কোপা, চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ান্স লিগ, দুটি উয়েফা সুপার কাপ এবং দুটি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেন। মেসি প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে চারবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা‌ও হন। ২০১২ সালে চ্যাম্পিয়ান্স লিগে বেয়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে পাঁচ গোল করে ইতিহাস গড়েন। এতো গেল লিগ পর্বের কথা, জাতীয় দলের জার্সি গয়ে মেসি আরে ভয়ংকর। অনেকের মতে, মেসি শুধু লিগে গোল করে, জাতীয় দলে সে একদম বেমানান। কথাটি সর্ম্পূন্য ভুল। সবশেষ ৬ ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে দুটি হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার হাইতির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার মধ্য দিয়ে জাতীয় দলে মেসির গোল হলো ৬৪ টি। গোলের হিসেবে লাতিন আমেরিকায় জাতীয় দলের হয়ে তার চেয়ে এগিয়ে একমাত্র পেলে (৭৭)। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে এবং টানা চার ম্যাচে সেরার পুরস্কার‌ও জেতেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের সহায়তা না পেয়ে হারতে হয় ফাইনালে। এছাড়া কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে হরে গিয়ে অবসরে ঘোষণা দেন। পরে ভক্তদের অনুরোধে আবার ফিরে‌ও আসেন আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে। এতো অর্জনের মধ্যে একটি আক্ষেপ থেকে যায় এই সেরা স্ট্রাইকারের। অবসরে আগে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে চান তিনি। তাই এবার মেসির সাথে আক্রামনভাগে যোগ্য সঙ্গিদের বেছে নিয়েছেন সাম্পাওলি। সাম্পাওলির নতুন আবিস্কার ক্রিশ্চিয়ান পাভুন। মেসির সাথে তার দারুন বোঝাপড়া। মেসি যদি ইঞ্জিন হয় আর পাভুন হলেন তৈল। তৈল ছাড়া ইঞ্জিন চলেনা। মেসি নির্ভরতা কমাতে আক্রমণভাগে রাখা হয়েছে পাওলো দিবালা, গঞ্জালো হিগুয়েন এবং অভিঞ্জ অ্যাগুয়েরাকে। আর মিডফিল্ডর দায়িত্বে থাকবে ম্যানুয়েল লানজিনি, ডি মারিয়া, ক্রিশ্চিয়ান পাভুন, জিওভনি লো সেলসো, এভার বানেগা, লুকাস বিগলিয়া, ম্যাক্সিমিলিয়ানো মেজা। ডিফেন্সে মূল ভরসা ক্রিশ্চিয়ান আনসালদি, গ্যাব্রিয়েল মার্কাদো, নিকোলাস ওটামেন্ডি, জাভিয়ারা মাশ্চেরানো, ফেড্রিকো ফাজিও, মার্কোস রোহো, মার্কোস আকুনা ‌ও নিকোলাস তাগালিয়াফিকো।

”ডি” গ্রুপে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আইসল্যান্ড, নাইজেরিয়া এবং কোস্টারিকা। আগামী ১৬ জুন আইসল্যান্ডর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা মিশনে নামব আর্জেন্টিনা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :