রাত ১০:২৫, মঙ্গলবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / সফল যারা কেমন তারা
সফল যারা কেমন তারা
এপ্রিল ১০, ২০১৮

সফলতার গল্প মানুষকে স্বপ্ন দেখায়। বিখ্যাত সফল মানুষরাই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে শুরুতে দুর্গম পথ পাড়ি দেন। পরবর্তীতে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছান। ফলে ঐ কষ্ট, পরিশ্রমের গল্প শুনলে সাধারণের উৎসাহ জাগে এবং আমরা অনুপ্রেরণা পাই। ফুটবলের কিংবদন্তি পেলে, ম্যারাডোনা, রোনাল্ডো এ তিনজনের নাম শোনেন নি পৃথিবীতে এমন কাউকে খুজে পা‌ওয়া ভার। কিন্তু আপনারা কি জানেন, ছোটবেলা থেকেই বস্তিতে বড় হয়েছে তাদের। এদের ছোটবেলা কেটেছে ছেঁড়া জামা-কাপড় পরে। রোনাল্ডোর বাবা-মা এতই গরীব ছিলেন যে, তার জন্মের পর নাম রেজিস্ট্রি করতে দু’দিন দেরি হয়। এছাড়াও শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেট দলের সুপারস্টার জয়সুরিয়ার বাবা ছিলেন একজন জেলে। আজকে সব সফল খেলোয়াড়দের কথা পরিশ্রম আর কষ্ট জয়ের কথা জানাচ্ছেন, ফারদিন আল সাজু

ডেল স্টেইন দক্ষিণ আফ্রিকার ডানহাতি পেসার। ২২ গজে তার আগুণে বোলিং দৃষ্টিনন্দন। তার ছোটবেলা কেটেছে আনেক কষ্টে। অনেক গরীব পরিবারে জম্ম হ‌ওয়ায়, একটা সময় গেছে যখন খেলার জন্য জুতা ছিলোনা। ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসের ঘটনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষের অভিষেক ম্যাচ শেষে, এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, 'ম্যাচ শুরুর আগে আমার কাছে মাঠে নামার জন্য কোন নতুন জুতা ছিলোনা। ক্যারিয়ারের অভিষেক ম্যাচ আমি পুরানো জুতা ‍পড়েই খেলেছিলাম।' পোর্ট অফ এলিজাবেথের ওই ম্যাচে ডেল স্টেইন তিন (২+১) উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন সেই ডেল স্টেইন বিভিন্ন জুতোর বিজ্ঞাপন করে থাকেন।

ডেভিড ওয়ার্নার

ডেভিড অ্যান্ড্রু ওয়ার্নার, নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশের প্যাডিংটনে জম্মগ্রহন করেন। খুবই দ্রুত রান সংগ্রহকারী বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। অথচ ছেলেবেলায় ডেভিড ওয়ার্নার পরিবারের সাথে মাত্র একটি রুমে বসবাস করতেন। তবে ক্রিকেট খেলার প্রতি আগ্রহ ছিলো প্রবল। ওয়ার্নার ক্রিকেট খেলার খরচ বহন করার জন্য একটি দোকানে কাজ করতেন। রাতে কাজ করতেন এবং দিনে খেলা চালিয়ে যেতেন ‌ওয়ার্নার। ১৮ জানুয়ারি ২০০৯ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেকের পর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বল ট্যাম্পারিংয়ের কারণে দল থেকে বাদ পড়ার আগে এই অজি ‌ওপেনারের মোট সম্পদের পরিমান ছিল ১২ মিলিয়ন ডলার।

শোয়েব আখতার

শোয়েব আখতার পাকিস্তানের সাবেক ডানহাতি ফাস্ট বোলার। যাকে ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার মনে করা হয়। তিনি দ্রুত গতির ডেলিভারির জন্য অফিসিয়ালি বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। জানা গিয়েছে যে, শোয়েব আখতার ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট পাগল ছিলেন। শুধু তাই নয় টাকার অভাবে তিনি প্রতিদিন এক ঘন্টা হেঁটে স্টেডিয়াম যেতেন। এক সাক্ষাতকারে শোয়েব জানান যে, একটি ম্যাচের ট্রায়ালে যোগ দেবার জন্য লাহোর যা‌ওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তখন তার কাছে কোন টাকা ছিলোনা। বিনা টিকেটে ভ্রমন করেন তিনি। কন্ডাক্টর তাকে ধরে ফেলে। পরে শোয়েবের অনুনয়-বিনয়ে কন্ডক্টর তাকে বাসের ছাদে বসিয়ে দেন। লাহর পৌঁছানোর পর শোয়েব একরাত রাস্তায়‌ও কাটিয়েছিলন।

সকালে ম্যাচ ট্রায়ালের শুরুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ট্রায়ালে শোয়েব আখতার নির্বাচিত হন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :