ভোর ৫:১৪, বুধবার, ১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / রাগবি ঘিরে প্রাণের মেলা
রাগবি ঘিরে প্রাণের মেলা
এপ্রিল ৮, ২০১৮

কবিরুল ইসলাম, হংকং থেকে

হংকংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা কোনটি? এমন প্রশ্ন করলে উত্তর খুঁজে পাওয়াটা আসলেই মুশকিল। কারণ এই প্রশ্নটা গত কয়েকদিনে যে ক'জনকেই করা হয়েছে, সবাই ছিলেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। কেউ বলেছে রাগবি, কেউবা আবার বাস্কেটবল। কেউ বা আবার ফুটবলকেও নিয়ে এসেছেন সামনে। তবে যে যাই বলুক না কেন, রাগবি যে এই হংকংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা সেটা বুঝতে বাকী নেই। হংকং রাগবি সেভেন টুর্নামেন্টকে ঘিরে যে উৎসব শুরু হয়েছে চীন সরকারের কাছ থেকে লিজ নেয়া দেশটিতে, তা বলাই বাহুল্য।

আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে এখানে শুরু হয়েছে উৎসব। প্রাণের মেলা শুরু হয়েছে পুরো তাই পু শহরে। খেলাটি যে কতোটা জনপ্রিয় এখানে সেটা প্রকাশ হয়েছে কচি-কাচা থেকে শুরু করে বুড়োদের মিলন মেলা দেখে। দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেট্রো রেল আর প্রাইভেট কারে করে সকাল থেকেই সমর্থকরা আসতে শুরু করেন হংকং স্টেডিয়ামে। পরিবারের সব চেয়ে কম বয়সী মানুষটিও বাদ যান না। কোলে চড়ে‌ও হাজির হয় স্টেডিয়ামে। যেন দলকে সমর্থন জানানোর চেয়ে বড় কথা স্টেডিয়ামে নিজেদের উপস্থিতি। সবার সাথে একই সুরে সুর মেলানো। গগন বিদারী চিৎকারে আনন্দ প্রকাশ করাটাই যেন রীতি এখানকার সমর্থকদের। আর হাতে থাকতে হবে বিয়ারের বড় বড় গ্লাস। তাদের এমন উৎসব দেখেই অনুমান করা যায় রাগবির জনপ্রিয়তা, এখানে আকাশসম।

ব্রিটিশ শাসনামলে রাগবির চর্চা শুরু হংকংয়ে। খেলাটির উন্নতির জন্য দিনকে দিন এখানকার কর্মকর্তারা নিরলস চেষ্টা করে গেছেন। সেই চেষ্টার ফলই আজ ভোগ করছেন খেলোয়াড়রা। এখানে ছোট-বড় অনেক রাগবি ক্লাব আছে। যে ক্লাবগুলোর আছে নিজস্ব মাঠ‌ও। স্কুল পর্যায় থেকে রাগবির উপর প্রশিক্ষন নিতে শুরু করে তারা। পড়াশোনার পাশাপাশি রাগবিটাই যেন বড় শিক্ষার বিষয় এখানকার মানুষের কাছে। দুই দিনের এ আসরকে ঘিরে হংকংয়ের তাই পু শহরটি উৎসবের নগরীতে পরিতে পরিনত হয়। সকাল ১০টা থেকে খেলা শুরু হয়। আর শেষ সন্ধ্যা ৬টায়। মাঝে বিরতি এক ঘন্টার। দর্শকরা নিজ নিজ দলকে সমর্থন জানাতে বিশালাকৃতির দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে নানা রংয়ে নিজেদের রাঙিয়ে গ্যালারিতে হাজির হন। হাতে কোনো বাঁশী কিংবা ভুভুজেলা দেখা যায় না। গলা ফাটিয়ে আনন্দ করেন। বিয়ারের ঝাঝে সুর তুলেন গলায়।

দর্শকদের এমন উন্মাদনা আনন্দ দেয় খেলোয়াড়দেরও। ম্যাচ শেষ হলেই অটোগ্রাফ শিকারিদের খপ্পরে পড়তে হয় তাদের। কোনো প্রকার বিরক্তিছাড়াই ভক্তদের সেলফোন ক্যামেরায় সেলফিবন্দি হচ্ছেন। রাগবির আন্তর্জাতিক এ আসরকে ঘিরে এখানে বসেছে তারার মেলা। বিশ্ব রাগবির তাবৎ তারকা খেলোয়াড়রা ভিড় জমিয়েছেন হংকংয়ের ছোট এ শহরটিতে। বর্তমান তারকা থেকে শুরু করে আছেন সাবেকরাও। বিশ্ব ক্রিকেটের সুপার স্টার, অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কও এখন হংকংয়ে। উদ্দেশ্য এই রাগবি সেভেন দেখা। শুধু দেখাই নয়, রাগবি নিয়ে কাজও করছেন ষ্টিভ ওয়াহ। গতকাল শনিবার সকালে অলিম্পিক ভবনে আয়োজিত রাগবি সেভেনের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন তিনি। রাগবির প্রচারনা করাই এখন তার লক্ষ্য। অস্ট্রেলিয়ান সাবেক এই সফল অধিনায়কের মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ইভেন্টের সফল খেলোয়াড়রা এখন রাগবির প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন।

যদিওবা এখানকার মানুষজনের কাছে ষ্টিভ ওয়াহর কোনো মূল্যই নেই। কারন তারা ক্রিকেট সম্পর্ক এ কোনো খোজ খবরই রাখে না। তাদের ধ্যান-ধারনা শুধু রাগবিকেই ঘিরে। চ্যাং তা লুই নামের ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধ খেলা দেখতে হাজির হয়েছিলেন চেহেরা ও হাতে দলীয় পতাকার রং মেখে। হাতে তার বিয়ারের বিশালাকৃতির গ্লাস। পাশের শহরে বসবাস করা চ্যাং তা লুই জানান, 'রাগবি সেভেন শুরুর এক মাস আগ থেকেই দিন গননা শুরু করেছিলাম। এটা আসলে সত্যিই অনেক আনন্দের উপলক্ষ্য। আমরা এই আসরটির জন্য অধীর আগ্রহে থাকি। এটা আমাদের মিলন মেলাও বলতে পারেন। এই শহরে আমার তিনজন বন্ধু আছেন। ওরাও আসবে। অনেক দিন পর একসাথে আড্ডা দেবো, খেলা দেখবো আর উৎসব করবো। জয়-পরাজয়ের চেয়ে আনন্দটাই বড়।' বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলকে পেছনে ফেলে কিভাবে রাগবি এক নম্বরে উঠে এসেছে, তা একমাত্র হংকংয়ের রাগবি ইতিহাস পড়লেই জানা সম্ভব। আসলেই আরও কিছু সম্ভব নিজেদের ইচ্ছে শক্তির উপর।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :