রাত ৪:১১, বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / গৌরবদীপ্ত জয় বাংলাদেশের
ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফি
গৌরবদীপ্ত জয় বাংলাদেশের
মার্চ ১১, ২০১৮



ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে রান তাড়ার ইতিহাস গড়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শনিবার ছুটির দিনে প্রেমাদাসার বাদ্য-বাজনা আর উৎসব থামিয়ে বাংলাদেশ জিতেছে ৫ উইকেটে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ রান তাড়া করা জয়। অথচ এরআগে দুশ’ রান‌ও করতে পারেনি বাংলাদেশ।

মুশফিকুর রহিম একেকটা বাউন্ডারি মারেন আর পীনপতন নীরবতা নেমে আসে ৩০ হাজার দর্শকে ঠাসা প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। ডিস্ক জকি তাঁর সংগীতায়োজন বন্ধ রাখেন সাময়িক। নৈঃশব্দও যে এতটা উপভোগ্য হয়, প্রেমাদাসায় না এলে বোঝা যেত না! সেটা অবশ্য বাংলাদেশিদের জন্যই।

প্রেমাদাসায় শেষদিকে জয়ের সমীকরণটা ছিল ৩ বলে ১ রান। ভ্যাট হাতে ছিলেন মুশফিকই। এবার আর কোনো ভুল হয়নি, মুশফিক শাপমোচন করলেন ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, বেঙ্গালুরুর সেই ম্যাচের। তারপর, সর্প নৃত্যে জয় উদযাপন।

অবশ্য ২১৫ রানে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন দুই ‌ওপেনার তামিম ইকবাল ‌ও লিটন দাস, ৭৪ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে। তামিম ৪৭ আর লিটন ৪৩ রানে সাজঘরে ফেরেন।

তৃতীয় উইকেটে সৌম্য সরকারকে নিয়ে মুশফিক‌ও চমৎকার এক জুটি গড়ে তোলেন। ৫১ রানের জুটি ভাঙে ২২ বলে ২৪ রান করা সৌম্যের বিদায়ে। দলের রান তখন ১৫১।

এরপর পুরোটাই ইতিহাস। কখনো মাহমুদুল্লাহ (১১ বলে ২০রান), কখনো সাব্বির রহমান (২ বলে ০ রান) আবার কখনো মেহেমদী হাসান মিরাজ (এক বলে ০* রান) অপরপ্রান্ত থেকে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছেন মুশফিকের চমৎকার ইনিংসটি। তার এক-একটা চার কিংবা ছক্কার মারে নিশ্চুপ হতে থাকে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দর্শকদের আনন্দ-কোলাহল।

৩৫ বলে ম্যাচ জেতানো ৭২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মুশফিক। জয়সূচক রানটা করে মুশফিক হয়ে গেলেন ‘নাগিন’। টাইগারদের জয়োল্লাস তখন লংকান আকাশ-বাতাস পেরিয়ে ধ্বনিত হয় বাংলাদেশের শহরে-বন্দরে। অবশ্য এরআগে কখনোই ১৬৪ রানের বেশি তাড়া করে জেতেনি বাংলাদেশ।

এরআগে প্রথমে ব্যাট করে কুশল পেরেরার ৭৪ আর কুশল মেন্ডিসের ৫৭ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ২১৪ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান ৪৮ রানে নেন ৩ উইকেট। আর ১৫ রানে ২ উইকেট তুলে নেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :