ক্রিকেট বিশ্বের আলোড়িত কান্না

ক্রিকেট বিশ্বের আলোড়িত কান্না

কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিনে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি করে ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার এবং ক্যামেরন ব্যানক্রফট। স্মিথ ‌ও ‌ওয়ার্নারকে হারাতে হয়েছে অধিনায়কত্ব ‌ও সহ-অধিনায়কের পদ‌ও। ‘প্রতারক’ ট্যাগ নিয়ে দেশে ফিরে মিডিয়ার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তারা। এই কান্না শুরু হয়েছিল প্রয়াত কিংবদন্তি দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রনিয়ে থেকে। কেঁদেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুলও। এবার জানা যাক, কান্নার পেছনের ঘটনাগুলো।

হ্যান্সি ক্রনিয়ে: দক্ষিণ আফ্রিকা তো বটেই; ক্রিকেট বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক বলা হয় হ্যান্সি ক্রনিয়েকে। অনেক দেশের অধিনায়কই তাকে ফলো করতেন। ব্যাট হাতেও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন ক্রনিয়ে। কিন্তু হঠাৎ কী হলো, অর্থের লোভ সামলাতে পারলেন না। ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জেতা টেস্ট সিরিজেই ম্যাচ ফিক্সিং করেন তিনি।

ক্রনিয়ের এই কেলেঙ্কারির নাম হয়ে যায় ‘হ্যান্সি গেট’ কেলেঙ্কারি। এই কেলেঙ্কারিতে ক্রোনিয়ে ছাড়াও ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, অজয় জাদেজা, মনোজ প্রভাকর এবং দক্ষিণ আফ্রিকার হার্শেল গিবস, নিকি বোয়ের নামও উঠে আসে। তদন্তে জানা যায়, প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে কুম্বলের বলে কোনো রান না করেই আউট হন ক্রনিয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ইচ্ছে করেই রান আউট হন তিনি। এরপরও থামেননি তিনি। টাকার লোভে একই বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেও ফিক্সিং করেন ক্রনিয়ে।

তখনকার ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইনকে টাকার বিনিময়ে ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন হ্যান্সি। নাসের রাজী হয়ে যান। ইংল্যন্ড জয় পায় ওই ম্যাচে। পাঁচ মাস পর জানা যায়, এমনটি করার জন্য বাজিকরদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার ও একটি দামি চামড়ার জ্যাকেট উপহার নেন হ্যান্সি ক্রনিয়ে। পুলিশী তদন্তের মুখে ওই বছর ১০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে অশ্রুসিক্ত চোখে নিজের সব দোষ স্বীকার করেন তিনি। ২০০২ সালের ১ জুন রহস্যময় বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় এই কিংবদন্তি ক্রিকেটারের।

মোহাম্মদ আশরাফুল: ক্রিকেট ইতিহাসে আরেকটি কান্নার ঘটনার নায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশের এই ‘লিটল মাস্টার’ একসময় জড়িয়ে পড়েছিলেন স্পট ফিক্সিংয়ে। শুরুটা হয়েছিল ২০১৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ভারতের বিপক্ষে শততম ওয়ানডে থেকে। ওই ম্যাচে সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে ভারতীয় জুয়াড়ির আবদার রাখেন তিনি। প্রথম ১৫ ওভারে দলীয় রান ৬০ পার করেন। এরপর ভারতীয় বুকিরা নিয়মিতি যোগাযোগ করতে থাকে তার সঙ্গে। আশরাফুলকেও টাকার লোভ পেয়ে যায়।

এরপর আরও কয়েকটি ম্যাচে স্পট ফিক্সিং করেন তিনি। তাকে সঙ্গ দেওয়ার ব্যাপারে তখন নাম শোনা গিয়েছিল খালেদ মাহমুদ সুজন, খালেদ মাসুদ পাইলট এবং মোহাম্মদ রফিকের। তবে আশরাফুল ধরা পড়েন ২০১৪ বিপিএলের আসরে। ওই আসরে বড়সড় কেলেঙ্কারি করে ফেঁসে যান তিনি। বিসিবি এবং আইসসি তদন্ত করে তাকে নিষিদ্ধ করে। এমন কাণ্ডের পর সাংবাদিকদের সামনে সব দোষ স্বীকার করে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার: ২০১৮ সালের মার্চে বড়সড় কেলেঙ্কারিতে জড়ায় অজি অধিনায়ক এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ, সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার এবং ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রফটের নাম। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে এই কাণ্ড ঘটান তারা। স্মিথ-ওয়ার্নারের পরামর্শে শিরিষ কাগজ নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন ব্যানক্রফট। কিন্তু টিভি ক্যামেরায় বিষয়টি ধরা পড়ে। আইসিসি জরিমানা এবং এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করে।

আইসিসির চেয়েও অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। স্মিথ-ওয়ার্নারকে ১ বছর আর বেনক্রাফটকে ৯ মাস নিষিদ্ধ করে সিএ। যদিও এই শাস্তির মাত্রা বেশি হওয়ায় ক্রিকেট বিশ্বেই সমালোচনা চলছে। প্রতারণার দায় মাথায় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অপমানজনকভাবেই দেশে ফেরেন এই তিন ক্রিকেটার।

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD