শিরোপায় চোখ বাংলাদেশের

শিরোপায় চোখ বাংলাদেশের

রীতিমতো ফেভারিট হিসেবেই ত্রিদেশীয় ‌ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে ‌ওঠে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আজকের ফাইনালে‌ও মাশরাফি বিন মর্তুজার দলই ফেভারিট। কিন্তু বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ‘৮২’ রানে অলআউট হয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

কারণটা হলো ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে এই শ্রীলঙ্কাকে বাগে পেয়েও ট্রফি জিততে পারেনি বাংলাদেশ। তিন বছর পর, ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনাল শেষে সাকিব আর মুশফিকুর রহিমের ছবিটা এখনো হৃদয় চূর্ণ করে। তবে এবার ট্রফি জেতার ব্যাপারে মরিয়া লাল-সবুজ পতাকাধারীরা।

মাশরাফি বিন মর্তুজা‌ও বলেছেন একই কথা। ‘আগের ফাইনালগুলোর কথা মনে করতে চাচ্ছিলাম না, আপনারা মনে করিয়ে দিলেন। আমরা আগে কখনো এ ধরনের টুর্নামেন্ট জিতি নি। সে কারণেই আমরা সবাই জানি এটা জিতলে বড় একটা পদক্ষেপ ফেলা হবে।’ তবে খেলাটা তো ক্রিকেট। ‘পাঁচ ওভারেই খেলার রং বদলে যেতে পারে। শ্রীলঙ্কাও ভালো দল, জানতাম ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা ওদের আছে’, প্রতিপক্ষকে শ্রদ্ধা জানাতে এমনটাই বললেন, মাশরাফি।

ওদিকে টানা দুই ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট করা শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দীনেশ চান্ডিমাল মাইন্ড গেম শুরু করে দিয়েছেন, ‘ফাইনালের জন্য আমাদের কিছু গোপন পরিকল্পনা আছে!’ ম্যাচ নিয়ে পরিকল্পনা থাকে, প্রতিপক্ষের সামনে সেটা গোপনই রাখে সব দল। তার পরও বুঝতে অসুবিধা হবে কেন যে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকেই টার্গেট করেছে হাতুরাসিংহের শ্রীলঙ্কা। তামিমকে ফেরানোর জন্য দুশমন্ত চামিরা ক্রমাগত বল ভেতরে আনবেন। সেটা জেনেই গতকালও প্রায় আধাঘণ্টা ক্রমাগত থ্রো ডাউন খেলে গেছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি তারকা ওপেনার।

এদিকে প্রতিপক্ষের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য তো দলেই পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ, ফাইনালের স্কোয়াডে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ইমরুল কায়েসকে। তামিম ইকবালের উদ্বোধনী সঙ্গী এনামুল হক ফর্মে নেই। এ অবস্থায় ইমরুলের অন্তর্ভুক্তি মানেই ফাইনালে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া—এটা ধরে নিয়ে চন্দিকা হাতুরাসিংহে ছক করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গতকালের অনুশীলনে পুরো বাংলাদেশ ইনডোরে সময় কাটিয়েছে। আর ইমরুলকে দেখা গেছে একাডেমি মাঠে। তার মানে আজ এনামুলই খেলছেন, শ্রীলঙ্কা কোচের ভাবনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ইমরুলকে টেনেছে বাংলাদেশ।

তবে পরিবর্তন ঘটছে বাংলাদেশ দলে, নাসির হোসেনের পরিবর্তে মেহেদী হাসান মিরাজ খেলছেন। আবুল হাসানের জায়গায় সাইফ উদ্দিনকে চাচ্ছেন অধিনায়ক আর সহ-অধিনায়ক। বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দুজনের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব না মেলার সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ। তবে তাঁদের সবচেয়ে বড় চাওয়া প্রয়োজনের সময় দলের জুনিয়র ক্রিকেটাররাও যেন ভূমিকা রাখেন।

তামিম-সাকিব ব্যর্থ হলেই ব্যাটিং গুটিয়ে যাওয়া নিয়ে ভদ্রতা বজায় রেখে মিডল অর্ডার নিয়ে অনেক কথা বলেছেন মাশরাফি। এটা বোধগম্য যে টিম টকে সেসব কথায় ভদ্রতার লেশ থাকার কথা নয়। মুশফিকুর রহিম একটি ম্যাচে রান করেছেন; কিন্তু মাহমুদ উল্লাহ এবং সাব্বির রহমানের ব্যাটে রান নেই। তাতে আজকের ফাইনালটা না আবার তাঁদের কারো জন্য সাময়িককালের জন্য শেষ সুযোগ হয়ে যায়!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD