ভোর ৫:৪০, সোমবার, ২৭শে মে, ২০১৮ ইং
/ ফুটবল / ক্যাম্পে ফিরেছেন সাবিনা-মারিয়ারা
ক্যাম্পে ফিরেছেন সাবিনা-মারিয়ারা
জানুয়ারি ১০, ২০১৮

অনুর্ধ্ব-১৫ সাফের শিরোপা জয়ের পর ছুটি পেয়েছিলেন মারিয়া-মনিকারা। ১৫ দিন পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে আজ বুধবার আবার এক ছাদের নিচে আবাসিক ক্যাম্প শুরু করেছেন তারা।

আঁখি-তহুরা-মনিকাদের সামনে নতুন বছরে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তারই প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) বছর জুড়ে মেয়েদের আবাসিক ক্যাম্প পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিনিয়র-জুনিয়র মিলিয়ে ৩৫ জন ফুটবলারকে ডাকা হয়েছে ক্যাম্পে, যার মধ্যে জাতীয় দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও আছেন। নিজে অনুশীলনের পাশাপাশি জুনিয়রদের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করবেন সাবিনা। আজ থেকে দু’বেলাই অনুশীলন হবে। ৩৮ ফুটবলার নিয়ে চলবে দীর্ঘ ক্যাম্প। ২০১৮ সালে মেয়েরা অংশ নেবে আটটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে। তার চেয়ে বড় কথা, আগামী ফিফা নারী অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে চোখ রেখে দীর্ঘমেয়াদি এ প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। জাতীয় দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেছেন, এ বছর মেয়েদের সামনে ব্যস্তু সূচি। তাদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সব প্রতিযোগিতায় খেলানো হবে। সামনে হংকংয়ে চার জাতি টুর্নামেন্ট আছে, এরপর এএফসি, সাফ আর এশিয়াড। সব প্রতিযোগিতায় আমরা ভালো খেলতে চাই।

অনূর্ধ্ব-১৫ দলের ২৩ ফুটবলারের সঙ্গে ক্যাম্পে থাকছেন আরো ১২ জন। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের যারা ছিলেন অনূর্ধ্ব-১৫ দলের বাইরে তারাও যথারীতি থাকছেন ক্যাম্পে। এর বাইরে সিনিয়র খেলোয়াড় বলতে জাতীয় দলের স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুন। তিনি অবশ্য দুটি বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গেই ছিলেন ভিন্ন পরিচয়ে- কোচের ভূমিকা ছিল সাতক্ষীরার এ গোলকন্যার। বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলে এখন বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের নিয়েই হয় জাতীয় দল। সাবিনা খাতুন ছাড়াও দুইজন ছিলেন জাতীয় দলের। এরমধ্যে মাইনু প্রু মারমা কিছুদিন আগে মা হয়েছেন।

গোলরক্ষক সাবিনা অসুস্থ। এখন জাতীয় দলের বড় মুখ বলতে সাবিনা-কৃষ্ণারাই। সাবিনা খাতুনই এখন মাঠে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় দলের। সর্বশেষ জাতীয় দলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি।

অনূর্ধ্ব-১৫ দলের ২৩ জন মাহমুদা আক্তার, আখি খাতুন, নাজমা, আনাই মগিনি, নিলুফা ইয়াসমিন নিলা, মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার, আনুচিং মগিনি, মার্জিয়া, রূপনা চাকমা, সাগরিকা, দীপা খাতুন, রুনা আক্তার, রুমী আক্তার, লাবনী আক্তার, শামসুন্নাহার, মুন্নী আক্তার, সোহাগী কিসকু, সাজেদা খাতুন, রিতুপর্ণা চাকমা, সুলতানা পারভীন উঠছেন ক্যাম্পে। উঠছেন অনূর্ধ্ব-১৬ দলের রোকসানা বেগম, রূপা আক্তার, মাসুরা পারভীন, নারগিস খাতুন, শিউলি আজিম, সানজিদা আক্তার, রাজিয়া খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, রেখা, জোসনা ও আরিফা। সেই সঙ্গে সাবিনা খাতুন।

এসএসসি পরীক্ষা শেষে ক্যাম্পে যোগ দেবেন মিশরাত জাহান মৌসুমী, ইসরাত জাহান রতœা, সিরাত জাহান স্বপ্না। তারা আসলেই পূর্ণতা পাবে ক্যাম্পের। অনূর্ধ্ব-১৬ দলের এক খেলোয়াড় সুলতানাকে ডাকেনি বাফুফে। কারণ জেএসসি পরীক্ষার কথা বলে তিনি চলে গেছেন। এরপর থেকে বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তার।

মেয়েদের জন্য ২০১৮ অনেক ব্যস্ত বছর। মার্চ মাসে হংকংয়ে হবে আমন্ত্রণমূলক চারজাতি অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট। সেখানে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ। ২ থেকে ১২ মে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে এএফসি ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রথমবারের মতো ফুটসালে অংশ নেবেন বাংলাদেশের মেয়েরা।

অনূর্ধ্ব-১৮ বয়সের এ টুর্নামেন্টে খেলবে স্বাগতিক থাইল্যান্ডসহ ১৩ দেশ তিন গ্রুপে ভাগ হয়ে। তিন গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে বেস্ট রানার্সআপ দল উঠবে সেমিফাইনালে। এ টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপরা খেলবে এ বছর আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিতব্য যুব অলিম্পিক গেমসে। এর বাইরে এ বছর মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৮ এবং মূল সাফ হবে। আছে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ও এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস ফুটবলে প্রথমবারের মতো খেলবে বাংলাদেশের মেয়েরা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :