সকাল ৬:৪৪, মঙ্গলবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ অলিম্পিক (বিওএ) / পূর্বাচলে হবে আর্চারি স্টেডিয়াম: চপল
পূর্বাচলে হবে আর্চারি স্টেডিয়াম: চপল
নভেম্বর ২৪, ২০১৭

ফুটবলার হওয়ার কথাই ছিলো তাঁর। স্কুল জীবনে চুটিয়ে খেলেছেন‌ও। পরে হ্যান্ডবলেও ছিলো তাঁর অবাধ বিচরণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলেন বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কোষাধক্ষ্যও। বলছি, জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সফল এক ক্রীড়া সংগঠক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপলের কথা। এবার জানাবো, ক্রীড়া সংগঠক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদের আনন্দ-বেদনা আর বাংলাদেশ আরচ্যারি নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা।

প্রশ্ন: ছিলেন খেলোয়াড়, সংগঠক হয়ে উঠেলন কি করে?

কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল: স্কুলে থাকতেই ফুটবল খেলতাম। সেখানে একাধিক পুরস্কারও পেয়েছি। পরবর্তীতে পাইওনিয়র ফুটবলে‌ও ছিলো অবাধ বিচরণ। এদেশে যখন হ্যান্ডবল খেলা শুরু হলো তখন সেদিকে ঝুকে পড়লাম। সেই সময় হ্যান্ডবলের ছোটখাট কর্মকর্তাও হয়েছি। যদিও কখনো নির্বাহী সদস্য হইনি। তবু হ্যান্ডবলের প্রতিটি কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। তারপর বাংলাদেশে খো খো খেলা যখন প্রচলিত হলো তখন জড়িত হই, ভাইস প্রেসিডেন্ট-সাধারণ সম্পাদকও হই। ২০০৮ সাল পর্যন্ত জড়িত ছিলাম। তারপর ২০০১ সালে এদেশে আর্চারি খেলা প্রচলন করি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছি।

প্রশ্ন: আরচ্যারির সঙ্গে জড়িত হ‌ওয়া কিভাবে?

কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল: এদেশে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় খেলা হলো আরচ্যারি। পাহাড়ি অঞ্চলের লোকজন জন্মগতভাবেই আরচ্যারির সঙ্গে জড়িত। তাছাড়া এই খেলার জন্য খুব একটা অর্থ-বিত্তেরও প্রয়োজন পড়ে না। তাই এ খেলাতেই সবচেয়ে ভালো করার সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। সেই হিসেবে ২০০১ সালে শুরু আরচ্যারি ফেডারেশন গঠণের কার্যক্রম। তবে ২০০৬ সালে আরচ্যারি ফেডারেশন হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর বিভিন্ন সাফল্য এসে ধরা দেয়। ২০০৬ সালে ফেডারেশন হিসেবে স্বীকৃতি পাই। ২০০৬ সালেই সাফল্য আসে। সাউথ এশিয়ান গেমস এবং চ্যাম্পিয়নশীপে আমরা পদক পাই। ২০০৯ সালে আমাদের টার্নিং পয়েন্ট আসে কোলকাতায় এশিয়ান গ্রাঁপ্রিতে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠি। ইরানকে হারিয়ে প্রথম স্বর্ন পদক জয় করি। এবং সেই বছরই আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করে আরচ্যারি ফেডারেশন। প্রথম যুব অলিম্পিকের বাছাই পর্বে, ইমদাদুল হক মিলন স্বর্ন পদক জিতে অলিম্পিকের চূড়ান্ত পর্বে ২০১০ সালে সিঙ্গাপুরে উন্নীত হয়। সরাসরি খেলার সুযোগ পায়।

প্রশ্ন: আসন্ন এশিয়ান আরচ্যারি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের টার্গেট?

কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল: ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২০১৭ সাল, এই আট বছরে আরচ্যারি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে দেশের জন্য অনেক সম্মান বয়ে এনেছে। জিতেছে তারা ১২টি স্বর্ন পদকও। এদেশের আর কোনো ফেডারেশন এই অল্প সময়ে এতো সাফল্য পায়নি। আসন্ন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশীপেও তাই ভালো করার স্বপ্ন আরচ্যারির। তবে আসন্ন এশিয়ান গেমসে এখনও পর্যন্ত টার্গেট ঠিক করা হয়নি। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশীপই হলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ। কারণ বিশ্বেও প্রথম সারির ৭/৮টি দেশই এশিয়ার। তাদের পরই বাংলাদেশের স্থান। আমাদের ছেলেমেয়েরা ভালো অনুশীলন করেছে। এখনও তাদের স্মৃতিতে আছে যে তারা গত গ্রান্ডপ্রিতে ৬টি গোল্ড পেয়েছে। আমরা কোনো কিছুই আশা করছি না। আমাদের প্রত্যাশা যে আমরা ভালো খেলবো। ভালো খেলতে খেলতেই আমরা যেনো পদকের দিকে ধাবিত হতে পারি এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রশ্ন: আরচ্যারি স্টেডিয়ামের অভাব বোধ করছেন কিনা?

কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল: নতুন প্রতিভা সংগ্রহের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্যালেন্ট হান্টের মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাই করা হয়। তবে ফেডারেশনের নিজস্ব কোনো মাঠ বা স্টেডিয়াম না থাকায় প্রশিক্ষণের জন্য যেতে হয় গাজীপুরে। প্রধানমন্ত্রী সহায়তায় শিগগিরই মাঠ সমস্যার সমাধান হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম, উনি এবারের এশিয়ান আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশীপের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হয়েছেন। পূর্বাচলে জায়গা দেবেন আর্চারি স্টেডিয়াম বানানোর জন্য। ওটা হলে কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারবো। আর আমাদের সমস্যার‌ও সমাধান হয়ে যাচ্ছে শিগগিরই।

প্রশ্ন: আরচ্যারিকে নিয়ে আপনার স্বপ্নটা কত বড়?

কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল: এদেশের আরচ্যারি নিয়ে স্বপ্নটা আকাশ সমান। দল যেভাবে সাফল্যের পথে হাঁটছে, তাতে এই স্বপ্ন দেখাটা মোটেই আকাশ-কুসুম কল্পনা নয়। ইচ্ছে ওয়াইল্ড কার্ড নয়, বাছাইপর্ব পেরিয়ে নিজ যোগ্যতায়ই কোনো আরচ্যার যেনো বিশ্ব অলিম্পিকে জায়গা করে নেয়। যুব অলিম্পিকে যখন পারা গেছে সিনিয়র লেবেলও নিশ্চয়ই পারা যাবে। কোনো সিরিয়ালে যেতে চাই না, যোগ্যতা অর্জন করেই আমরা বিশ্ব অলিম্পিকে খেলতে যেতে চাই।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :