সকাল ৬:৪২, মঙ্গলবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ অলিম্পিক (বিওএ) / নড়াইলকে স্পোর্টস হাব বানানোর স্বপ্ন দেখি: মিকু
নড়াইলকে স্পোর্টস হাব বানানোর স্বপ্ন দেখি: মিকু
নভেম্বর ২৮, ২০১৭

দেশের এক গন্ডগ্রাম থেকে উঠে এসেছেন জাতীয় পর্যায়ে। গ্রামের প্রতি অন্ত্যহীন ভালোবাসা এখনও অমলিন। দীর্ঘদিন ধরে পালন করছেন, দেশের শীর্ষ এক ক্রীড়া সংগঠন ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের উপমহাসচিব হিসেবেও খেলাধুলার উন্নয়নে অবদান রাখছেন তিনি। বলছি, বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকুর কথা। নিজের জেলা নড়াইলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন, এদেশের একটি ‘স্পোর্টস হাব’ বানানোর। এবার জানবো জাতীয় পুরস্কার পাওয়া প্রবীন এই সংগঠক আশিকুর রহমান মিকু’র সুখ-দু:খ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা।

প্রশ্ন: ভলিবল ফেডারেশেনর সাধারণ সম্পাদক হ‌ওয়ার কঠিণ পথ কিভাবে মসৃণ করলেন?
আশিকুর রহমান মিকু:
ইচ্ছে ছিলো ফুটবলার হওয়ার। ছেলেবেলায় ফুটবলকেই করেছি ধ্যান-জ্ঞান। খুলনা লিগেও খেলেছি কিছু দিন। কিন্তু ১৯৮৪ সালে নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর, বেড়ে যায় দায়িত্ব। ১৯৯১ সালে আমি সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনে যোগ দেই। ১৯৯৯ সালে ভলিবল ফেডারেশনের সহসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হই। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশেনর নির্বাচনে আমাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিজয়ী করা হয়। ঐ বছরই ঢাকা মহানগরী ক্লাব সমিতি-ফোরাম সেক্রেটারি হিসেবে নির্বাচিত হই। এভাবেই ভলিবলের সঙ্গে আমার যোগাযোগা।

প্রশ্ন: ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হ‌ওয়ার পর আপনার কাজের ধারাটা কেমন ছিলো?
আশিকুর রহমান মিকু:
আগে থেকেই ভলিবল ফেডারেশন গুটিকয়েক লোকের হাতের পুতুল হয়ে ছিলো। সাধারণ সম্পাদক হয়েই এই জঞ্জাল সরাতে উঠে পড়ে লাগি। একটা সিন্ডিকেটের মধ্যে ঘোরপ্যাচে পড়ে গেছি। এটা কাটাতে আমার দশ বছর চলে গেছে। প্রকৃত অর্থে ছয় বছর আন্তরিকভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এ সময়ে আমরা ওয়ার্ল্ড ভলিবলের বাছাইয়ে দ্বিতীয় পর্বে উন্নীত হয়েছি। এবং আরো দুটো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছি। গতবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিলাম। এবার অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। পাশাপাশি এসএ গেমসে সেমিতে গিয়ে হেরে গেছি। তবে এসএ গেমসে পরাজয়ের পর এই দুইটা টুর্নামেন্টের মধ্যদিয়ে আমাদের দলটা দাঁড়িয়ে যায়। এবং আমরা মনেকরি ভলিবলের গতানুগতিক যে ধারা কিছুটা হলেও আমরা এই ধারাটা পরিবর্তন করতে সক্ষম হই।

প্রশ্ন: পুরুষ ভলিবলে সাফল্য পেলে‌ও নারীদের নিয়ে তো তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না?
আশিকুর রহমান মিকু:
এর আগে মহিলা ভলিবল টোটালি বন্ধ ছিলো। জাগ্রত করার জন্য গতমাসে দেড়মাসের কোচিং কর্মসুচি শেষ করেছি। নতুন মহিলা দলটিকে আমরা ইন্ডিয়ার কয়েকটি প্রদেশের সঙ্গে খেলা আয়োজনের চেষ্টা করছি। ভারতের চারটি প্রদেশের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে। খুব শিগগির, এই ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে আবার‌ও মহিলা টিমকে কোচিংয়ের আওতায় আনবো। এবং জানুয়ারির শেষের দিকে তারা ভারত সফরে যাবে যাবে। নতুন এই দলটিকে ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজার দেয়া আর বিদেশে খেলিয়ে তাদের শক্তি যাচাই করা।

প্রশ্ন: বঙ্গবন্ধু কাপ ভলিবল নিয়ে নতুন কোনো ভাবনা?
আশিকুর রহমান মিকু:
টানা দুইবার আমরা বঙ্গবন্ধু কাপ ভলিবল টুর্ণামেন্ট আয়োজন করলাম। গতবার ছিলো সেন্ট্রাল জোনের খেলা। এটা এবার উন্মুক্ত ভলিবল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট করার চেষ্টা হচ্ছে। আশা করছি ৮-১০ দেশ এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। আমাদের টার্গেট ছিলো ফেব্রুয়ারি আয়োজনের। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে সম্ভবত পারবো না। তাই মার্চের শেষের দিকে এটা গড়াবে। সবকিছু মিলিয়ে অন্যান্যবারের তুলনায় ভিন্ন ধরণের হবে এবারের প্রতিযোগিতা।

প্রশ্ন: সংগঠক হিসেবে নিজেকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
আশিকুর রহমান মিকু:
ভালো-মন্দ মিলিয়ে একেবারে কম কিছু পাইনি। সংগঠক হিসেবে অনেক কিছুই পেয়েছি। তবে ভলিবলকে নিয়ে স্বপ্ন আছে আরো ভালো স্থানে নিয়ে যা‌ওয়ার। এদেশে যতগুলো বাংলাদেশ গেমস হয়েছে তারমধ্যে গত ২০১৩ সালে যে গেমস হয়েছে আমার মনেহয় সেটা সবচেয়ে উত্তম এবং সর্বাপেক্ষা সফল আয়োজন হয়েছে গত বাংলাদেশ গেমস। সেসময় আমি বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। তবে আমি মনেকরি স্পোর্টসটাকে এদেশে যদি একটি সম্মানজনক জায়গায় আমরা নিয়ে যেতে পারি। তবে আমাদের শ্রম, কষ্টর সার্থকতা আসবে। যেহেতু রক্ত-মাংসে স্পোর্টস-এই স্পোর্টসটিকে যদি সম্মনজনক জায়গায় নিয়ে যেতে পারি তাহলে মনে করব আমাদেরকে নিয়ে যে নিন্দা, যে সমালোচনা করা হয় তার সার্থকতা এসেছে।

প্রশ্ন: একজন সংগঠক হিসেবে আপনার কোনো ইচ্ছা বা স্বপ্নের কথা বলুন?
আশিকুর রহমান মিকু:
আমি স্বপ্ন দেখি এদেশের মডেল জেলা হবে নড়াইল জেলা। আমি ইতোমধ্যে কিছু কাজ শুরু করেছি। আমার জেলায় কোনো মাঠ পরিত্যাক্ত অবস্থায় নেই। সব মাঠেই এখন খেলাধুলা হয়। সেই লক্ষ্যে আমার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। যেখান থেকে আমার উত্থান সেখান থেকে আমার নতুন করে এই দেশের মডেল জেলা রুপে গড়ে তুলব। যেটা সবাই অনুকরণ করবে। এখান থেকে বিভিন্ন খেলার ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে। আর সবাই খেলোয়াড় পা‌ওয়ার জন্য নড়াইল আসবে। সেই চেষ্টাই করছি আমি। কারণ উদ্যোগ নিলে কোনো উদ্যোগই কিন্তু বিফলে যায়না।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :