রাত ২:৪৬, মঙ্গলবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / ব্যালন ডি’অরে‌ও রোনালদো-মেসি-নেইমার
ব্যালন ডি’অরে‌ও রোনালদো-মেসি-নেইমার
অক্টোবর ১০, ২০১৭

এমনটা হবে প্রত্যাশিতই ছিল। এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তাই প্রত্যাশিতভাবেই আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি ও নেইমার।সোমবার ২০১৭ সালের এই পুরস্কারের জন্য ছয় ভাগে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ফ্রান্স ফুটবল।

গত নয় বছরে বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড মেসি ও রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ছাড়া জিততে পারেনি কেউ। এবারের ব্যালন ডি’অর জিতলে সবচেয়ে বেশি পাঁচবার বর্ষসেরা হওয়ার মেসির রেকর্ড স্পর্শ করবেন রোনালদো। আর বছর জুড়ে সাফল্যের কারণে পর্তুগাল অধিনায়ক এগিয়ে আছেন মেসির চেয়ে। তবে ভোট যুদ্ধে যিনি জিতবেন তিনিই হবেন ২০১৭ সালের ব্যালন ডি'অরের মালিক।

ক্লাবের হয়ে গত মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লা লিগা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রোনালদোর। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নকআউট পর্বে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি‌ও গড়েন তিনি। ইউরোপ সেরা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গত মৌসুমে ১০০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেনলদো। ফাইনালে দুটিসহ গত আসরে সর্বোচ্চ ১২টি গোল করেন তিনি।

রোনালদোর চেয়ে দলগত সাফল্য কম হলেও ব্যক্তিগতভাবে গত মৌসুম দারুণ কেটেছে মেসির। ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ারে ৫০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি কাতালান ক্লাব বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লি‌ওনেল মেসি।

প্রথম ধাপে সংক্ষিপ্ত তালিকায় আসা নেইমারের প্রাপ্তি পরিসংখ্যানের বিচারে মেসি-রোনালদোর মতো বেশি না হলেও বার্সেলোনার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোয় তার পারফরম্যান্স ছিল চমৎকার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬-র প্রথম লেগে পিএসজির কাছে ৪-০ গোলে হারের পর ফিরতি পর্বে কাতালান ক্লাবটির ৬-১ গোলের জয়ের নায়ক‌ও ছিলেন নেইমার। রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে পিএসজিতে যোগ দিয়েও দারুণ খেলছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

এছাড়া যুভেন্টাসের হয়ে দারুণ মৌসুম কাটানো পাবলো দিবালা, অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জানলুইজি বুফন, বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেস, রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক স্যার্জি‌ও রামোস, মিডফিল্ডার লুকা মডরিচ ও ইসকো, বায়ার্ন মিউনিখের লেভানদোভস্কি, টটেনহ্যাম হটস্পারের হ্যারি কেইন আছেন সংক্ষিপ্ত তালিকায়।

১৯৫৬ সাল থেকে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়কে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দেওয়া চালু হয়। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত পুরস্কারটি শুধু ইউরোপের খেলোয়াড়দেরই দেওয়া হতো। এর পর থেকে ইউরোপে খেলা বিশ্বের যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আর ২০০৭ সাল থেকে ইউরোপের সেরা নয়, পুরস্কারটি দেয়া হতে থাকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে। ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার আর ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অর একীভূত হয়েছিল ২০১০ সালে। ফিফার সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় গত বছর থেকে আবার একাই ব্যালন ডি’অর দেওয়া শুরু করে ফ্রান্স ফুটবল।

ব্যালন ডি’অর জয়ী নির্ধারণ করা হতো শুধু সাংবাদিকদের ভোটে। ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কারের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর জাতীয় দলের কোচ আর অধিনায়কদের ভোটও যোগ হয়। এখন আবার আগের নিয়মে বর্ষসেরা ফুটবলার বেছে নিচ্ছে ফ্রান্স ফুটবল। গত বছর অঁতোয়ান গ্রিজমান ও লিওনেল মেসিকে হারিয়ে পুরস্কারটি জিতেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড রোনালদো।

২০১৭ ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা

নেইমার (পিএসজি), পাওলো দিবালা (ইউভেন্তুস), লুকা মদ্রিচ (রিয়াল মাদ্রিদ), মার্সেলো (রিয়াল মাদ্রিদ), এনগোলো কঁতে (চেলসি), লুইস সুয়ারেস (বার্সেলোনা), সের্হিও রামোস (রিয়াল মাদ্রিদ), ইয়ান ওবলাক (আতলেতিকো মাদ্রিদ), ফিলিপে কৌতিনিয়ো (লিভারপুল), ড্রিস মের্টেন্স (নাপোলি), কেভিন ডি ব্রুইন (ম্যানচেস্টার সিটি), রবের্ত লেভানদোভস্কি (বায়ার্ন মিউনিখ), দাভিদ দে হেয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), হ্যারি কেইন (টটেনহ্যাম হটস্পার), এদিন জেকো (রোমা), অঁতোয়ান গ্রিজমান (আতলেতিকো মাদ্রিদ), টনি ক্রুস (রিয়াল মাদ্রিদ), জানলুইজি বুফ্ফন (ইউভেন্তুস), সাদিও মানে (লিভারপুল), রাদামেল ফালকাও (মোনাকো), লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা), পিয়েরে-এমেরিক আউবামেয়াং (বরুসিয়া ডর্টমুন্ড), এদিনসন কাভানি (পিএসজি), মাটস হুমেলস (বায়ার্ন মিউনিখ), করিম বেনজেমা (রিয়াল মাদ্রিদ), ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ), এডেন হ্যাজার্ড (চেলসি), লিওনার্দো বোনুচ্চি (এসি মিলান), ইসকো (রিয়াল মাদ্রিদ), কিলিয়ান এমবাপে (পিএসজি)।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :