রাত ৮:৫৫, বুধবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / বাংলাদেশের সিরিজ পরাজয়
বাংলাদেশের সিরিজ পরাজয়
অক্টোবর ৯, ২০১৭

দ্বিতীয় টেস্টেও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হেরে দুইম্যাচ সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হলো বাংলাদেশ। এমন পরাজয়ে হতাশ সবাই। ঘরের মাটিতে গেলো তিন বছরের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সের সাথে চলতি বছর শ্রীলংকাতেও ভালো পারফর্ম করার পর, প্রোটিয়া সফরে এই ভরাডুবিকে ব্যর্থতাই বলছেন সবাই। তবে পরিসংখ্যান বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ধুঁকতে হয় এশিয়ার সব প্রতিপক্ষকেই। দক্ষিণ আফ্রিকায় পাত্তা না পা‌ওয়ার কথা জানাচ্ছেন, তওসিয়া ইসলাম।

ডিসেম্বর, ২০১০। শচিন-শেবাগ-গাম্ভীর-লক্ষণ-দ্রাবিড়কে নিয়ে গড়া ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। ২০১৩-র ডিসেম্বরে সবশেষ টেস্টেও পুজারা-কোহলি-রাহানেরা কোনোরকমে ইনিংস হার এড়িয়ে ম্যাচ হেরেছে ১০ উইকেটে।

২০১২-১৩-তে সবশেষ টেস্টে পাকিস্তান ইনিংস ব্যবধানে হেরে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হয়েছে। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে হোয়াইট ওয়াশের পথে ৩ টেস্টে শ্রীলঙ্কার হেরেছিলো ২০৬, ২৪২ রান এবং ইনিংস ও ১১৮ রানে।

অর্থাৎ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে উপমহাদেশের দলগুলির ভরাডুবির ইতিহাস নতুন নয়। ঘরের মাটিতে দুর্দান্ত পারফর্ম করা দলগুলোর যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্সি উইকেটে খেলতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠে, সেখানে এবারের সিরিজে বাংলাদেশের বিপর্যয় তাই মহাবিস্ময় হওয়ার মত নয়।

তবে, দুই ম্যাচেই টাইগারদের পারফর্মেন্স আর কিছু সিদ্ধান্তে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সিরিজে দু’বারই টস জিতলেও, পিচ রিপোর্ট আর মাঠের অতীত ইতিহাসের তোয়াক্কা না করে মুশফিকুর রহিমের আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে এখন অনেকটা আসামীর কাঠগড়ায় ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’। অথচ, টীম ম্যানেজমেন্টেই যে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, তা এখন জানেন সবাই। তামিম ইকবাল আর মুশফিকুর রহিম ছাড়া প্রথম একাদশে ব্যাটিং পজিশন অনুযায়ী জায়গা পাকা এমন খেলোয়াড় ছিলেন না এবারের স্কোয়াডে।

তাতে স্বভাবতই একবার উইকেট পতন শুরু হলে ‘অনেকটা মনের বাঘে খাওয়া’র মতই যেনো উইকেট বিলিয়ে এসেছেন বাকি ব্যাটসম্যানরা। সেটা কেবল উইকেট ভীতি নাকি কোচ আর টীম ম্যানেজমেন্টের অতি ছড়ি ঘোরানোর ফলে জায়গা হারানোর দুশ্চিন্তা; তা খুঁজে বের করে ভুল শোধরানোর পরামর্শ এখন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :