প্রথম দিনের চ্যালেঞ্জে জয়ী বাংলাদেশ

প্রথম দিনের চ্যালেঞ্জে জয়ী বাংলাদেশ

শামীম চৌধুরী : এক সময়ে স্লেজিংকে অক্রিকেটীয় আচরন বলে মনে করতো বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। শক্তিতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে যখন কুলিয়ে ওঠা অসম্ভব মনে হতো, তখন প্রতিপক্ষের স্লেজিংয়ের জবাব দিয়ে লাভ কি ? সেই বাংলাদেশ দল ধীরে ধীরে মাঠে আক্রমনাত্মক, আগ্রাসী আচরনে এখন স্লেজিংয়ের জবাবও দিতে শিখেছে ঠিক ইটের আঘাতে পাটকেল ছোঁড়ার মতোই! ১-০ তে এগিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে বাংলাদেশ দলের এই রেসিপিতে হতভম্ব না হয়ে কি
উপায় আছে স্মিথের দলের? ঢাকা টেস্ট প্রথম দিন পার করতে না পেরেও ২৬০ স্কোরকে ৪৩ রানের লিডে পরিনত করে সেই ম্যাচ ২০ রানে জিতে যাওয়ায় টনিকটা একটু বেশিই যেনো পাচ্ছে মুশফিকুররা চট্টগ্রাম টেস্টে। লোকাল হিরো তামিম (৯), টপ অর্ডার ইমরুলকে (৪) ৫৩ মিনিটের মধ্যে হারিয়েও বেসামাল হয়নি।
প্রথম দিনটা পাড়ি দিয়েছে, ৬ষ্ঠ উইকেট জুটির ১০৫ রানের কল্যাণে প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২৫৩/৬। কাঠফাঁটা রোদে অস্ট্রেলিয়াকে পুঁড়িয়ে মেরে এখন প্রতিপক্ষকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখেই যে ফেলে দেয়ার পথটা সুগম করেছে বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্টে পেসারদের ঝুলি যখন শুন্য, তখন চট্টগ্রামে একাদশে একাধিক পেসার রেখে লাভ কী? তার চেয়ে বরং ব্যাটিং শক্তি বাড়িয়ে নেয়াই উত্তম। এই যুক্তিতে পেস আক্রমনে সবেধন নীলমনি মুস্তাফিজুর। ১০ মাস পর এই তত্ত্বেই ফিরেছে বাংলাদেশ । বাংলাদেশের স্পিনের জবাব দিতে অস্ট্রেলিয়া দলও একাদশে ৩ স্পিনারের সমাবেশ ঘটিয়েছে। এক টেস্টে তিন স্পেশালিস্ট স্পিনারের সমাবেশের সবশেষ দৃস্টান্তটা ছিল অস্ট্রেলিয়ার ১১ বছর আগের ২০০৬ সালে, বাংলাদেশ সফরে চট্টগ্রাম টেস্টে। শেন ওয়ার্ন, স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল, ডান কুলেনকে নিয়ে ১১ বছর আগের ছবিটাই যেনো ফিরে পেলো অস্ট্রেলিয়া সেই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে!
২ ব্যাটসম্যানের ফিফটির (সাব্বির ৬৬, মুশফিকুর ৬২ ব্যাটিং) দিনে দিনের শেষ সেশনটা দারুণ কাটিয়েছে বাংলাদেশ, সাব্বিরকে হারিয়ে যে সেশনে উঠেছে ৯৮ রান। দারুণ একটি দিনে বিরল বেশ কিছু রেকর্ডের স্বাক্ষী হয়ে থেকেছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। প্রত্যাবর্তন টেস্টে সৌরভ ছড়াতে পারেননি মুমিনুল। তবে তাকে দলে ফিরিয়ে এনে হাতুরুসিংহের ফর্মূলায় ব্যাটিং অর্ডারে ১ থেকে ৫ এই পজিশনের সবাই (তামিম,সৌম্য, ইমরুল, মুুমিনুল, সাকিব) বাঁ হাতি! টেস্টের
১৪০ বছরের ইতিহাসে তৃতীয় এই দৃস্টান্তে বাংলাদেশ প্রথম।
টেস্ট ইতিহাসে প্রথম চার ব্যাটসম্যানের সবাই লেগ বিফোর ১৪০ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এমন দৃস্টান্তও যে দেখল চট্টগ্রামবাসী! ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে নটিংহাম টেস্টে বিল ও’ রেইলি নামক স্পিনারের হাতে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল তুলে দিয়ে প্রচলিত বোলিং আক্রমনের ধারনা পাল্টে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তার ৭৯ বছর পর ন্যাথান লায়নকে চট্টগ্রাম টেস্টে চকচকে নুতন বলে স্মিথ দিয়েছেন বোলিংয়ের দায়িত্বÑতা আবার দ্বিতীয় ওভারেই ! বাংলাদেশ সফরটা এই অজি অফ
স্পিনারের ভালই কাটছে, ৩ ইনিংসে ১৪ উইকেট! ধর্মশালায় ভারতের বিপক্ষে ৫/৯২’র পর ঢাকায় ৬/৮২,চট্টগ্রামে ৫/৭৭ ! উপমহাদেশে স্পিন ভেল্কিটা টানা
তিন টেস্টেই যে দেখালেন এই অফ স্পিনার। তবে নিজের এমন কৃতির পরও প্রথম দিনের বোলিং হিরো চট্টগ্রাম টেস্টে সম্ভাব্য বিপদের আঁচ পেয়েছেন। অবলীলায়
বলেছেন‘ এ পর্যন্ত আমার খেলা কঠিনতম টেস্ট এটি। এটি আমার ৬৯তম টেস্ট।
তবে এর আগে কখনো শারীরিক ভাবে এতোটা পরীক্ষা দিতে হয়নি। আমরা সবাই আজ রাতে ঘুমিয়ে ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে চেস্টা করব।’ তাহলে কি চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনেই ০-২ এ হেরে যাওয়ার শঙ্কা ভর করেছে অস্ট্রেলিয়ার?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD