দ্বিতীয় দিনে দৃশ্যপটে পরিবর্তন

দ্বিতীয় দিনে দৃশ্যপটে পরিবর্তন

ভেন্যুটির নাম যখন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামÑবঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে গড়ে ওঠা সাগরিকার উইকেটের চরিত্র বোঝা বড় দায় ! এই ভেন্যুর ১১ বছরের ইতিহাস বলছে সে কথাই। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষ যখন অস্ট্রেলিয়া,তখন ২টি ঘটনা চোখের সামনে ভেসে ওঠাই স্বাভাবিক। ১১ বছর আগে খেলার মাঠে সাংবাদিকদের উপর পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জের মতো নিন্দনীয় ঘটনা, এবং সেই নিন্দনীয় ঘটনার ম্যাচে অজি নাইটওয়াচম্যান জেসন গিলেস্পির রেকর্ড ডাবল সেঞ্চুরি ! জানেন, ইনিংস এবং ১৮০ রানের বিশাল হারের সেই ম্যাচটিও কিন্তু ৫ম দিনে টেনে নিয়েছে বাংলাদেশ। সাগরিকায় হয়ে যাওয়া ১৫ টেস্টের মধ্যে ৫ ড্র,১ জয় তো দূরের কথা, ৫ম দিনে গড়ানোর অতীত আছে বাংলাদেশের ১০টিতে ! সর্বশেষ ৪ টেস্টের সব ক’টিই বাংলাদেশ টেনে নিয়েছে ৫ম দিনে।
ঢাকা টেস্ট ৫ম দিনে গড়ানোর সম্ভাবনা নেই, ২০ রানে জয়ী বাংলাদেশের ম্যাচ উইনার সাকিব সে আলামত পেয়েছিলেন ম্যাচের প্রথম দিনেই। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে কি এমন কিছু’র আলামত পাচ্ছে কেউ ? চট্টগ্রামে সর্বশেষ শ্বাসরুদ্ধকর টেস্ট ৫ম দিনে গড়িয়েছে মাত্র ১৫ বল। তারপরও ২০ রানে জিতে ইংল্যান্ড অধিনায়ক সাগরিকার পিচের প্রশংসা করেছেন। ওই টেস্টে যতোই গড়িয়েছে সময়, ততোই ব্যাটিং সহায়ক উইকেট দেখে করেছেন বিস্ময় প্রকাশ। ১০ মাস আগের সেই চেহারার উইকেটও যে মানাচ্ছে হার ! বৃস্টির কারনে টানা ক’দিন ঢেকে রাখা পিচ রোদ পেলে না জানি কতোটা ভেঙ্গে চুরে যায়, সময় গড়ানোর সাথে সাথে স্পিন বান্ধব হয়ে ওঠেÑসেই শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়াকে পড়তে হয়নি দ্বিতীয় দিনে। প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও পড়েছে ৬ উইকেট। তবে প্রথম দিনে যেখানে রান উঠেছে ২৫৩, সেখানে দ্বিতীয় দিনে ২৭৭। সাবধানী অস্ট্রেলিয়া টপ অর্ডারদের ভুগতে হয়নি বাংলাদেশের স্পিনে। তাইজুলের একটি বিস্ময় ডেলিভারী ছাড়া স্পিন ভীতিতে পড়তে হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে। মুস্তাফিজুরকে রেনশ উইকেট উপহার দিয়েছেন। লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে ফুল লেন্থ ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়ে যতোটা না অপরাধ করেছেন রেনশ’,তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিতে হবে উইকেট কিপার মুশফিকুরকে। ডান দিনে ঝাঁপিয়ে তার নেয়া ক্যাচটি বিশ্বমানের। আবার মিরাজের বলে হাফ পিচে খেলতে যেয়ে ডেভিড ওয়ার্নার সহজ স্ট্যাম্পিংয়ের সুযোগ দিয়ে মুশফিকুরের হাত থেকে গেছেন বেঁচেÑ৭৩ রানে তার বেঁচে যাওয়া ৭ মাস আগে হায়দারাবাদ টেস্টে ভারত লোয়ার অর্ডার রিদ্ধিমান সাহা’র জীবন ফিরে পাওয়ার সেই অতীতকেই দিচ্ছে মনে করিয়ে ! সে যাত্রায় বেঁচে রিদ্ধিমান সাহা করেছেন সেঞ্চুরি, অজি ওপেনার ওয়ার্নারও যে মুশফিকুরের ভুলে সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখছেন! দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৮৮ রানে ব্যাটিংয়ে থেকে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে ওয়ার্নার !
টেস্টকে ওয়ানডে বানিয়ে খেলাটা যার অভ্যেস, স্ট্রাইক রেট ৭৮.১২। ক্যারিয়ারে ১৯টি টেস্ট সেঞ্চুরির তিনটিতে স্ট্রাইক রেট যার ১০০’র উপরে, ১৯ সেঞ্চুরি, ২৫ ফিফটির ইনিংসে দ্বিতীয় ধীরগতি সম্পন্ন ব্যাটিংও ক্রিকেট বিশ্ব দেখল তার ব্যাটিংয়ে ! ২০১৩ সালে মোহালীতে ৭১ রানের ইনিংসে স্ট্রাইক রেট ছিল তার ৪৮.২৯ ধীরগতি সম্পন্ন। চলমান টেস্টে অবিচ্ছিন্ন ৮৮ রানের ইনিংসে সেখানে স্ট্রাইক রেট ৫১.৭৬ ! কতোটা সাবধানী ব্যাটিংÑভাবুন তো। ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৪ মিনিটে ১১২, সেখানে চট্টগ্রাম টেস্টে ২৬৬ মিনিটে করেছেন ৮৮!
দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের শেষ ৪ জুটির সমস্টি ৫২ রান। দ্বিতীয় দিনে স্থায়ীত্ব পাওয়া ১ ঘন্টা ৩৫ মিনিটে সেট ব্যাটসম্যান মুশফিকুর যোগ করেছেন ২ রান ( ৬৮), নাসির সেখানে যোগ করেছেন ২৬ রান ( ৪৫)। এমন দিনে বাঁ হাতি স্পিনার অ্যাগারকে আউট সাইড অফ খেলতে যেয়ে ফিফটি হাতছাড়া করেছেন নাসির। লায়নের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে পুশ করে ডাবল নিতে চেয়ে রান আউটে কাঁটা পড়ে মিরাজ করেছেন অপরাধ ( ১১)। ম্যাক্সওয়েলকে লং অনের উপর দিয়ে ছক্কায় প্রলুদ্ধ হয়ে লায়নকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে স্লিপে তাইজুল ক্যাচ দিলে লাঞ্চের ২৫ মিনিট আগেই শেষ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
এমন দিনে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সাকিবকে শ্রদ্ধা করেই থেমেছেন অজি স্পিনার ন্যাথান লায়ন। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিবের জাত চেনানো বোলিংয়ের (৭/৩৬) পেছনে এখন লায়ন (৭/৯৪)। বেঙ্গালুরুতে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের (৮/৫০) ছাড়াও ৭ উইকেটের কৃতিত্বে এটি তার দ্বিতীয়। প্রথম দিনে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের কাছে ভোগান্তিতে পড়ে নিজেদের ফিরে পেতে রাতে দারুন ঘুম দিবেন বলে জানিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দিনে ৮.২-১-১২-২ স্পেলে সে কথাই রেখেছেন। মুস্তাফিজুরের তৃতীয় এবং তাইজুলের উইকেট টেকিং প্রথম ডেলিভারীর দিনটিতে লিডের স্বপ্ন দেখছে অস্ট্রেলিয়া। ৮০ রানে পিছিয়ে এখন অস্ট্রেলিয়া। তবে স্মিথের ২১তম ফিফটি (৫৮), ওয়ার্নারের ২০ তম ( ৮৮ নট আউট), হ্যান্ডসকমের তৃতীয় ফিফটি ( ৬৯ নট আউট) ’র পাশে তৃতীয় উইকেট জুটির অবিচ্চিন্ন ১২৭ রানে সে স্বপ্নই দেখতে পারে অস্ট্রেলিয়া ! প্রথম দিনের খেলা শেষে উইকেটের চরিত্র নিয়ে সন্দিহান ছিলেন সাব্বিরÑতার কথা শুনে হাসির রোল পড়ে যাওয়ারই কথা। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সাব্বিরকে প্রকৃত জ্যোতিষি রূপেই দেখা যেতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD