রাত ২:০৯, রবিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ ফুটবল / চিন্তিত নন কৃষ্ণা-সানজিদারা
চিন্তিত নন কৃষ্ণা-সানজিদারা
সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭

কবিরুল ইসলাম, চনবুড়ি (থাইল্যান্ড) থেকে : দেশের ফুটবলের ইতিহাসে (পুরুষ ও মহিলা) প্রথমবারের মতো বাছাই পর্ব উৎরে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশীপের মূল পর্বে খেলছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ দলগুলোও উত্তর কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বসেরারা। মূলপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশ উত্তর কোরিয়ার কাছে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতো বড় হারের পরও লাল-সবুজ শিবিরে নেই কোন অস্বস্তি। দলের সবাই ফুরফুরা মেজাজেই আছেন। সোমবার ম্যাচ শেষে হোটেলে ফিরে খোসগল্প করতে করতেই একসাথে রাতের খাবার খেতে নেমেছিলেন কৃষ্ণা-মার্জিয়া-মৌসুমীরা।

প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়ার সাথে পুরো ম্যাচে একমুহুর্তের জন্যও কুলিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। রানিং কিংবা টেকনিক্যাল দিকতো পরে, বলের সামনেই এগুতে পারেনি তারা। বল পজিশনের হিসেব কষতে গেলে উত্তর কোরিয়া নব্বই শতাংস সময় নিজেদের দখলেই রেখেছিল। তাদের ফিটনেসের সামনেই যেনো অসহায় ছিলেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। বিশ্ব ফুটবলে অন্যান্য দেশ যে কতোটা এগিয়েছে, সেটা সোমবার হাড়ে হাড়ে টেড় পেয়েছেন কৃষ্ণাবাহিনী।

এতো বড় একটি হারের পরও বাংলাদেশ দলের কারো কপালেই চিন্তার রেখা দেখা যায়নি। সব ফুটবলাররাই রয়েছেন নির্ভার। তারা এখন পরের ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন। এ ম্যাচের ভুল-ত্রুটিগুলো সূধরে নিয়ে জাপানের বিরুদ্ধে ভালো করতে চান তারা- এমনটাই জানালেন মারিয়া মান্ডা। বলেন, ‘আমরা উত্তর কোরিয়াকে ভয় পাইনি। আমরা তো আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু শারীরিক শক্তি থেকে ওরা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। রানিংও ভালো। এ কারণে আমরা ওদের সঙ্গে পেরে উঠতে পারিনি। আমরা এখন এ ম্যাচ থেকে থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের ম্যাচে (আগামি ১৪ সেপ্টেম্বর জাপানের বিরুদ্ধে) ভালো করতে পারি কিনা।’

মারিয়া মান্ডা ভয়ের কথা অস্বীকার করলেও সিরাত স্বপ্না কিন্তু ঠিকই স্বীকার করেছেন উত্তর কোরিয়া নামটাই যে তাদের জন্য ভয়ের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ‘ভয় তো কাজ করেছেই। উত্তর কোরিয়া বিশ্বকাপ খেলা দল। তারা চলতি এ আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। তারা সবদিক থেকে আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে।’ প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ড্রেসিং রুমে কোচ ছোটন তার শিষ্যদের ম্যাচ ধরে খেলার নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলেও জানানে স্বপ্না।’

ম্যাচ শুরুর পর ডাক আউটে দাঁড়ানো কোচ ছোটন শিষ্যদের উদ্দেশ্যে গলা হাঁকিয়ে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। কোচের সাথে পাল্লা দিয়ে বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলিও হাক-ডাক দিচ্ছিলেন বারংবার। স্মলির চিল্লা-পাল্লার কারনে ছোটনের গলা শুনাই যাচ্ছিল না। ডাক আউট থেকে দু’জনের নির্দেশনা মাঠে ফুটবলার সমস্যার কারন ছিল না কি না- জানতে চাইলে সানজিদা কিছুটা কৌশলী উত্তর দিলেন, ‘পলের নির্দেশনা আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি। তারা দুজনেই আমাদের নিয়ে কাজ করেন। আমরা দু’জনের কথামতোই কাজ করি মাঠে।’
উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে হারটা ৬-০ হলেও কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ৯-০ ব্যবধানের হারটা যেনো কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না দেশের ফুটবলানুরাগীরা। কারন গত এক বছরে এ দলটির পেছনে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ করার পাশাপাশি ২২টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলানো হয়েছে দেশ বিদেশে বড় বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে। বাফুফের সব মনোযোগই ছিল অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা দলটির উপর। কিন্তু গত এক বছরের কঠোর অণুশীলন আর প্রস্তুতির ছিঁটে ফোঁটাও সোমবার চনবুড়ি স্টেডিয়ামে দেখাতে পারেননি কৃষ্ণার দল। এখন জাপানের বিরুদ্ধে কি করেন তারা, সেটাই দেখার বিষয়।

 

 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :