দুপুর ১:৩৬, বৃহস্পতিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ ফুটবল / উত্তর কোরিয়ায় বিধ্বস্ত বাংলাদেশ
উত্তর কোরিয়ায় বিধ্বস্ত বাংলাদেশ
সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭

কবিরুল ইসলাম, চনবুড়ি (থাইল্যান্ড) থেকে : পাওয়ার আর গতি ফুটবলের রং দেখলো বাংলাদেশের কিশোরীরা। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশীপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার সামনে দাড়াতেই পারেনি গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। গুনে গুনে ৯টি গোল হজম করতে হয়েছে তাদের। ডিফেন্স আর অফেন্সের দূর্বলার সাথে এদিন যুক্ত হয়েছিল গোলরক্ষকের সমস্যা। দলের নিয়মিত গোলরক্ষক মাহমুদার জায়গা হয়নি সেরা একাদশে। কোচের আস্থায় থাকা রোকসানা বেগম ৫৯ মিনিট ছিলেন মাঠে। এ সময়ে সাত গোল হজম করে বাংলাদেশ। ৫৯ মিনিটে নিয়মিত গোলরক্ষক মাহমুদা মাঠে নামার পর বাকী ৩৩ মিনিটে দুইবার বাংলাদেশের জালে বল আশ্রয় নেয়।

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের কঠিন এ ম্যাচের আগে সকালে দলকে কঠিন অনুশীলন করিয়েছিলেন বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের সম্মতি ছিল না এ অনুশীলনে। কারন ম্যাচের দিন সকালে অনুশীলন করানোর নজির বিশ্বের কোথাও নেই। সকালে এ অনুশীলনের কারনেই আজ মাঠে অনেক প্রভাব পড়েছিল। মেয়েরা ঠিকমতো দৌড়াতেই পারছিল না। পাসিংয়েও দেখা গেছে সমস্যা। একবারের জন্য বল প্রতিপক্ষের সীমায় নিতে পারেননি মৌসুমী-মার্জিয়া-কৃষ্ণারা।

বল মাঠে গড়ানোর মাত্র ৬ মিনিটেই গোল হজম করে বাংলাদেশের মেয়েরা। কর্ণার থেকে দারুণ এক হেডে গোল করেন কিম কিয়ং অং। পাক হাই গুয়ংয়ের কর্ণার থেকে উড়ন্ত বলে হেডে গোল করেন এ ফরোয়ার্ড (১-০)। বাংলাদেশী গোলরক্ষক রোকসানা বেগম বলের গতি-প্রকৃতিই বুঝতে পারেননি।
মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে আবারো এগিয়ে যায় চলতি এ আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এবারো গোলের কারিগর কিম কিয়ং য়ং। নিজেদের বিপদসীমায় বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বাংলাদেশের গোলরক্ষক রোকসানা বল ফেলে দেন কিম কিয়ং কিয়ং য়ংয়ের সামনে। পায়ের সামনে বল পেয়ে দেরি করেননি তিনিও। প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে দেন (২-০)।

ম্যাচের মাঝে কিছুটা সময় নিজেদের রক্ষনভাগ সামলাতে পারেলেও ৩০ মিনিটের সময় আর সেটা সম্ভব হয়নি। এবার নিজেদের ডিফেন্সের ভুলেই গোল হজম করতে হয়। গোল করেন রি সু ইয়ং (৩-০)। তৃতীয় গোলর রেশ কাটতে না কাটতেই নিজেদের গোলর গ্রাফটা আরো একধাপ উপরে নিয়ে যান কিম ইয়ুন ওক (৪-০)। কর্ণার থেকে বল বক্সের মধ্যে পড়লে আনমার্কে থাকা এ ফরোয়ার্ড ডানপায়ের জোড়ালো শটে গোল আদায় করে নেন। পরের মিনিটেই উত্তর কোরিয়ার জালে বল পাঠানোর সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু নিজেদের বাঁধা হয়ে দাঁড়ান নিজেরাই। ব্যাকপাস থেকে কোরিয়ার গোলরক্ষক বল আয়ত্বে নিতে ব্যর্থ হলে কৃষ্ণা রানী বল প্রায় নিজের দখলে নিয়ে নেন। কিন্তু পেছনে থাকা স্বপ্নার সাথে সংঘর্ষের কারনে বল নিয়ে আর এগুতে পারেননি। প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজরা।

দ্বিতীয়ার্ধে বল মাঠে গড়ানোর মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই নিজের হ্যাটট্রিক ও দলের পঞ্চম গোল করেন কিম কিয়ং অং। বামপ্রান্ত দিয়ে পুং সুংয়ের ক্রসে দৌড়ে এসে হেডে গোল করেন তিনি। বাংলাদেশের গোলরক্ষক রোকসানা বলে ফ্লাইট মিস করেন। দুই মিনিট পর নিজের অদক্ষতার পরিচয়টা স্পষ্ট করেন গোলরক্ষক রোকসানা। বামপ্রান্ত দিয়ে ইয়ুন ঝি হুয়ার গড়ানো শট সহজেই হাতে তুলে নিতে পারতেন গোলবারের এ অতন্দ্রপ্রহরী। কিন্তু বল তার হাতগলে জালে প্রবেশ করে (৬-০)। ৫৭ মিনিটে বাংলাদেশকে বিধ্বস্ত করে আবারো নিজের জাত চেনান কিম কিয়ং অং (৭-০)। এবারো রোকসানার হাত স্পর্শ করে বল জালে আশ্রয় নেয়।

সাত গোল হজমের পর রোকসানাকে পরিবর্তন করে দলের নিয়মিত গোলরক্ষক মাহমুদাকে মাঠে নামান কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। এরপর প্রায় ২৯ মিনিট পর্যন্ত গোলবার আগলে রেখেছিলেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র চার মিনিট আগে দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিযে গোল করেন কিম কিয়ং য়ং (৮-০)। আর ম্যাচের ৯০ মিনিটে রি সু ইয়ং নবম গোল করেন (৯-০)।

আগামি ১৪ সেপ্টেম্বর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এশিয়ার আরেক শক্তিশালী জাপানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মেয়েরা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :