বিকাল ৩:৫০, রবিবার, ১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / ৩৬ বছরের ১৩ বছর ধরে ডুবে আছেন ক্রিকেটে
৩৬ বছরের ১৩ বছর ধরে ডুবে আছেন ক্রিকেটে
জুলাই ৭, ২০১৭

নুহিয়াতুল ইসলাম লাবিব : 

বিপদে পাশে থাকাই প্রকৃত বন্ধুর পরিচয়। কথাটি সত্য হলে তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের সত্যিকার বন্ধুই বটে। কেননা উইকেট হারিয়ে দল যখনই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তখনই ভারতীয় ভক্তদের স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরিয়ে আনতে মাঠে নেমে অসাধারণ সব ইনিংস খেলা যেন এখন অনেকটা নিয়মিতই হয়ে গিয়েছে। কখনো বা শেষ ছোঁয়াটি দিয়ে মাঠ ছেড়েছেন কখনো বা শেষটা রাঙাতে পারেননি। তবে দলের প্রয়োজনে ঠিকই মাটি কামড়ে থাকতেন ২২ গজের ক্রিজটিতে। এতোক্ষনে হয়তো ঠিক ধরে ফেলেছেন কার কথা বলা হচ্ছে। জ্বি, বলছি মাহেন্দ্র সিং ধোনির কথা। যিনি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য গত ১৩ বছর ব্যক্তিগত পারফম্যান্স দ্বারা নিয়মিত অবদান রেখে চলেছেন।

ভারতীয় ক্রিকেটে প্রায় এক যূগ ধরেই যেন নায়কের ভূমিকার দায়িত্বটি নিজের কাঁধে নিয়ে নিয়েছেন। দলের সামনে যখন পরাজয়ের হাতছানি ঠিক তখন অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে সাথে নিয়ে দলকে সম্মানজনক সংগ্রহ বা জয়ের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন অসংখ্যবার। তাই তো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মাইকেল বেভানের পর ফিনিশার তকমাটি তার নামের পাশেই সবচেয়ে ভালো মানায়।

ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল সেই ২০০৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর। বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে সেদিনই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনা করেন এই ক্রিকেটার। মেনে নিতে একটু কষ্ট হলেও এ কথা  সত্য যে প্রথম ম্যাচে শূন্য রান করেই তাকে ফিরে যেতে হয়েছিল সাজঘরে। তবে শুরুটা বাজে হলেও পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে ব্যার্থতার ছাপ একদম নেই বললেই চলে।

টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি এই তিন ফরম্যাটেই নিজেকে সমানতালে মানিয়ে নিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। তবে তিন ফরম্যাটের বিবেচনায় পরিসংখ্যান বলে ওয়ানডেতেই সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল এই ক্রিকেটার। এখন পর্যন্ত ওয়ানডে খেলেছেন ২৯৫টি। তবে ব্যাটিং করার সুযোগ মিলেছে ২৫৫ ইনিংসে। আর এরই মাঝে ৬৪টি অর্ধশতক এবং ১০ টি শতকে ৫১.৩২ গড়ে করেছেন ৯৪৯৬ রান! ২৫৫টি ইনিংসের ৭০টি ইনিংসেই অপরাজিত ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠ ছেড়েছেন এই ক্রিকেটার! বেশিরভাগ সময়ই পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাট করেন বিধায় নিয়মিত দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিজে থাকার সুযোগ মিলে না। তবে এতোকিছুর পরেও একদিনের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ইনিংসটি ১৮৩ রানের। অন্যদিকে ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্টেও কম যান না এই খেলোয়াড়। ৯০ টেস্টে ১৪৪ ইনিংসে ব্যাট করে ৩৩টি অর্ধশতক এবং ৬ টি শতক হাঁকিয়ে ৩৮.০৯ গড়ে করেছেন ৪৮১৬ রান।

শুধু ব্যাটিংই নয় উইকেটের পেছনে থেকে উইকেটরক্ষকের ভূমিকায় তিনি কতোটা আগ্রাসী তা কেবল প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরাই ভালো বলতে পারবেন। ক্রিজ থেকে বের হওয়ার পাশাপাশি ব্যাটে বলে সংযোগ না হওয়া মানেই যেন ব্যাটসম্যানদের জন্য সাজঘরের টিকিট কেটে ফেলা। কেননা ধোনির ওই বিশ্বস্ত হাত জোড়া দিয়ে উইকেটের বেল ফেলে দেওয়াটা যেন আজকাল অনেকটা অনুমিতই বটে। এখন পর্যন্ত ২৯৫টি ওয়ানডেতে ক্যাচ ও স্ট্যাম্পিং এর সংখ্যা যথাক্রমে ২৭৫ ও ৯৭ টি! যার থলিতে এতো উইকেট সেই যদি উইকেটের পেছনে থাকে তবে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের লাইন ছেড়ে বের হয়ে আক্রমণাত্মক শটস খেলা একটু কষ্টকরই বটে।

ব্যাটিং-কিপিং এর পাশাপাশি ক্রিকেটীয় মেধাও দারুণ এই ক্রিকেটারের। তাই তো দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন ভারতের অধিনায়ক হিসেবেও। ভারতের হয়ে অধিনায়কের দায়িত্বটা কাঁধে বয়ে বেড়িয়েছেন বেশ কিছু বছর। তবে ২০১৭ এর ৪ জানুয়ারি অধিনায়ক পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয় তাকে। দীর্ঘ এই পথচলায় অধিনায়ক হিসেবে অসংখ্য রেকর্ড, অসংখ্য প্রাপ্তি জমা করেছেন ভারতের ক্রিকেটের জন্য। তবে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বড় অর্জনের কথা বললে হয়তো তিনিও বলতেন ২০১১ সালের সেই বিশ্বপের কথা। কেননা সেবার তার নেতৃত্বেই ভারত দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের সাধ পেয়েছিল। তাছাড়া সর্বশেষ ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারতকে শিরোপা জেতানোর কৃতিত্বটা তারই। অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের পাশাপাশি আইপিএলে চেন্নাইয়ের অধিনায়ক হয়েও দুইবার দলকে ফাইনাল জেতাতে সক্ষম হন তিনি। বলতে গেলে ক্রিকেটকে সম্পূর্ণ গিলেই খেয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।

মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আজ ঘটা করে কেনই বা তার কথা বলা হচ্ছে? বলা হচ্ছে এই কারণে যে আজ অর্থাৎ ৭ জুলাই পয়ত্রিশকে পিছনে ফেলে ছত্রিশ বছর পূর্ণ করলেন এই ক্রিকেটার। জন্মদিনে তাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :