দুপুর ১২:২৩, শনিবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / সেরা হিসেবেই পাকিস্তান জিতেছে
সেরা হিসেবেই পাকিস্তান জিতেছে
জুন ১৩, ২০১৭

পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার এই দল দুটির দলগত শক্তি ও খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতার আলোকে কাউকেই খুব বেশি এগিয়ে বা পিছিয়ে রাখাটা কঠিন ছিল। তবে আমার কাছে পাকিস্তানের পেস বোলিং বিভাগকে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরাদের একটি মনে হয়েছে। তরুণ হাসান আলী যথেষ্ট চমক জাগানিয়া, সাথে বাঁহাতি আমির ও জুনায়েদ খান ছিলেন যথেষ্ট কার্যকর।

কাল শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরুতে এবং মাঝপথে পাকিস্তানের পেসারদের ধারালো বোলিংয়ের কাছেই শ্রীলঙ্কার সব স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা দলকে আলোর পথ দেখাতে ব্যর্থ হন।

একমাত্র দিনেশ চান্দিমাল ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস বাদে তাদের দলের ব্যাটিং অভিজ্ঞতার অনেক ঘাটতি আছে। সেখানে অনেক তরুণ ব্যাটসম্যানই তাদের প্রতিভা দেখিয়েছেন ভারতের সঙ্গে। সেই দিনের পিচটি ছিল অসাধারণ ব্যাটিং সহায়ক। তবে কালকের পিচটি ছিল ভিন্ন, ব্যাটে বল সাবলীলভাবে প্রায়শই আসেনি, বিচ্ছিন্ন কিছু বল বাড়তি বাউন্স ও অব দ্য উইকেট যুক্ত করেছে। তা বোলারদের উদ্দীপ্ত করেছে এবং ব্যাটসম্যানরা এমন অবস্থায় পিচে এসেই রান তুলতে বা স্ট্রাইক রোটেড করতে পারে না।

শ্রীলঙ্কার দিকবিলা যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান তবে তাদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর তার উচিত ছিল ইনিংসের শেষ পর্যন্ত একপ্রান্ত আগলে খেলে যাওয়া। তাহলে দলীয় রান ২৬০-এর আশে পাশে পৌঁছে যেত।

শ্রীলঙ্কার ১০টি উইকেট ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাঝে পাকিস্তানের বোলাররা তাদের বোলিংয়ে ধার দেখিয়েছে। ম্যাচের বিভিন্ন সময় এসে দুই প্রান্ত থেকে ব্রেক থ্রু দিতে পারার সক্ষমতা অর্জন সব সময়ই প্রতিপক্ষকে চাপের মাঝে রাখে। তাদের এই বার্তা ইংল্যান্ড শিবিরও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে আজ পর্যবেক্ষণ করেছে বলে আমার বিশ্বাস।

শ্রীলঙ্কার করা ২৩৬ রান তাড়া করতে গিয়ে আহমেদ শেহজাদের জায়গায় এই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বারের মতো সুযোগ পেয়ে সবার নজর কারলেন ফকর জামান। দারুণ সাহসী, চমৎকার স্ট্রোকস খেলে প্রতিপক্ষ বোলারদের ছন্দকে এবং পাওয়ার প্লে থেকে ফায়দা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সফল ছিলেন তিনি। দারুণ একটা সূচনা করেছেন এই ম্যাচে, পরবর্তীতে মো. হাফিজ ও শোয়েব মালিকদের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা তাড়াহুড়ো করে ব্যাট চালাতে গিয়ে সহজ এই ম্যাচটিকে জটিল করে ফেলেন । তাতে বাবর আজম ও আজহার আলীও সামিল হন। কাল আগ্রহ ছিল ফাহিম আশরাফের ব্যাটিং দেখার, যিনি অনুশীলন ম্যাচে শেষে ব্যাট করে আমাদের হারিয়েছিলেন। এই ম্যাচে বোলারের আঙুলে লেগে নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে তিনি যেভাবে রান আউট হলেন, ভেবেছিলাম এই ম্যাচের সবচেয়ে দৃষ্টিকটূ অংশটুকু বোধহয় দেখা হয়ে গেল। কিন্তু না, পাকিস্তানের অষ্টম উইকেট জুটিতে দলনায়ক সরফরাজের ক্যাচটি থিসারা পেরেরা যেভাবে ফেলে দিলেন তা দেখে আমার লাসিথ মালিঙ্গার জন্য কষ্ট হচ্ছিল। তিনি একাধিক আউটের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার পরেও সতীর্থদের সহযোগিতার অভাবে দলকে জেতাতে পারলেন না।

গত কালকের ম্যাচে সেরা পারফরমার হিসেবেই পাকিস্তান জিতেছে। ম্যাচ শেষে দলনায়ক সরফরাজ ম্যান অব দ্য ম্যাচ বিবেচিত হলেও আমার কাছে মনে হয়েছে মোহাম্মদ আমির তার ব্যাটিংয়ে যথেষ্ট অবিচল ও আস্থাশীল ছিলেন। বল ও ব্যাট হাতে তার নৈপুণ্যই আমার সেরা মনে হয়েছে।

কালকের এই ম্যাচের ফলাফলের মাধ্যমেই সেমিফাইনালের লাইন আপ চূড়ান্ত হয়ে গেলো। ৪ দলের এই তালিকয় টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ভারত ও ইংল্যান্ডের নাম উচ্চারিত হয়েছে। সম্ভাব্য অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হটিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান জায়গা নেওয়ার মাধ্যমে এশিয়ানদের আইসিসি দরবারে কর্তৃত্ব নিয়ে কথা বলার একটা মঞ্চ তৈরি হলো।

আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই কারণ দেখিয়ে ইংল্যান্ড আমাদের বহুবছর হয়ে গেল তাদের দেশে আমন্ত্রণ জানায়নি। সেই দেশের ভেন্যুতে তাদের চোখের সামনে পারফরম করে সেমিতে পৌঁছে তার দারুণ একটা জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের দেশের ধারাভাষ্যকারের মুখে ‘মাইটি’ বাংলাদেশ শুনে অনেক আনন্দ পেয়েছি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :