সন্ধ্যা ৬:৪৪, বৃহস্পতিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / সরফরাজের ব্যাটে সেমিফাইনালে পাকিস্তান
সরফরাজের ব্যাটে সেমিফাইনালে পাকিস্তান
জুন ১৩, ২০১৭

ম্যাচটা গ্রুপ পর্বের শেষ। কিন্তু ছোঁয়া দিয়ে গেল কোয়ার্টার ফাইনালের। টানটান উত্তেজনায় রূপ দিয়ে যে ম্যাচটা জিতে নিল পাকিস্তান। হাস্যকর কিছু মিসফিল্ডিং ও ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ার মাশুল গুনতে হলো শ্রীলঙ্কাকে। জয়ের আশা জাগিয়েও তারা হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে উঠার লড়াইয়ে পাকিস্তান জিতেছে ৩ উইকেটে। জয়ের নায়ক তাদের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ, আর পার্শ্ব নায়ক মোহাম্মদ আমির।

আগে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ২৩৬ রানে গুটিয়ে যায়। শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে আগের ম্যাচে হারানো পাকিস্তানের জন্য ২৩৭ রান করা কী এমন কঠিন! আজহার আলী ও ফখর জামান ব্যাট করতে নামার আগেই সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। পাকিস্তান সফল হয়েছে, কিন্তু ভক্তদের উত্তেজনায় রেখে।

লক্ষ্যে নেমে ১১ ওভার শেষে সহজ জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান। ফখরের হাফসেঞ্চুরিতে বিনা উইকেটে ৭৪ রান ছিল তাদের স্কোরবোর্ডে। পরের ওভারে নুয়ান প্রদীপের বলে আসেলা গুনারত্নের শিকার হলেন ফখর, ৩৬ বলে থামে তার ৫০ রানের ইনিংস।

এর পর বাবর আজম (১০), মোহাম্মদ হাফিজ (১) ও আজহার আলীর (৩৪) মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানরা ক্রিজে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেননি। ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় লঙ্কানরা। একে একে ইমাদ ওয়াসিম ও ফাহিম আশরাফের উইকেটটিও তুলে নেয় তারা। ১৬২ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারায় পাকিস্তান। জয়-পরাজয়ের পেন্ডুলাম দুলতে থাকে দুই দলের দিকেই।

অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ এর পর দাঁড়িয়ে যান। শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে দুইবার জীবন উপহার পাওয়ার উপযুক্ত সদ্ব্যবহার করেন তিনি। ৩৯ রানে একবার সহজ জীবন পান পাকিস্তানের এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।৩৯তম ওভারে লাসিথ মালিঙ্গার বল মিড অনে বুক সমান উঁচুতে এলেও সহজ ক্যাচ ছাড়েন থিসারা পেরেরা। যেন ম্যাচটাও হাতছাড়া হলো। মালিঙ্গার পরের ওভারে আবারও জীবন পান সরফরাজ, এবার ৪০ রানে বল হাত ফসকে যায় সেক্কুগে প্রসন্নর।

দুইবার জীবন পাওয়া সরফরাজকে আর ভাবতে হয়নি। তার হাফসেঞ্চুরিতে ৩১ বল বাকি থাকতে শ্রীলঙ্কাকে হতাশ করে জয় পায় পাকিস্তান। অধিনায়কের সঙ্গে আমিরের অবদান অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। অষ্টম উইকেটে একপ্রান্ত দারুণভাবে আগলে রেখেছিলেন তিনি। অন্য প্রান্তে লঙ্কানদের মিসফিল্ডিংয়ের সুযোগ নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছেন সরফরাজ। আমিরের সঙ্গে তার জুটিটি ৭৫ রানের অপরাজিত। ৪৫তম ওভারের পঞ্চম বলে সরফরাজের ব্যাটে আসে জয়সূচক বাউন্ডারি। ৭৯ বলে ৫ চারে ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৪৩ বলে ২৮ রানে খেলছিলেন আমির।

এর আগেশুরুতে বড় স্কোরের আভাস জাগানোর পর মাঝপথে গিয়ে নড়বড়ে শ্রীলঙ্কার আত্মবিশ্বাস, ভেঙে যায় ব্যাটিং লাইনআপ। অধিনায়ক ম্যাথুজ ক্রিজ ছাড়া হওয়ার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪ বল বাকি থাকতে ২৩৬ রানে গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা।

সোমবার টস জিতে ফিল্ডিং নেয় পাকিস্তান। তাদের শুরুটা ভালো ছিল বলা যায়। ২৬ রানে দানুশকা গুনাতিলাকাকে (১৩) আউট করে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন জুনাইদ খান। কুশল মেন্ডিসকে নিয়ে নিরোশান ডিকবেলার প্রতিরোধ খানিকটা দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয় পাকিস্তানি বোলারদের। তবে টানা দুই ওভারে ১ রানের ব্যবধানে দুটি উইকেট নিয়ে আবার ম্যাচে ফেরে পাকিস্তান। ৮৩ রানে ৩ উইকেট হারানো লঙ্কানরা ম্যাথুজ ও ডিকবেলার ব্যাটে দ্বিতীয় দফায় প্রতিরোধ গড়েন।

হাফসেঞ্চুরি থেকে খুব বেশি দূরে ছিলেন না ম্যাথুজ। কিন্তু ৩৯ রানে মোহাম্মদ আমিরের কাছে বোল্ড হন অধিনায়ক। এখানেই বড় ব্রেকথ্রু আনে পাকিস্তান। আমির ও জুনাইদের জোড়া আঘাতে ৬ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ডিকবেলা ইনিংস সেরা ৭৩ রানে আমিরের দ্বিতীয় শিকার।

২ ও ১৭ রানে দুইবার জীবন পাওয়ার সদ্ব্যবহার করতে পারেননি আসেলা গুনারত্নে। ২৭ রানে হাসান আলীর শিকার তিনি।

জুনাইদ ও হাসান সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন। ২টি করে পান আমির ও নতুন মুখ ফাহিম আশরাফ।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :