দুপুর ১:০৬, বুধবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি / ভারতকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
ভারতকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
জুন ১৮, ২০১৭

দুই দলের প্রথম দেখায় ব্যাটে-বলে সুবিধা করতে না পারা পাকিস্তান হেরেছিল বড় ব্যবধানে। ফাইনালে ভারতের বিপে নিয়েছে মধুর প্রতিশোধ। শিরোপাধারীদের বিধ্বস্ত করে প্রথমবারের মতো জিতেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। ফাইনালে ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে ফখর জামান আর শেষের ঝড়ে মোহাম্মদ হাফিজ দলকে এনে দিয়েছিলেন বিশাল সংগ্রহ। জিততে রেকর্ড গড়তে হতো ভারতকে, অসাধারণ বোলিং করা মোহাম্মদ আমির, জুনায়েদ খান, হাসান আলিরা তার ধারে কাছে যেতে দেননি বিরাট কোহলির দলকে।
এক পেশে ফাইনালে উজ্জ্বীবিত পাকিস্তান জিতেছে ১৮০ রানে। ওয়ানডেতে রানের দিক থেকে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। আগের সেরা ছিল ২০০৫ সালে দিল্লিতে ১৫৯ রানের জয়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। আগে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ার পর আলোচনায় চলে আসে ২০০৩ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে আসা ভারতের বিপে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫৯ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপরই ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে অজিদের সামনে। ১৪ বছর পর আইসিসির ইভেন্টের আরেকটি ফাইনালে একই পরিণতি বরণ করতে হলো টিম ইন্ডিয়াকে। এবার প্রতিপ অস্ট্রেলিয়া নয়; পাকিস্তান। ভারতকে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারালো তারা।
লন্ডনের কেনিংটন ওভালে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বিরাট কোহলি। ফখর জামান ও আজহার আলির মধ্যকার সেঞ্চুরি জুটির ওপর ভর করে মজবুত ভিত পায় সরফরাজের দল। এরপর অন্যান্যদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ আমিরের বোলিং তোপে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনের কোমড় ভেঙে যায়। সেখান থেকে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় বিরাট কোহলির দল।
২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১২৫ রানে হেরেছিল ভারত। তবে এবার ব্যবধানটা আরো বেশি। বলতে গেলে ভারতকে নিয়ে ছেলেখেলাই করেছে টিম পাকিস্তান।
ভারতের হয়ে যা একটু লড়াই করেন হার্দিক পান্ডিয়া। সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৩ বলে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাহায্যে ৭৬ রানের দর্শনীয় ইনিংস খেলেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান। শিখর ধাওয়ান ২১ এবং যুবরাজ সিং ২২ রান করে আউট হন। রোহিত শর্মা (০), বিরাট কোহলি (৫), এমএস ধোনি (৪), কেদার যাদবরা (৯) ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থ হন। পাকিস্তানের হয়ে আমির ও হাসান আলি তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া শাদাব খান দুটি ও জুনায়েদ খান নেন একটি উইকেট।
৩৩৯ রানের ল্েয ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় ভারত। মোহাম্মদ আমিরের করা প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে দারুণ ইনসুইংয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রোহিত। সঙ্গী শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে রিভিউ না নিয়েই সাজঘরের দিকে হাঁটা দেন ভারতীয় ওপেনার।

প্রথম ওভারে রোহিত ফিরে যাওয়ার পর ভারত তাকিয়ে ছিল রান তাড়ায় মাস্টার কোহলির দিকে। কিন্তু দলকে চরম হতাশ করেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক। আমিরের করা তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজহার আলির বদান্যতায় বেঁচে যান কোহলি। কিন্তু পরের বলেই পয়েন্টে শাদাব খানের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে দলকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফেরেন কোহলি। শুরুতেই ২ উইকেট হারানোর পর ধাওয়ান ও যুবরাজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল ভারত। কিন্তু সেই স্বপ্নে হানা দেন আমির। এই পাকিস্তানি পেসারের করা নবম ওভারের শেষ বলে ধাওয়ানের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে সরফরাজের হাতে বল জমা পড়লে ব্যাকফুটে চলে যায় টিম ইন্ডিয়া। এরপর যুবরাজ ও ধোনি মিলে ইনিংস মেরামতে মনোযোগী হয়ে উঠেন। তবে শাদাবের করা ১৩তম ওভারের শেষ বলে যুবরাজ ফিরে গেলে বড় ধরনের ধাক্কা খায় ভারত। আম্পায়ার প্রথমে লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া না দিলে শাদাব সঙ্গে সঙ্গেই সরফরাজকে রিভিউ নেয়ার জন্য তাড়া দেন। রিভিউতে লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত আসলে কোণঠাসা হয়ে টিম ইন্ডিয়া।
ভারতের শেষ আশা-ভরসা হয়ে টিকে ছিলেন ধোনি। তবে পরের ওভারে তিনিও পথ ধরেন সাজঘরের। হাসান আলির করা ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে ইমাদ ওয়াসিমের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে দলকে চরম বিপদে ফেলে সাজঘরের পথ ধরেন ধোনি। আর তাতেই ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তান। এরপর দলীয় ৭২ রানের মাথায় শাদাবের করা ১৭তম ওভারের শেষ বলে কেদার যাদব আকাশে বল তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলে চরম লজ্জার মুখে পড়ে ভারত।

সপ্তম উইকেটে দারুণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন পান্ডিয়া ও জাদেজা। এই দুজন ৫৭ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন। কিন্তু দলীয় ১৫২ রানের মাথায় জাদেজার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে পান্ডিয়া রানআউট হয়ে ফিরে গেলে ভারতের প্রতিরোধ ভেঙে যায়। এরপর দলীয় ১৫৬ রানের মাথায় পরপর জাদেজা ও অশ্বিন আউট হয়ে ফিরে গেলে ভারতের বড় হার সময়ের ব্যাপারে পরিণত হয়। হাসানের করা ৩১তম ওভারের তৃতীয় বলে জসপ্রিত বুমরাহ ক্যাচ তুলে দিয়ে বিজয়োৎসবে মেতে ওঠে পাকিস্তান।
এর আগে টপ ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ৩৩৮ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি করা ফখর ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১১৪ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন। তার ওপেনিংয়ের সঙ্গী আজহার রানআউট হওয়ার আগে ৭১ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫৯ রান করেন। এছাড়া বাবর আজম ৫২ বলে ৪৬ এবং হাফিজ ৩৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে করেন ৫৭ রান। ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া ও কেদার যাদব।
ভারতীয় একাদশ : রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, এমএস ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিত বুমরাহ।
পাকিস্তান একাদশ : আজহার আলি, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, শাদাব খান, হাসান আলি ও জুনায়েদ খান।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :