সকাল ৬:৫০, রবিবার, ২৩শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি / বীরের বেশে দেশে টাইগাররা
বীরের বেশে দেশে টাইগাররা
জুন ১৭, ২০১৭

ইংল্যান্ডে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের বর্তমান দলটিই আরো ভালো খেলবে বলে মনে করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে দেশে ফিরে সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠার সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।
প্রথমবারের মতো কোন বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেললো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বড় দলকে পেছনে ফেলে গ্র“প অব ডেথ থেকে শেষ চারে খেলাটা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরই সেরা সাফল্য। তারপরও সন্তষ্ট নন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি বলেন, এই পারফরম্যান্স নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ফিরে আসাটা বেশ স্বস্তির। ভালো লাগছে। তবে সুযোগতো ছিলো ফাইনালে ওঠার। নকআউট পর্বে সবসময়ই সুযোগ থাকে। সুযোগটা নিতে পারিনি। আশা করি সামনে আরো বড় বড় টুর্নামেন্ট আছে, বড় বড় সিরিজ আছে। সেগুলোকে ব্যবহার করা গুরুত্বপূন এখন। ইনশাআল্লাহ সামনে এমন সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে পারবো। আর কঠিণ একটা গ্রুপ থেকে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডকে পিছনে ফেলে সেমিফাইনালে খেলাই তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’ এতো প্রাপ্তির মধ্যেও হতাশা গ্রাস করছে মাশরাফিকে। সেটা হলো পাওয়া সুযোগটা কাজে লাগাতে না পারার। ‘ভালোতো লাগছেই। তবে কিছুটা খারাপ লাগাও আছে। যেহেতু একটা ভালো সুযোগ পেয়েছিলাম। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে আরেকটা ম্যাচ খেলতে পারতাম। সেটা না হওয়াতে অবশ্যই হতাশ। তবে তার মানে এই নয়, এখানেই থেমে যাচ্ছি আমরা। এখন সামনের টুর্নামেন্ট সুযোগগুলো কাজে লাগানোই ইমপরটেন্ট।’
মাশরাফি জানান, মূলতঃ অভিজ্ঞদের পারফরম্যান্সই এবার টাইগারদের এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে। সেখানে মুস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমানরা পুরোপুরি ব্যর্থ। তবে সমালোচনা নয়, বরং তরুণদের হয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। বললেন, ‘দেখেন তরুনদের জন্য এইসব স্টেজ এতো সহজ না। এট দ্য সেইম টাইম বলবো তাদের ইমপ্র“ভও করতে হবে। সিনিয়রদের ভালো খেলাটা খুবই জরুরী। ইয়াংদেরও ভালো খেলতে হবে। যেটা হয়তোবা আশানুরুপ হয়নি। আশা করি যে দলটা আছে ২০১৯ বিশ্বকাপ যদি বলেন, তখন অনেক বেশী রেসপনসিবিলিটি নিয়ে খেলতে পারবেন। অনেক ম্যাচুরড হবে দুই বছর পরে। তখন অবশ্যই ওদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। এখন আসলে ইমপ্র“ভ করার সময়। যে লেভেলে খেলতে পেরেছে। ওদের উচিত এখান থেকে আরো ইমপ্র“ভের চেষ্টা করা। সো এটা যদি তারা সিরিয়াসলি নিতে পারি। আমি শিউর ওরা আরো ভালো খেলতে পারবে।’
দেশ সেরা এই পেসারের বিশ্বাস, বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতাই বর্তমান দলটিকে আরো এগিয়ে নেবে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ২০১৫ নাকি ২০১৭ টুর্নামেন্ট কোনটা সেরা। ২০১৫ তে সুযোগ ছিলো ভুল শোধরানোর। তবে সেখানে ৮ দল সুযোগ ছিলোনা। দুটোই সমান গুরুত্বপুর্ণ টুর্নামেন্ট ছিলো আমাদের জন্য।’ মাশরাফি আরো বলেন, ‘আরেকটা ব্যাপার যেটা বললাম, আপনি যদি দেখেন, এখানে দুটা এক্সটা অর্ডিনারি ইনিংস খেলার জন্যই আমরা সেমিতে গেছি। একজন প্লেয়ার হিসেবেই বলছি, এটাই হওয়া উচিত। টিম হিসেবে আরো ভালো খেলা উচিত ছিলো। যেটা আমরা পারিনি। তবে নেক্সট টাইম আমাদের আরো ম্যাচিউরড খেলতে হবে। বোলাররা যারা আছে, তাদের আরো ভালো বল করতে হবে। এ ধরনের ফ্লাট উইকেটে কিভাবে বল করতে হয়, এবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। এখন সেদিকেই নজড় দেয়া উচিত। প্রস্তত হওয়া ফিজিক্যালি, মেন্টালি, স্কিলডওয়াইজ।’
দীর্ঘ দুই মাসের সফর শেষে দেশে ফিরে আপাতত বিশ্রামে থাকছেন ক্রিকেটাররা। তবে ঈদের পরই শুরু হবে আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :