গোলমেশিন সাবিনা এবার কোচ

গোলমেশিন সাবিনা এবার কোচ

সাবিনা খাতুন-দেশের নারী ফুটবলে অনন্য এক নাম। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চুরমার করে জাল কাঁপিয়ে ইতোমধ্যেই নামের আগে বসিয়েছেন গোলমেশিন শব্দটি। ঘরোয়া ফুটবলে ভুরিভুরি গোল তার। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও প্রতিপক্ষের কাছে বাংলাদেশকে সমীহ করান সাতক্ষীরার এক কন্যা। ঘরোয়া ফুটবলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৫ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ২২৫ টি। ফুটসালে ৯ ম্যাচে তার গোল ৬৮ টি। ২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে জাতীয় দলে অভিষেক হয় সাবিনার। সাত বছরে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গোল আছে তার গোটা তিরিশে।

জাতীয় দলের অধিনায়ক ও স্ট্রাইকার খেলা ছেড়ে দিয়ে কোচিং পেশাকে বেছে নেবেন বলে ২০১২ সালে করেছেন ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স। তবে ওই পর্যন্তই। কোচিং কোর্স করলেও এখনো শতভাগ মনসংযোগ খেলায়। যে কারণে কোর্স করলেও কোচিং কখনো করানো হয়নি তার। তাতে কি? কোচিং না করালেও কোচ হিসেবে অভিষেক হয়ে যাচ্ছে ২১ বছর বয়সী সাবিনার। শনিবার অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দলের সঙ্গে কোচ হয়েই জাপান যাচ্ছেন দেশের বাইরের কোনো ক্লাবের হয়ে খেলা প্রথম বাংলাদেশি নারী সাবিনা খাতুন।

মেয়ে দলটির সঙ্গে যথারীতি প্রধান কোচ হয়ে যাচ্ছেন গোলাম রাব্বানী ছোটন, তার সহকারী মাহবুবুর রহমান লিটু। খেলোয়াড় তালিকায় সাবিনা খাতুনের নাম নারী প্রশিক্ষক হিসেবে। কেন খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করার আগেই ডাগআউটে দাঁড় করানো হচ্ছে সাবিনাকে? ‘আসলে এএফসি দলের সঙ্গে একজন নারী কোচ রাখা বাধ্যতামূলক করেছে। এর আগে দলের সঙ্গে নারী কোচ ছিলেন অনন্যা। সে মা হওয়ায় যেতে পারবেন না বলেই সাবিনাকে কোচ হিসেবে নিচ্ছি’-বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বাফুফের মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ।

ডাগআউটে থাকবেন কোচ হিসেবে-এ নিয়ে তেমন কোন অনুভূতি নেই সাবিনার, ‘এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা হবে-এই যা। এর বাইরে এ নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই। কারণ আমি এখনো ভাবি খেলা নিয়ে। আমি দলের সঙ্গে আছি নিজের অনুশীলনের জন্য।’

কোচিং কোর্স করার পর আপনি কখনো নিজে অনুশীলনের সময় কোচদের কৌশলগুলো রপ্ত করেন? ‘হ্যাঁ। স্যারদের (কোচদের) কোচিং করানোটা খেয়াল করি মাঝে মধ্যে। তবে সত্যি কথা কি আমি কোচিং নিয়ে এখনো ভাবিনি। অনুশীলন করি খেলোয়াড় হিসেবে। আমার শতভাগ মনসংযোগ থাকে খেলোয়াড় হিসেবেই। আমাদের পল স্যার (বাফুফের টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডাইরেক্টর পল স্মলি) বলেছেন, তোমার সঙ্গেতো খেলোয়াড়দের সম্পর্ক ভালো, তুমি যাও দলের সঙ্গে। আমি সে কারণেই যাচ্ছি’-বলেছেন সাবিনা।

সিনিয়র খেলোয়াড় হওয়া সত্বেও শুধু অনুশীলনের মধ্যে রাখার জন্য সাবিনাকে ক্যাম্পে ডেকেছে বাফুফে। অনূর্ধ্ব-১৬ দল সম্পর্কে সাবিনার মূল্যায়ন, ‘বাছাই পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করার পর এই মেয়েরা যে কী কষ্ট আর কঠোর অনুশীলন করছে তা কেউ না থাকলে বুঝবে না। আগের চেয়ে ওরা অনেক উন্নতি করেছে। এভাবে অনুশীলন করতে থাকলে আরও ভালো করবে সামনে।’

বাংলাদেশ আরেকজন সাবিনাকে কবে পাবে? ‘আসলে আমি খেলি আমার মতো। সবারই একটা নিজস্ব কৌশল থাকে। অন্যরা আমার মতো খেলতে পারবে তা নয়। আবার আমার চেয়ে ভালোও খেলতে পারে। এখন যে মেয়েরা আছে স্ট্রাইকার হিসেবে তারা সবাই ভালো। তবে সিরাত জাহান স্বপ্না আর আনুচিং মগিনি বেশ পরিশ্রম করে খেলে’- জবাব সাবিনার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD