রাত ২:৩১, শনিবার, ২১শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি / ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে পাকিস্তান
ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে পাকিস্তান
জুন ১৪, ২০১৭

এটাই পাকিস্তান। অঘটন ঘটাতে যাদের সঙ্গে তুলনা নেই কারও। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও তার ছাপ ফেলল ‘আন্ডারডগ’ হয়ে নামা দলটি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা যাদের হাতে দেখছিলেন অনেকেই, সেই ইংল্যান্ডকে নিয়ে রীতিমত খেলল সরফরাজ আহমেদরা। কার্ডিফের সেমিফাইনালে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তান নিশ্চিত করেছে ফাইনাল। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৯.৫ ওভারে ইংলিশদের অলআউট করে দেয় মাত্র ২১১ রানে। সহজ সেই লক্ষ্যটা ২ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় তারা ৭৭ বল হাতে রেখে। তাতে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ওঠার উৎসবে মাতে পাকিস্তান।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরুর আগে ইংল্যান্ডের প্রশংসায় মুখে ফেনা তুলেছিলেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভারসাম্যপূর্ণ এক দল, এর ওপর আবর খেলবে ঘরের মাঠে, তাই ফেভারিটের তকমা সেঁটে দেওয়া হয়েছিল ইংলিশদের গায়ে। বিপরীতে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান ছিল ‘আন্ডারডগ’। সেমিফাইনালে যখন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল দল দুটি, তখন ইংল্যান্ডকে ফাইনালেও তুলে দিয়েছিলেন অনেকে! হিসাবের সেই খাতা উল্টিয়ে পাকিস্তান দেখিয়ে দিলো সুদিন হারালেও হারিয়ে যায়নি পাকিস্তান।

কাজের কাজটা আগেই করে রেখেছিল পাকিস্তান বল হাতে। হাসান আলী, জুনাইদ খান ও রুম্মান রইসের পেস আগুনে ইংলিশদের অলআউট করে দেয় মাত্র ২১১ রানে। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা হাসান ১০ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। জুনাইদ ও রইস নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

২১১ রানে গুটিয়ে যাওয়া ইংলিশদের জয়ের স্বপ্ন দেখতে হলে বোলিংয়ে করতে হতো দারুণ শুরু। তা তো করতে পারেইনি, উল্টো পাকিস্তানকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন দুই ওপেনার আজহার আলী ও ফখর জামান। উদ্বোধনী জুটিতে তারা ১১৮ যোগ করলে জয়ের সুবাস পেতে থাকে পাকিস্তান। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ব্যাটিং করে দুজনই পান হাফসেঞ্চুরির দেখা।

একটু হাত খুলে খেলতে থাকা ফখর জামান ৫৮ বলে ৫৭ রান করে আউট হলেও তাতে কোনও প্রভাব ফেলতে দেননি তিন নম্বরে নামা বাবার আজম। আজহারের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যান তিনি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৫৫ রান। আজহারকে বোল্ড করে জেক বল জুটি ভাঙলেও বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল ইংলিশদের। জয় থেকে পাকিস্তান তখন যে খানিকটা দূরে! ১০০ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ রানের ইনিংস খেলা আজহার ততক্ষণে গড়ে দিয়ে গিয়েছেন জয়ের ভিত। যে ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন বাবর (৩৮*) ও মোহাম্মদ হাফিজ (৩১*)।

এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে প্রথমবার নাম লেখাল পাকিস্তান। এখন অপেক্ষা শিরোপা জয়ের মঞ্চের প্রতিপক্ষের। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ী দলের বিপক্ষে রবিবার ফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :