রাত ৪:৩২, বৃহস্পতিবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি / আনন্দ বৃষ্টিভেজা কথামালা মাশরাফির
আনন্দ বৃষ্টিভেজা কথামালা মাশরাফির
জুন ৬, ২০১৭

২০১১ সালে সর্বশেষ খেলেছি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়া আসলে ভাল খেলেছে। বোলিংটাতো দুর্দান্ত করেছে। তামিম ছাড়া কেউ ভাল খেলেনি। আমার মনে হয়, অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমন পুরোই ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের অতিরিক্ত পেস আছে। এটাই অস্ট্রেলিয়াকে অন্য দল থেকে আলাদা করে রেখেছে।

২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক পয়েন্ট পেয়েছি। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছি। এবারও সেই রকম সুযোগই মিলেছে। সেইসময় এক পয়েন্ট আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। আমরা নিউজিল্যান্ডকে হারাতে চাই। একটা ফল চাই। জানি ন্উিজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে। তবে আমরা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভাল খেলতে পারি, তাহলে সেমিফাইনালে জেতেও পারি।

অস্ট্রেলিয়া আমাদের চেয়ে অনেক দূরে ছিল। এগিয়ে ছিল। এটা মানতেই হবে। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে ছিল। আবহাওয়ার ওপর কোন হাত নেই। এখন শেষ ম্যাচে যদি আমরা নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারি, তাহলে পরের ধাপে যেতেও পারি।

সত্যি কথা বলতে কী ১৬ ওভার যখন হয়ে যায়, তখন মনে হচ্ছিল আরও এক দুই ওভার হবে কিনা। বা আম্পায়াররা চালিয়ে নিয়ে যাবে কিনা। পানি বিরতি যখন পাই, তখনও জানি না খেলা বন্ধ করে দিচ্ছে। তারপর যখন খেলা বন্ধ হয়, তখনও জানিনা আবহাওয়া বার্তা কী আছে। তবে আমরা জানতাম সাড়ে ছয়টার দিকে বৃষ্টি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত খেলাই হল না। আমরা এও চিন্তা করছিলাম যে খেলাটা যতদূর চালিয়ে যাওয়া যায়।

অস্ট্রেলিয়ার দুর্ভাগ্য। আমরা ভাগ্যবান। এই ম্যাচ থেকে একটা পয়েন্ট পেয়েছি। আমরা যদি এখন এ পয়েন্টটাকে ব্যবহার করতে পারি, সামনের ম্যাচে জিততে পারি। তবুও জানিনা জিতলে যাব কিনা। তবে এই পয়েন্টটা আমাদের জন্য অনেক লাকি পয়েন্ট। ম্যাচটা পুরোটা অস্ট্রেলিয়ার দিকেই ছিল। হয়তবা আর ৪ ওভার খেলা হলে আর ১ রান না করলেও অস্ট্রেলিয়া জয় পেয়ে যেত।

এরকম অনেক ম্যাচ গিয়েছে, আবহাওয়া বার্তায় আছে বৃষ্টি। একরকম দেখা গেছে। হয়েছে আরেক। ভাল উইকেটে বৃষ্টি আছে কি নেই, এরকম নির্ভর করা যায় না। অস্ট্রেলিয়াও ব্যাটিংই নিত। আগের দুইদিন যদি বৃষ্টি হত তাহলে ভিন্ন বিষয় ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল আগের ম্যাচের মত হয়ত ৩০০ করা লাগবেনা। ২৭০ বা ২৮০ রান করলেই ভাল খেলা হতে পারে। আমরা ওই পথেই ছিলাম। সাকিবের আউটটা না হলে তামিমের সাথে থাকলে হয়তবা ২৫০-২৬০ হত। ব্যাটিং আগে করাটাই ভাল সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে।

অস্বীকার করার কোন সুযোগই নেই যে অস্ট্রেলিয়া আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে ছিল। আর ৪ টা ওভার হলে অস্ট্রেলিয়া ২টা পয়েন্ট নিয়ে যেত। একটা পয়েন্ট পেয়ে আমাদেরও খুব ভাল লাগছে। আমাদের একটা সুযোগ তৈরী হয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকে হলে হয়ত কোন দলই চাইত না খেলা না হোক। এ পজিশন থেকে একটা দলই চেয়েছে খেলা হোক। আমরা কোথাও ছিলাম না। আমরা এক পয়েন্ট পেয়ে খুশি।

তামিমের ব্যাটিংটা নিয়ে বলব, বিশ্বের সেরা দুইটা দলের বিপক্ষে ও যেভাবে ব্যাটিং করেছে, সে দেখিয়েছে কী ফর্মে আছে। শেষ ৮-৯ টা ইনিংস দেখলেও বোঝা যাবে, পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছে, শ্রীলঙ্কাও করেছে। আবার এখানে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করার একেবারে সামনেই ছিল। ওয়ার্ল্ড ক্লাস ব্যাটসম্যানরা ফর্মে থাকলে যেভাবে খেলে, ও ঠিক সেভাবেই খেলছে। ওর অনুভুতিও অন্যান্যা ব্যাটসম্যানের চাইতে আলাদা। তামিম এক্সট্রা অর্ডিনারি ফর্মে আছে। আমাদের দলের সেরা ব্যাটসম্যানও সে।

আমাদের কাছে মনে হয়েছে ঠিক একাদশই ছিল। কোন চয়েজই ছিল না। মিরাজকে খেলাতেই হত। একজন বোলার থাকলে আগের ম্যাচটাতে ভাল হত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হয়ত ২৬০-২৭০ করতাম তাহলে মিরাজ অনেক কাজে দিত। সবই ঠিক ছিল। কিন্তু মাঝখানে ভাল করতে পারিনি।

প্রথমত হচ্ছে সাব্বির সর্বশেষ আট নয়টা ইনিংস ৩ নম্বরে খেলেছে। ইমরুলের গড়টা অনেক ভাল। এই ধরনের উইকেটে আমরা চাচ্ছিনা যে উইকেট তাড়াতাড়ি পড়–ক। রুম্মন শট খেলতে পারে। উইকেট ধরে রাখার চেষ্টা করছি। পাচজন বোলার নিয়ে খেলতে হবে। ১৬ ওভারের ১৫ ওভারই পেসার দিয়ে করানো হয়েছে। চিন্তাই ছিল, ম্যাচে পেছনে চলে গিয়েছি। কামব্যাক করার চেষ্টা করতে হবে। আমি তাই একটু দুরে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা থেকেই পেসারদের দিয়ে বেশি বল করিয়েছি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :