সন্ধ্যা ৬:৪৩, বৃহস্পতিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ কলাম/ফিচার / অভিজ্ঞতায় তুর্কমেনিস্তান…. পর্ব-০১
অভিজ্ঞতায় তুর্কমেনিস্তান…. পর্ব-০১
জুন ১৯, ২০১৭

মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন রাসেল : আগামী ১৭ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাদে বসতে যাচ্ছে পঞ্চম এশিয়ান ইনডো গেমস ও মার্শাল আর্ট-২০১৭। এ গেমসের বেশ কয়েকটি ইভেন্টে অংশ নেবে বাংলাদেশ। এর আগে দেশ, গেমসের ভেন্যু কতটা প্রস্তুত তা সারা বিশ্বকে জানাতে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানায় তুর্কমেনিস্তান সরকার। যার নাম দেয়া হয়েছিলো ওয়ার্ল্ড প্রেস মিডিয়া ফোরাম। একই সঙ্গে একশ দিনের কাউন্ট ডাউন’র অনুষ্ঠানও করা হয়।
অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস-এআইপিএস’র অন্তর্ভুক্ত সদস্য প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এই সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ক্রীড়া লেখক সমিতি’র সদস্য হিসেবে ৬ জুন দিবাগত রাতে ফ্লাই দুবাই যোগে রওণা হই আমি ও দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র স্পোর্টস রির্পোটার বদিউজ্জামান মিলন।
কয়েক দিনের প্রস্তুতিতে মনের মাঝে অজানাকে জানার নতুন এক আকাঙ্খা তৈরি হয়। নতুন একটি দেশ ভ্রমণ এবং ঐ দেশের জাতি, জাতীয়তাবোধ এবং সংস্কৃতি নিজ চোখে দেখার অজানা আগ্রহ ভর করে ছিলো নিজের স্বত্তায়।
আগে থেকে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা ছিলো আমার জ্ঞান গর্বে। তুর্কমেনিস্তান, মধ্য এশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এর আয়তন প্রায় ৪ লক্ষ ৮৮ বর্গ কিলোমিটার বা ১৮৮ বর্গমাইল। সহজ অর্থে বলা যায়, বাংলাদেশের প্রায় চারগুন। সবশেষ ২০০৬ সালে হিসেব অনুযায়ী দেশটি জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি এগার লাখের কিছু বেশি।
এর উত্তরে কাজাকিস্তান ও উজবেকিস্তান, পূর্বে উজবেকিস্তান ও আফগানিস্তান। দক্ষিণে আফগানিস্তান ও ইরান এবং কাস্পিয়ান সাগর। এই দেশটির হলো ভৌগলিক অবস্থান। এখানকার অধিকাংশ এলাকা সমতল ও বালুময় মরুভুমি। দক্ষিণে ইরানের সাথে সীমান্তে রয়েছে পর্বতমালা।
রাজধানী আশগাবাদ ও দেশটির অন্যতম বৃহত্তম শহর। অধিকাংশ ইমারত মার্বেল পাথরের তৈরি হওয়ায় একে বলা হয় “দ্য সিটি অব মার্বেল”। তুর্কমেনিস্তানের সরকারি ভাষা তুর্কমেন ও রুশ। প্রায় ৮০% জনগণ তুর্কমেন ভাষাতে কথা বলে। রুশ ভাষাতে কথা বলে প্রায় ৮% মানুষ। এছাড়া এখানে প্রচলিত অন্যান্য ভাষার মধ্যে আছে বেলুচি ও উজবেক।

পুর্বে দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিলো। তখন এর নাম ছিলো তুর্কমেন সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। আর ১৯৯২ সালে দেশটিতে চালু হয় নতুন সংবিধান।
বর্তমানে তুর্কমেনিস্তানে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান। কিন্তু সম্প্রতি দেশটি বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যাগ নেয়া হয়েছে। জেনে আমার মতোই অবাক হবেন, তুর্কমেনিস্তান পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে ১৯৯১ সাল থেকে জনগন সরকারের কাছ থেকে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সেবা বিনামূল্যে পাচ্ছে।
এমন মজার সব তথ্য ভাবতে ভাবতে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণ শেষে অবশেষে আমরা পৌছালাম দুবাই এয়ারপোর্টে। প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশাল এই বিমানবন্দরে পা রেখে রীতিমত হতভম্ব আমি। স্থানীয় সময় রাত একটায় লাখো মানুষের পদচারনায় মুখর পৃথিবীর অন্যতম বড় এবং ব্যস্ততম এয়ারপোর্ট।
১২ ঘণ্টার ট্রানজিট শেষে অবশেষে আমরা উঠলাম আশগাবাদের বিমানে। ফ্লাইটে স্থানীয় আধিবাসি ছাড়াও ছিলো আমাদের মতো মিডিয়া ফোরামে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন দেশের ৮২ জন সাংবাদিক।

২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের ভ্রমণ শেখে আশগাবাদ বিমানবন্দরে নামার পর থেকে শুরু আমাদের মুগ্ধতার পালা। আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দরটি সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধায় সয়ং সম্পুর্ন। প্রতিটি পদক্ষপে দেখতে পেলাম ইনডোর এশিয়ান গেমস আয়োজনের প্রমাণ চিত্র।
আয়োজকদের সহযোগীতায় ইমিগ্রেশনের ঝামেলা শেষ করে বিলাস বহুল এসি বাসে করে শুরু হয় আমাদের আশগাবাদ যাত্রা। প্রতি মুহুর্তে মুগ্ধতার ছোঁয়া। বাইরে থেকে বিমানবন্দরটিকে দেখে মনে হচ্ছেছিলো দুই পাখা মেলে এখনোই উড়াল দেবে ঈগল। সামনে যে আরো মুগ্ধতা অপেক্ষা করছে তা বুঝতে বাকি থাকে না।

বিমানবন্দর থেকে হোটেল ১৫ থেকে ২০ মিনিটের পথ। পথের দুই পাশে মার্বেল পাথরে উঁচু উঁচু ভবনগুলো দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যের স্বাক্ষী হয়ে। প্রতিটি ভবনের উপরে একটি ছোট মিনার। তার উপরে তুর্কমেনিস্তানের জাতীয় পতাকা জানান দিচ্ছে নিজের স্বাধীনতার। এ দেখে বুঝতে বাকি রইলো না আগামী সাতটা দিন কাটবে এমন নতুন নতুন চমকে।
পাঁচ তারকা হোটেল রুমে খানিক বিশ্রামের পর ইফতারের জন্য চলে যাই ডাইনিংয়ে। ইফতার ও ডিনার শেষে রাতের আশাগাবাদ দেখার নেশায় পা বাড়াই ডাইনিংয়ের বিশাল করিডোরে। এরপর অবাক, মুগ্ধতা ও অদ্ভুত ভালো লাগার মিশ্রন এক অনুভুতি ভর করে আমার ক্লান্ত শরীর ও মনে। সাথে সাথে নিজের মনের ভাবনায় খেলে যায় আগামী সাতটা দিন হতে যাচ্ছো আমার জীবনের সেরা সাতদিন।
চলবে…

লেখক : মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন রাসেল
স্টাফ রির্পোটার (স্পোর্টস)
এসএটিভি
Mail: rayhanrasel@gmail.com



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :