সকাল ৮:৪২, সোমবার, ২৪শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি / অনুশীলনে উজ্জীবিত বাংলাদেশ
অনুশীলনে উজ্জীবিত বাংলাদেশ
জুন ৪, ২০১৭

প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সাথে ৮ উইকেটে পরাজয় বাংলাদেশের। এতে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের পথটা অনেকটা অনিশ্চয়তায় ঢেকে গেছে টাইগারদের। তবে প্রতিপক্ষ এবার অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের জন্য রীতিমতো অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। সে যাই হোক আইসিসি-র মেইলে টাইগারদের অনুশীলন ভেন্যু হিসেবে ঠিকানা দেয়া ছিল লন্ডন স্কুুল অব ইকনোমিক্সের। কিন্তু জায়গায় পৌছে বুঝা গেলো ‘সকলি গরল ভেল’। কারণ সেখানে ছিল শুধুই ক্যাম্পাস। কোনো খেলার মাঠই নেই। তাদের প্লে গ্রাউন্ড হলো উইম্বলডনের কাছে, সারেতে।
অবশেষে নানা ঝক্কি-ঝামেলা শেষে মাঠে পৌছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই অনুশীলন শেষ। শেষ আধঘন্টা অনুশীলনে দেখা গেছে উজ্জ্বীবিত এক টিম বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের পরাজয়ের হতাশা, কিংবা মলিনতা অথবা গ্লানি- কোনো পিছুটান টাইগার-ক্রিকেটারদের পেয়ে বসেনি। যেনো ভুলেই গেছেন তারা তিনশ’র বেশি রান করেও পরাজয়টা। অনুশীলনের ফাঁকে ফাঁকে সবাই বেশ মজা করছিলেন। কখনো মেতে উঠেছিলেন হাসাহাসিতে।
অনুশীলণ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার মাঠে আসার পর মোস্তাফিজকে নিয়ে সৌম্য-মোসাদ্দেকরা ঠাট্টায় মেতে ওঠেন। মাঠে শুয়ে থাকা মোসস্তাফিজের উপর সৌম্য-মোসাদ্দেক ঝাঁপিয়ে পড়েন। এমনি করেই অনুশীলন আর দুস্টুমি চলছিলো দলের খেলোয়াড়দের। তাতে ইংল্যান্ডের কাছে ৩০৫ রান করেও সহজেই হার মানাতে কারো মনোবলে চিড় ধরেনি। যেনো সবার মাঝে একটা বাড়তি জেদ কাজ করছে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর। সাব্বিরে কথার মধ্যেও সেই সুর। তিনি জানান, ’ইংল্যান্ডের কাছে পরাজয়ের পর আমাদের কারো মনোবলই ভেঙ্গে যায়নি। এখনো সম্ভাবনা আছে সেমিফাইনালে যাওয়ার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’
তিন নাম্বারে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার পরও গত ম্যাচে সেই পজিসন ছেড়ে দেয়াতে সাব্বিরের মাঝে নেই কোন আফসোস কিংবা আক্ষেপ। তার কথায় আছে দলীয় সংহতি। সাব্বিরের কাছে দলের প্রয়োজনটাই আসল। তিনি বলেন, ‘তিন নম্বারে আমি ভালো খেললেও দলের প্রয়োজনটাই আসল। যে কোন পজিশনে আমি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি। এতে আমার কোন সমস্যা হয় না।’
সাব্বির নিজের তিন নম্বার আসন হারালেও মেহেদী হাসান মিরাজ হারিয়েছেন সেরা একাদশের জায়গাটা। সাব্বিরে মতো তার মাঝেও নেই কোন আফসোস। তার কাছেও দলের প্রয়োজনটাই সবার আগে। মেহেদী হাসান মিরাজ জানান, ‘দল যেটা ভালো মনে করেছে, সেটাই করেছে। আল্লাহ তায়ালা যা করেন ভালোর জন্যই করেন।’ প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করার পর, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসল লড়াইয়ে নামার জন্য প্রস্তুতই ছিলেন তিনি। না খেলার বিষয়টি তিনি ম্যাচের দিন সকালেই জেনেছেন।
অধিনায়ক মাশরাফি এবং কোচ হাথুরুসিংকে অনুশীলন শেষে মাঠের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে গভীর মনযোগে শলা-পরামর্শ করতে দেখা যায়। হয়তো আরো একবার অজি-বধের ছক কষছিলেন তখন তারা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :