বিপিএল শুরু ৪ নভেম্বর খেলোয়াড় নিলাম ১৬ সেপ্টেম্বর

বিপিএল শুরু ৪ নভেম্বর খেলোয়াড় নিলাম ১৬ সেপ্টেম্বর

আট দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগÑবিপিএল’র পঞ্চম আসর শুরু হবে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে। খেলোয়াড়দের নিলাম হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার একথা জানায়, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। হোম এন্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টের খেলা এবারও সব বিভাগে আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে এবার সিলেটেও কিছু ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের। এ আর এমনকি। তেমনটা হলে একবছর পর সিলেটে ফিরছে বিপিএলের আসর। কিন্তু বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান জানান, ‘এবার চার, এমনকি পাঁচজন বিদেশি খেলোয়াড় থাকতে পারেন একাদশে। এটা অবশ্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে কথা বলে পরে চূড়ান্ত— করা হবে।’ তখনই নড়েচড়ে বসেন প্রেসমিটে আসা সাংবাদিকরা।
স্থানীয় ক্রিকেটারদের গুরুত্ব বাড়াতে বিগ ব্যাশ বা আইপিএল বিদেশি খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেয়। চারজনের বেশি বিদেশি যেমন থাকতে পারে না আইপিএলের কোনো ম্যাচের একাদশে। বিপিএলে আবার নিয়মটা উল্টো। এখানে কমপক্ষে চারজন বিদেশি খেলোয়াড় রাখতে হয়। কারণ ম্যাচের আকর্ষণ বাড়ানো। এবার সংখ্যাটি আরো বাড়বে।
বাড়ার কারণটা ব্যাখ্যা করলেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সচিব ইসমাইল হায়দার, ‘চার-পাঁচটা ফ্র্যাঞ্চাইজি আবেদন করেছে। যদি একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি দল এবার বাড়ে, বাংলাদেশে তো ভারতের মতো অত প্রতিভা আমাদের নেই। বিপিএল-র মতো কমার্শিয়াল ভেঞ্চারকে প্রমোট করা মত এত লোকাল প্লেয়ার তো আমাদের স্টকে নেই, যারা এত বড় টুর্নামেন্টে নিজেদের মেলে ধরতে প্রস্তুত। ভারতে যে পরিমাণ প্রতিভা আছে, বাংলাদেশে এখনো সেটা খুঁজে পাইনি। আমরা যদি আটটা দল করি, তাহলে আরও সাত-আটজন স্থানীয় খেলোয়াড়ের সরবরাহ থাকতে হবে।’
মজার কথা হলো, আইপিএল, বিপিএল, কিংবা বিগব্যাশের মত টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টগুলোর প্রচলনই হয়েছিলো মূলত দেশের উদিয়মান ক্রিকেটারদের বিশ্বমঞ্চে পরিচয় করানোর লক্ষ্য থেকে। অন্য সব দেশ এই নীতি মেনে চললেও, বাণিজ্যিক ফায়দা নেয়ার অজুহাতে বিপিএলে, নিয়মটা শিথিল করা হলো। অন্তত চারজন বিদেশি খেলোয়াড় প্রতি ম্যাচে একাদশে রাখতেই হবে। ফ্রেঞ্চাইজিদের দাবির অজুহাতে আরও একবার প্রমান হলো বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ অবস্থা। ফ্র্যাঞ্চাইজি সামলানোর মতো কোনো শক্তি বা যুক্তি-বুদ্ধিই নেই তাদের। তাই অবধারিতভাবে প্রশ্ন ওঠে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রতিটি দলে মাত্র একজন বিদেশি খেলোয়াড় সুযোগ পান। প্রিমিয়ার ক্রিকেটের মান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়েও প্রশ্ন নেই। সেখানে যদি স্থানীয় খেলোয়াড় জোগানে কোনো ঘাটতি না হয়, বিপিএলে হয় কী করে?
এদিকে, দলসংখ্যা বাড়ার আগেই খেলার পরিসর খানিকটা বাড়ানোর ইচ্ছে ছিলো এবার আয়োজকদের। হোম এন্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে সব দলই প্রত্যেক প্রতিপক্ষের সাথে দু’বার মুখোমুখি হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে হোম ম্যাচ পায় না বেশিরভাগ দলই। এবার খানিকটা এগোনোর কথা শোনালেন আয়োজকরা। সিলেটই হবে এবারের বিপিএল আসরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর তৃতীয় ভেন্যু।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD