সকাল ৮:৪১, বুধবার, ২৬শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নিয়ে উচ্ছ্বসিত তারা
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নিয়ে উচ্ছ্বসিত তারা
এপ্রিল ১৮, ২০১৭

রোববার রাত থেকেই ফেসবুক সয়লাব ছবি আর নানা প্রতিক্রিয়ায়। একটা সময় ছিল যখন বড় প্রাপ্তির পর কারো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেতো মিডিয়ায়। এখন আর সে অপেক্ষা নয়, কিছু অর্জন আর প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিজেরাই জনাচ্ছেন প্রতিক্রিয়া। সেটা সব ক্ষেত্রেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে একসঙ্গে ৩৩৯ জন ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করেছেন। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, শ্যূটিং, সুইমিং, দাবা, ভারোত্তোলন, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, আরচারি, হ্যান্ডবল, রোলার স্কেটিং, প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদসহ বিভিন্ন খেলার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল গণভবন।

অক্টোবর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দলীয় কিংবা ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেয়া ক্রীড়াবিদরাই ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনায় আমন্ত্রিত। স্বর্ণ, রৌপ্য বা ব্রোঞ্জজয়ী নয়- প্রধানমন্ত্রীর চোখে ছিলেন সবাই সমান। ৩৩৯ জনকে দেয়া অর্থ পুরস্কারও তাই সমান। প্রত্যেকের হাতে ১ লাখ টাকা করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে বাড়তি আনন্দ ছিল গত এসএ গেমসে স্বর্ণ পাওয়া তিন ক্রীড়াবিদ সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা, ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত আর শ্যূটার শাকিল আহমেদের। রাজউকের উত্তরায় নির্মিত ফ্ল্যাটের চাবিও তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এসএ গেমসের পর এ পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

Mabia

কেউ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পুরস্কারের অর্থের চেকের ছবি, কেউ পুরস্কার গ্রহনের ছবি, কেউ ফ্ল্যাটের চাবির ছবি, কেউ ডিনারের ছবি, কেউ গল্প করার ছবি পোস্ট করে ভরিয়ে ফেলেছেন ফেসবুকে নিজেদের ওয়াল। ছিল নানা রকম প্রতিক্রিয়াও। সেখানে বেশি ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এমন রাত তো আগে কখনো আসেনি।

শিলা, মাবিয়া ও শাকিল প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ফ্ল্যাটের চাবি গ্রহণকে তাদের জীবনের সেরা মুহুর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মাবিয়া বলেছেন, ‘দেশের কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছি। এখন আমাদের দেশকে দেয়ার পালা।’ শাকিল বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে মা বলে ডেকেছি। আমাদের দায়িত্ব এখন আরো বেড়ে গোলো।’

Rony

দেশের খেলাধুলায় পরিচিত মুখ ‘দাবার রানী’ রানী হামিদ থেকে শুরু করে এ প্রজন্মের খেলোয়াড় শ্যূটার শাকিল আহমেদ, রোলবল খেলোয়াড় আফিস হোসেন হৃদয়, আরচারির হিরামনি, ব্যাডমিন্টনের ইরিনা সবার মুখেই প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা। সবার দৃঢ়বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর এমন উপহার বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আরো ভালো পারফরমেন্স করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

আমরা তো আন্তর্জাতিকভাবে ভালো রেজাল্ট করলেও কেউ খোঁজ নেয় না। সবাই মেতে থাকে ক্রিকেট নিয়ে- অন্যান্য ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের এমন অনুযোগ শোনা যেত; কিন্তু রোববার রাতের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৩৩৯ জনকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠানের পর ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের ধারনাও বদলে গেছে। তারা যে বড় পাওয়াটাই পেয়েছেন-প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়েছেন পুরস্কার।

গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের প্রতিক্রিয়া ছিল এরকম, ‘এটা একটা বিশাল সম্মান। এতটা আশা করার সাহসই পাইনি। এটা ক্রীড়াঙ্গনের নজিরবিহীন ঘটনা এটা। আমি আন্তরিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

Three

রানী হামিদ বলেছেন, ‘অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। এত বড় মর্যাদা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এটা বিশাল পাওয়া। তিনি খেলোয়াড়দের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। সবার দায়িত্বও বেড়ে গেল।’

শাটলার মিনহাজের প্রতিক্রিয়া, ‘গনভবনে প্রথম গেলাম। অনেক ভালো লাগছে। ৯ বছর ধরে খেলছি; কিন্তু এমন স্বীকৃতি আগে কখনো পাইনি।’

আর্চারি হীরামনির কথা, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নিয়েছি। জীবনের প্রথম আর্থিক পুরস্কার। তাও প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে। এজন্যই বেশি ভালো লাগছে।’ হকি খেলোয়াড় মামুনুর রহমান চয়ন বলেছেন, ‘এ সংবর্ধনার মাধ্যমে প্রমান হলো প্রধানমন্ত্রী কেবল নির্দিষ্ট কোনো খেলার নন, সবার।’

রোলবল অধিনায়ক দীপ্র  বলেছেন, ‘এ পুরস্কার আমাদের আগামীতে ভালো খেলতে আরো অনুপ্রারিণত করবে।’ ভলিবল খেলোয়াড় সাঈদ আল জাবিরের প্রতিক্রিয়া ‘এটা অন্যরকম এক অনুপ্রেরণা। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার, কল্পনার বাইরে ছিল আমার।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :