দুপুর ১:২৬, মঙ্গলবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / লাকমাল আউট না নটআউট!
লাকমাল আউট না নটআউট!
মার্চ ১৯, ২০১৭

কলম্বোয় তখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা। দুই আম্পায়ার আলিম দার ও এস রবি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমকে জানিয়ে দিলেন, এটাই দিনের শেষ ওভার। আগের ওভারে প্রেস বক্স প্রান্ত থেকে বল করছিলেন তাইজুল ইসলাম।

প্রথমে তার হাতেই বল। তাইজুল বোলিংয়ের প্রস্তুতি প্রায় নিয়েও ফেললেন; কিন্তু হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদল। সাকিবের সাথে কথা বলে বাঁ-হাতি তাইজুলকে বাদ দিয়ে অধিনায়ক মুশফিক বল তুলে দিলেন অফব্রেক বোলার মোসাদ্দেকের হাতে।

ঢাকা লিগ তথা ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত বল করলেও জাতীয় দলে অনিয়মিত বোলার হিসেবেই গণ্য এ অফস্পিনার। হয়তো একটু বৈচিত্র্য আনার জন্যই তার হাতে বল তুলে দেয়া। কে জানতো, মোসাদ্দেকের করা দিনের শেষ ওভারের ছয় নম্বর বলটিই আলোচনার খোরাক হবে।

মোসাদ্দেকের করা দিনের শেষ ডেলিভারিটি ঠিকমত খেলতে পারলেন না লাকমাল। এ লঙ্কান পেসারের ব্যাটের ওপরের অংশ, গ্লাভস ও প্যাড ছুঁয়ে বল চলে গেল ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ওঁত পেতে থাকা সাব্বির রহমান রুম্মনের হাতে।

‘হাউ ওয়াজ দ্যাট’- সবাই মিলে সমস্বরে ক্যাচ আউটের আবেদন। আম্পায়ার আলিমদার আঙ্গুল না তুলে মাথা নাড়লেন। মাথা নাড়া মানে কিন্তু ‘না’ বোধক নয়। সম্মতিসূচক মাথা ঝাঁকানো যাকে বলে। লাকমালও সাজঘরের দিকে ঘুরে এক দুই পা হাঁটা দিয়েছিলেন।

কিন্তু পরক্ষণে কী ভেবে আবার চুপ হয়ে গেলেন। আম্পায়ার একবার আউটের সম্মতি জানালেন। আরেকবার ব্যাটসম্যানের সঙ্গে কথা বলে জানালেন, নট আউট। এরপর রিভিউ নিলো বাংলাদেশ। রিভিউতে দেখা গেলো, লাকমাল নটআউট।

আম্পায়ার আলিম দারের ওই প্রথমে মাথা ঝাকিয়ে হ্যাঁ সূচক চিহ্ন দেখানো এবং এরপর লাকমালের সঙ্গে ইঙ্গিতে কথা বলে সেই ‘হ্যাঁ’কে না‘তে রূপান্তরিত করা- সব মিলে একটা অন্যরকম পরিবেশ। মুশফিক, সাকিব, তামিম, মোস্তাফিজ, মিরাজ, সাব্বির, সৌম্য, মোসাদ্দেক, তাইজুল সবার চোখে মুখে হতাশা।

টিভি রিপ্লেতেও আসলে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল না, বল লাকমালের গ্লাভস কিংবা ব্যাটের ওপরের অংশ ছুঁয়ে ফিল্ডার সাব্বিরের হাতে গেছে কি না? দেশে বসে টিভিতে দেখে নিশ্চয়ই কোটি কোটি বাংলাদেশ ভক্তেরও মন খারাপ, এ কি করলেন আলিমদার? কেনইবা প্রথমে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লেন? কেনইবা পর মুহুর্তে আবার নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া?

সব মিলে একটা গুমোট আবহাওয়া। তবে ভাবার কোন কারণ নেই, লাকমাল আউট না হওয়ায় রাজ্যের হতাশা এসে ভর করেছে বাংলাদেশ শিবিরে। তবে হ্যাঁ, ওটা আউট ছিল কি না? তা নিয়ে রাজ্যের কথা হয়েছে। বারবার টিভি রিপ্লে দেখা হয়েছে। খেলা শেষে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রায় ৪০ মিনিটের টিম মিটিংয়ে অর্ধেক সময় কেটেছে ওই আউট নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনায়।

তাহলে কি লাকমাল আউট ছিলেন? টিভি আম্পায়ারও ভুল করলেন? তাদের ভুলে নয় উইকেটে ২৬৮ রানের বদলে আট উইকেটে দি শেষ করলো হেরাথের দল? নিশ্চয়ই দেশে তোলপাড় চলছে। আলিমদারের গোষ্টি উদ্ধার হচ্ছে ঘরে ঘরে।

তার সমালোচনা হতেই পারে। এদিন অন্তত সাতটি রিভিউ হয়েছে। বেশিরভাগ গেছে লঙ্কানদেও পক্ষে। বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত আবার আম্পায়ার কল ছিল না। সে কারণেই আলিম দারের খেলা পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন। আর তাই দিন শেষে বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থকদের কাছে ‘ভিলেন’ আলিম দার।

সবার একটাই কথা, ‘ইস! নবম উইকেটে ৩০ রানের জুটি হয়ে গেছে। আজ শেষ বলে লাকমাল আউট হওয়া মানে কাল সকাল সকাল লঙ্কান দ্বিতীয় ইনিংসের যবনিকা। তখন বড়জোর দেড়শো রানের টার্গেট দাঁড়াবে। সারাদিনে ওই রান, ঠান্ডা মাথায় খেলেই লক্ষ্যে পৌঁছানো যেত। এমন ভাবনায় দিনের শেষ বলের ঘটনাটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সবার কাছে।

যার বলে লাকমালের ক্যাচ আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা নাটক, সেই মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত খেলা শেষে অফিসিয়াল মিডিয়া সেশনে বললেন, ‘শেষ বলে আম্পায়ারকে দেখেই আমরা রিভিউটা নিই। আম্পায়ারের প্রতিক্রিয়া দেখে আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। এজন্য আমরা রিভিউটা নিয়েছি। উনি প্রথমে মাথা ঝাঁকানোতে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। ওই সময় ভাবছি, রিভিউটা নিলে হয়তো আউটের চান্স আছে। ব্যাটসম্যান বেরিয়ে যাচ্ছিলো কি না, সেটা খেয়াল করিনি। আম্পায়ারের প্রতিক্রিয়ার দিকেই লক্ষ্য করেছিলাম।’

তবে ভক্ত ও সমর্থকদের জন্য আছে স্বান্তনার বাণী। প্রেস কনফারেন্সের পর হোটেলে ফেরার আগে কম্পিউটার অ্যানালিস্ট বারবার ওই ভিডিও ফুটেজ দেখিয়েছেন সবাইকে। স্টেডিয়াম থেকে হোটেলের পথে বাসে ওঠার আগে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সুযোগ ও অবকাশ নেই।

এর মধ্যেও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জাগো নিউজের সাথে খানিক্ষণ কথা বললেন। স্মিত হেসে খালেদ মাহমুদ জানিয়ে দিলেন, ‘নারে ভাই আমরা ড্রেসিং রুমে বেশ কবার ভিডিও দেখলাম। আউট হয়নি। বল ব্যাট বা গ্লাভসে লাগেনি লাকমালের।’

সহ অধিনায়ক তামিম ইকবালও মাথা নাড়িয়ে জানিয়ে মাঠ ছাড়লেন, ‘না ওটা আউট হয়নি।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :