সন্ধ্যা ৬:৫৩, বৃহস্পতিবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / মহানামা-কালুভিথারানার সাথে জমজমাট আড্ডা হাথুরুর
মহানামা-কালুভিথারানার সাথে জমজমাট আড্ডা হাথুরুর
মার্চ ২৩, ২০১৭

সূর্য্যরে দিকে তাকানো যায় না। ঝাঁঝালো রোদে চোখ আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে আসে। গরম তো নয়, যেন আগুনের হলকা এসে লাগছে শরীরে। স্থানীয় এক দর্শক রসিকতা করে বলে উঠলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ওয়ানডে সিরিজের আগে আর গা গরমের দরকার হবে না। এমন কাঠফাটা কড়া রোদে খেললে আপনা-আপনি শরীর গরম থাকবে।’

এমন তীব্র-অসহনীয় গরম ও প্রচন্ড আর্দতার মাঝেও কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত আনুমানিক পাঁচ থেকে সাত‘শো ক্রিকেট অনুরাগী। সবার চোখ স্থির হয়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের দিকে।

মাশরাফি কেমন বল করলো? তাসকিন কত জোরে ডেলিভারি দিচ্ছে, এবারই প্রথম দলে আসা বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুলের বলে টার্ন কেমন? আচ্ছা কিপিং না করুক, মুশফিক ব্যাটিং করবেন তো! সৌম্য সরকারের হাতে কি হয়েছে- ফিল্ডিং করলেন না যে?

কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের প্যালিয়নের পাশে ছোট্ট একটু জায়গা খানিক গ্যালারির আদলে তৈরি। সেখানে বাংলাদেশের সাংবাদিক- ফটো সাংবাদিক এবং ঢাকা থেকে সিরিজ দেখতে আসা দুই ক্লাব অফিসিয়াল ফটিক ও রুবেলের কাছে প্রশ্ন স্থানীয় দর্শক-সমর্থকদের।

আবার পরের অংশে সাব্বির রহমান রুম্মনের ব্যাটিং দেখে আরেক লঙ্কান সাপোর্টারের তাতক্ষণিক মন্তব্য- এই তরুণ তো দারুণ স্ট্রোক খেলে! এ তো গেল স্থানীয় দর্শক ও সমর্থকদের ভাষ্য। এর বাইরে আরও চোখ মাশরাফি বাহিনীকে পাখির চোখে পরখ করতে থাকলো। তবে নিরবে-নিভৃতে।

লঙ্কান প্রধান নির্বাচক সনাথ জয়সুরিয়া আর তার সাবেক ওপেনিং পার্টনার ও শ্রীলঙ্কার বর্তমান নির্বাচক কমিটির অন্যতম সদস্য রমেশ কালুভিথারানা। তাদের সাথে এ ম্যাচ মন দিয়ে দেখলেন বর্তমান লঙ্কান ম্যানেজার ১৯৯৬‘র বিশ্বকাপ বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য অশাঙ্ক গুরুসিংহে।

তারা সবাই ম্যাচের বড় অংশ দেখলেন প্যাভিলিয়নে বসে। এ বহরের সাথে সকালে ঘণ্টা খানেকের বেশি সময় মাঠে কাটালেন সাবেক লঙ্কান অধিনায়ক রোশন মহানামাও। সকালে বাংলাদেশের ফিল্ডিং সেশনে বাংলাদেশের কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে আর ব্যাটিং উপদেষ্টা সাবেক লঙ্কান ক্রিকেটার থিলান সামারাবিরাও এসে যোগ দিলেন ওই তিন সাবেক লঙ্কান ক্রিকেটারের সাথে।

এক সময় প্যাভিলিয়নের বাঁ-দিকে গাছের নিচে এক প্রাণবন্তু আড্ড জমে উঠলো। মহানামা, কালুভিথারানার সাথে এসে যোগ দিলেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে আর ব্যাটিং কোচ থিলান সামারাবিরাও। প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে চললো ওই আডডা।

একসঙ্গে শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্মৃতি, এই কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠের স্মতিচারণসহ অনেক কথাই বলাবলি করলেন তারা। পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা শুনে গেলাম শুধু; কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না। কারণ, তাদের কথোপকথন স্থানীয় ‘সিংহলিজ’ ভাষায়।

মহানামা আর কালুভিথারানার মত ক্রিকেটার চোখের সামনে, ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ বিজয়ে যাদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের আছে বড় ভূমিকা। এমন দুই ক্রিকেটারের সাথে কথা বলতে উন্মুখ বাংলাদেশের সাংবাদিকরা।

কিন্তু মহানামা আর কালুভিথারানার কেউ কথা বলতে চাইলেন না। আজকাল যিনি আইসিসির এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি, সেই মহানামা একদম বিনয়ের সাথে হাতজোড় করে না করে দিলেন। ‘সরি ডিয়ার। নেভার মাইন্ড।’ আমি কথা বলবো না। তোমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছো, খুব ভাল কথা। আমার দেশ উপভোগ করো। দেশটা ঘুরে দেখো। চমৎকার দেশ। মানুষও খুব মিশুক। আশা করি তোমাদের ভাল লাগবে। তবে আমি তোমাদের সাথে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলবো না।’

মহানামার মত পাশ কাটিয়ে গেলেন নির্বাচক কালুভিথারানাও। বলা হলো তার বর্তমান নির্বাচক জীবন নিয়ে একটি কথাও জিজ্ঞেস করা হবে না। তার ক্যারিয়ার আর ঢাকায় খেলার স্মৃতিচারণ- এসবই হবে।

প্রথমে জানালেন আচ্ছা একটু পর বলি। এই বলে স্থানীয় বন্ধুদের সাথে আড্ডায় জড়িয়ে পড়লেন। ঘণ্টাখানেক পর যখন বলা হলো, ভাই আপনি কি তৈরি? তখনই অনুনয়, ‘প্লিজ, মাইন্ড করো না। কেউ ব্যক্তিগতভাবেও নিয়েন না। আসলে আমি লঙ্কান ক্রিকেটের সাথে চুক্তিবদ্ধ। আর আমার ক্যারিয়ার ও ঢাকা লিগ খেলার স্মৃতি নিয়ে নতুন করে কি বলবো?’ এভাবেই বাংলাদেশ প্রচার মাধ্যমকে পাশ কাটিয়ে গেলেন তিনি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :