রাত ১১:২২, সোমবার, ২৬শে জুন, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / প্রচণ্ড গরমে তিন পেসার খেলানোয় কী লাভ হলো?
প্রচণ্ড গরমে তিন পেসার খেলানোয় কী লাভ হলো?
মার্চ ৮, ২০১৭

সেই গতকাল টসের পর যখন একাদশ ঘোষণা হলো, ঠিক তখন থেকেই সবার মনে প্রশ্ন- আচ্ছা, গলে তিন পেসার খেলানো কেন? গলের আবহাওয়া শুষ্ক ও আর্দ্র- সবার জানা। রোদের তেজ প্রচণ্ড। সকাল ১০টার পর থেকে এত গরম যে খোলা আকাশের নিচে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন। প্রচণ্ড গরম। তাপমাত্রা যে অস্বভাবিক; তা নয়।

গতকাল আর আজকের গড় তাপমাত্রা ৩২ সেলসিয়াস। আর্দ্রতাও খুব বেশি নয়; ৬৬ %। কিন্তু গরমের প্রচণ্ডতা খুব বেশি। ভৌগোলিক কারণে এ অঞ্চলে সূর্য লম্বাভাবে কিরণ দেয়। যে কারণে সূর্যের উত্তাপটা সরাসরি বেশি লাগে।
অন্য যেকোনো মাঠের চেয়ে গলে পেসারদের বল করাও কঠিন কাজ। কারণ পেসাররা লম্বা রান-আপে বল করেন, তাই তাদের বাড়তি শক্তি ক্ষয় হয়। ঘেমে নেয়ে ওঠেন।

শরীরও দুর্বল হয়ে যায়। পুরো গতি ও সর্বোচ্চ উদ্যমে বল করা হয়ে ওঠে না। তাই পেসারদের এই মাঠে লম্বা স্পেলে বল করার রেকর্ডও কম। এসব জেনেও তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামা। কিন্তু প্রথম ইনিংসে তিন পেসার খেলানোর কি কার্যকারিতা মিললো? পরিসংখ্যানই তার জবাব দেবে।

পরিসংখ্যান সাক্ষী দিচ্ছে, তিন পেসারের চেয়ে দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান তুলনামূলক সফল। তারা দুজন মিলে পেয়েছেন ৫ উইকেট। যে পাঁচ স্পেশালিস্ট বোলার বল করেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে সফল মেহেদী হাসান মিরাজ। এ অফস্পিনারের ঝুলিতে জমা পড়েছে চারটি। আর সাকিব পেয়েছেন একটি।

অন্যদিকে তিন পেসার মোস্তাফিজ (২৫ ওভারে ২/৬৫), তাসকিন (২১ ওভারে ১/৭৭) ও  শুভাশিস (২৪ ওভারে ১/১০৩) মিলে ভাগ করেছেন চার উইকেট। আগেই জানা- গলের উইকেট প্রথম দুই দিন ব্যাটিং-বান্ধব। ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে গল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচ প্রথম দিকে সব সময়ই ব্যাটসম্যানদের পক্ষে থাকে।

মানে প্রথম ইনিংসে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে ব্যাটসম্যানরে পাল্লাই ভারি থাকে। চার বছর আগে এই মাঠে বাংলাদেশ যেবার সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছিল, সেবারও ওই একই চিত্র ছিল। প্রথম ইনিংসে দু’দলের স্কোর ছিল সাড়ে পাঁচশো‘র ওপরে। কুমার সাঙ্গাকারা (১৪২), লাহিরু থিরিমান্নে (১৫৫) ও দিনেশ চান্দিমালের (১১৬*) শতরানে ভর করে প্রথমবার লঙ্কানদের স্কোর দাঁড়ায় ৫৭০/৪ (ডি.)।

জবাবে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরি (২০০), মোহাম্মদ আশরাফুল (১৯০), মুমিনুল (৫৫) ও নাসির (১০০) উইলোর দৃঢ়তায় বাংলাদেশ খুঁজে পায় ৬৩৮ রানের বিশাল স্কোর। এই মাঠে আগে হওয়া ২৮ টেস্টের ২২ টিতে ফল নিষ্পত্তি হয়েছে। ১৬ টিতে জিতেছে লঙ্কানরা। ৬ বার জিতেছে অতিথি দল। আর ৬ টেস্ট ড্র হয়েছে।

এই মাঠের সবচেয়ে বড় স্কোর বাংলাদেশের (৬৩৮), সেটা স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৩ সালের মার্চে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে সবচেয়ে বড় রানের ইনিংসটি ক্যারিবীয় উইলোবাজ ক্রিস গেইলের ৩৩৩ (২০১০-২০১১ মৌসুমে)।

এরপরের পরিসংখ্যানটিই একটু ভালো করে লক্ষ্য করবেন, গল স্টেডিয়ামে সেরা বোলিং ও ম্যাচসেরা বোলিং-দুটাই এক স্পিনারের। সেটা আর কেউ নন, লঙ্কান ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা তথা বিশ্ব ক্রিকেটের সব সময়ের সফলতম অফস্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনের। এই মাঠে এক ইনিংসে সেরা বোলিং (৭/৪৬, ২০০৩-২০০৪ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে)। আর এক টেস্টে দুই ইনিংস মিলে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের রেকর্ডটিও মুরালিধরনের। সেটা ২০০০-২০০১ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

যে মাঠের উইকেট শুরুতে ব্যাটিং-বান্ধব, যে উইকেটে পরিষ্কার স্পিনারদের রেকর্ড সমৃদ্ধ- সেখানে জেনে-বুঝে তিন পেসার খেলানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। তা-ও মানা যেত পেসাররা তেমন কিছু করে দেখাতে পারলে।
প্রথম দুদিন উইকেট শতভাগ ব্যাটিং সহায়ক। পরের দিনগুলোতে কি পেসাররা বাড়তি সাহায্য পাবেন?

ইতিহাস তা বলে না। টেস্টের তৃতীয় দিন কিংবা চতুর্থ দিন যদি কোনো উইকেট বোলারদের দিকে ঝুঁকে, তাহলে সেটা হয় স্পিনারদের পক্ষে। এখন এই পিচে দ্বিতীয় ইনিংসের বোলিংটাও খুব ভাইটাল। সেখানে একজন বাড়তি স্পিনার মানে তাইজুল ইসলাম থাকলে কি আরও ভাল হত না? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে হয়তো শেষ সেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :