সকাল ৮:১২, বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুন, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / ‘নো’ বলের হতাশা, মেন্ডিসের সেঞ্চুরি
‘নো’ বলের হতাশা, মেন্ডিসের সেঞ্চুরি
মার্চ ৭, ২০১৭

প্রভাতের সূর্যই নাকি বলে দেয় দিনের পূর্বাভাস। কিন্তু এবার তো উল্টো হলো! পূর্বের সূর্য তখন গল স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচাকে রূপালি রূপে রাঙিয়ে তুলছিল। বাংলাদেশের জন্য রূপালি সকালের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু দিন শেষে চোখে মুখে বিষাদের ছায়া, কন্ঠে হতাশার সুর! কে জানত, পশ্চিমের কোলে যখন সূর্য ডুববে, তখন ব্যাকফুটে থাকবে বাংলাদেশ।

গলে টস জিতে বংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ে পাঠিয়ে শ্রীলঙ্কা প্রথম দিন শেষে তুলেছে ৪ উইকেটে ৩২১ রান। কুশল মেন্ডিস বাংলাদেশকে একাই ভুগিয়েছেন। তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ১৬৬ রান। কিন্তু দিন শেষে তার ‘আউট’ নিয়েই আফসোস বাংলাদেশের!

পেসার শুভাশীষ রায়ের বাড়তি পেস ও সুইংয়ে উইকেট হারানো থারাঙ্গার ফিরে যাবার পর ক্রিজে আসেন মেন্ডিস। নতুন ব্যাটসম্যান মেন্ডিসকেও দারুণ এক ইনসুইংয়ে আমন্ত্রণ শুভাশীষের। শরীর কাছের বল কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মেন্ডিস। আউট হয়েছেন বুঝতে পেরে নিজেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। পাকিস্তানের আম্পায়ার আলীম দারও মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ মেন্ডিসকে পেছন থেকে ডেকে আলীম দার বললেন, ‘একটু অপেক্ষা কর। নো বল চেক করছি’। মহাবিপদ! টিভি রিপ্লেতে চেক করে আম্পায়ার জানালেন, ‘গেট ব্যাক। ইটস নো বল’! অসাধারণ বল ও দুর্দান্ত ক্যাচের অপমৃত্যু! আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর টাইগার দলপতি মুশফিকুর রহিম রাগ ঝেরেছেন শুভাশীষের ওপর!

যার নামের পাশে থাকত না কোনো রান, সেই ব্যাটসম্যান ১৬৬ রানে অপরাজিত! তার সঙ্গে ১৪ রানে অপরাজিত আছেন নিরেশান ডিকভেলা। সাজঘরে ফিরেছেন উপুল থারাঙ্গা (৪), দিমুথ করুনারত্নে (৩০),  দিনেশ চান্দিমাল (৫), আসেলা গুনারত্নে (৮৫)। বাংলাদেশের হয়ে একটি করে সাফল্য এনে দিয়েছেন শুভাশীষ রায়, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ।

সাফল্য-ব্যর্থতায় কোনোভাবে প্রথম দিন শেষ হলেও বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে কিছুটা হলেও প্রশ্ন উঠছে। গলে প্রথম তিন দিন ব্যাটসম্যানের, শেষ দুদিন বোলারদের- এখানকার গ্রাউন্সম্যানদেরও এ পরিসংখ্যান মুখস্ত। সেখানে বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে তিন পেসার নিয়ে, স্বাগতিকেরা তিন স্পিনার নিয়ে। তৃতীয় ও চতুর্থ ইনিংসে স্পিনাররা  ফল বের করতে বড় ভূমিকা রাখবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাসকিন ও মুস্তাফিজ অটোমেটিক চয়েজ হিসেবে একাদশে ঢুকেছেন। সেখানে কামরুল ইসলাম রাব্বিকে টপকে একাদশে শুভাশীষ। তবে তার প্রথম স্পেলের বোলিং সবার মন জয় করেছে ঠিকই। ইনজুরি থেকে ফিরে এসে মুস্তাফিজ দারুণ বল করেছেন। উইকেট টু উইকেটে একাধারে বল করে গেছেন। তাসকিনও ভালো হাত ঘুরিয়েছেন।

থারাঙ্গাকে দিনের শুরুতে হারানোর পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। ৪৫ রানের জুটি গড়েন মেন্ডিস ও করুনারত্নে। মধ্যাহ্ন বিরতির ৯ বল আগে এ জুটি ভাঙেন স্পিনার মিরাজ। ডানহাতি এ স্পিনারের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেট হারান ৩০ রান করা করুনারত্নে। মধ্যাহ্ন বিরতির পর দিনেশ চান্দিমালকে সাজঘরে পাঠান মুস্তাফিজ। নিজের তৃতীয় স্পেলে এসে প্রথম সাফল্য পান ‘কাটার মাস্টার’। মুস্তাফিজের ফুলার লেংথ বল ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন ৫৪ বলে ৫ রান করা চান্দিমাল। এরপর বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন মেন্ডিস ও গুনারত্নে। ১৯৬ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটসম্যান। চা-বিরতির আগে ৮০ রানে অপরাজিত থাকা মেন্ডিস বিরতির ঠিক পরে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন। এরপর খুব অল্প সময়ে পৌঁছে যান দেড়শতে। অন্যদিকে গুনারত্নেও হাঁটছিলেন সঙ্গীর দেখানো পথে। কিন্তু নতুন বলে তাসকিন আটকে দেন তাকে। নতুন বল নিয়ে তাসকিন ৮৩তম ওভারের পঞ্চম বলে বোল্ড করেন গুনারত্নকে। তাসকিনের শর্ট বল পুল করতে গিয়ে উইকেট হারান ১৩৪ বলে ৮০ রান করা গুনারত্নে।

হাসি-মুখে দিন শুরু করা বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে ‘নো’ বলের হতাশা নিয়ে। ইশ, শুভাশীষ রানআপটা ঠিক রাখলে গলের প্রথম দিনটি হতে পারত শুধু বাংলাদেশের!



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :