বিকাল ৪:০৯, শুক্রবার, ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / নিজের আউটের অদ্ভুত যুক্তি দাঁড় করালেন মুশফিক!
নিজের আউটের অদ্ভুত যুক্তি দাঁড় করালেন মুশফিক!
মার্চ ১২, ২০১৭

গল টেস্টের দুই ইনিংসেই বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানরা লেগস্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে আউট হয়েছেন। প্রথমবার তামিম ও সাকিব আর দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহীম।

তামিম-সাকিব না হয় একটু বেশি শটস খেলতে পছন্দ করেন, উচ্চাভিলাষী শট খেলার প্রবণতা বেশি। তারা না হয় স্বভাবজাত কারণেই খেলে ফেলছেন। কিন্তু অধিনায়ক মুশফিক তো অমন নন। তিনি তো অনেক ধীর-স্থির। তার মাঝে লেগস্ট্যাম্পের বাইরের বল তাড়া করার প্রবণতা আসলো কীভাবে? এটা কি সংক্রমিত হলো?

মুশফিক বোঝানোর প্রাণপণ চেষ্টা করলেন, ওই শট খেলা ঠিকই ছিল। শুধু শটটা পারফেক্ট হয়নি। তাই মুখে এমন কথা, ‘সেদিন লেগ স্লিপ ও শর্ট লেগ কিছুই ছিল না। ফিল্ডার ছাড়া খালি জায়গায় বল পাঠাতে গিয়েই সাকিব ব্যাট চালিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বল ব্যাটের জায়গামতো লাগেনি।’

এটুকু বলে শেষ করলে মানা যেত। কিন্তু তা না করে আজ সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক যা বলেছেন, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। আজ দলের চরম বিপর্যয়ে তিনি নিজেও লক্ষ্মণ সান্দাকানের লেগস্ট্যাম্পের অন্তত এক ফুট বাইরের বলকে তাড়া করে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়েছেন।

টেস্টে লেগস্ট্যাম্পের অত বাইরে পিচ করা ডেলিভারির পিছু তাড়া করেন না কেউ। মুশফিক সেটাকে ভুল না বলে উল্টো নিজের সাফাই গাইলেন, ‘ওটা তো বাইরের বল। মারতে হলে বাইরের বলকেই মারতে হবে। উইকেটের বল তো আর মারা যাবে না। তাতে আউটের সম্ভাবনা থাকবে। তাই বাইরের বলে ব্যাট চালানো। খেলার উদ্দেশ্য ও শট ঠিকই ছিল। বলতে পারেন, শটটা পারফেক্ট হয়নি। ব্যাটের জায়গা মতো লাগেনি। সাকিবেরও না, আমারও নয়। শর্ট লেগ ও লেগ স্লিপ ছিল না। লাগলে রান পেতাম।’

ওপরের এ কথাটিই জন্ম দিয়েছে অনেক বড় প্রশ্নের। এ কি বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক? এটা কি ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি খেলা যে বাইরের বল পেলেই মারতে হবে? এটা টেস্ট। পাঁচ দিনের ম্যাচ। এখানে রান করার তাড়া অনেক কম। মারার চেয়ে ঠেকানোর অভ্যাস বেশি দরকার।

তারপরের কাজ হলো বল ছাড়া। অফস্ট্যাম্প ও লেগস্ট্যাম্পের বাইরে পিচ পড়া ডেলিভারি, যেগুলোতে বোল্ড বা এলবিডব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, সেগুলো ছেড়ে দেয়াই উত্তম। টেস্ট ক্রিকেটে যারা বড় ও সফল ব্যাটসম্যান বলে পরিগণিত তারা সবাই তা-ই করেন। বরং ব্যাট পেতে দিলে উইকেটের পেছনে ক্যাচে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

সেখানে মুশফিক বলছেন, ওই সব বল থেকেই রান করতে হবে। তার ভাষায়, উইকেট সোজা বল মারা যাবে না। ক্রিকেটের কোন মহাগ্রন্থে আছে উইকেট সোজা ডেলিভারি মারা যাবে না? টেস্টে মারার বল হলো ওভার পিচ, হাফ ভলি। সেটা উইকেট সোজাই হোক কিংবা একটু বাইরে।

একবার ভাবুন তো, বিরাট কোহলি যদি উইকেটে এসেই মিডল স্ট্যাম্প সোজা হাফ ভলি পান, তিনি কি ছেড়ে দেবেন? প্রশ্নই ওঠে না। বাঁ পা বাড়িয়ে হয় মিড অফ, মিড অন না হয় কভার দিয়ে কিংবা সোজা বোলারের পাশ দিয়ে ড্রাইভ খেলে সীমানার ওপারে পাঠাবেন।

সেই হাফ ভলি- ওভার পিচের অপেক্ষায় থাকেন বিশ্বের তাবত সফল ব্যাটসম্যানরা। আর বাংলাদেশের অধিনায়কের কথা শুনে মনে হলো, তারা অপেক্ষায় থাকেন- কখন অফ ও লেগস্ট্যাম্পের বাইরের বল পাবেন। সেগুলোকে মারতে যান। আর তাতেই নির্বিবাদে উইকেট দিয়ে আসা!



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :