দুপুর ১২:৪০, সোমবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ
টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ
জানুয়ারি ৮, ২০১৭

সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে উড়ন্ত সূচনা করেও হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের কাছে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ২৭ রানে হেরেছে সফরকারীরা। ১৯৫ রানের জবাবে ৬ উইকেটে ১৬৭ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। এরমধ্য দিয়ে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ হলো সফরকারীরা।
জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশের শুরুর দিকে ৪.৩ ওভারেই আসে ৪৪ রান। তামিমের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৪। তবে ৪.৪ বলে আর মনোযোগ ধরে রাখতে পারেননি তামিম। বোল্টের বলে গ্র্যান্ড হোমকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মারকুটে এই ওপেনার।

তামিম বিদায় নিলেও মারমুখী ভঙ্গিতে খেলেছেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার।  তবে বেশিক্ষণ তাকে মারমুখী ভঙ্গিতে খেলতে দেননি স্পিনার সোধি।  ৮.২ ওভারে নিজের হাতেই তালুবন্দী করেন সৌমকে।  উড়িয়ে মারতে গিয়ে ২৮ বলে ৪২ রানে বিদায় নেন তিনি। ২ উইকেট গেলেও টাইগারদের শুরুর পাওয়ার প্লেতেই এসেছে ৬৯ রান।

দ্রুত রান নেওয়ার তাড়ায় বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাব্বিরও।  ১৮ রান করে ১২তম ওভারে উইলিয়ামসনের বলে বোল্ড হন।  এরপর চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব।  জুটিতে আসে ২৫ রান।  তবে দলীয় ১২২ রানে মাহমুদউল্লাহ বোল্ড হলে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ এই জুটি। সোধির বলে বোল্ড হয়ে ১৮ রানে ফেরেন তিনি।  এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচ চলে যেতে থাকে কিউইদের দিকে। বড় লক্ষ্যের চাপে মনোযোগ রাখতে পারেননি মোসাদ্দেক। রানের ব্যবধান কমিয়ে স্যান্টনারের বলে ১২ রানে ফেরেন তিনি। মাঝে বড় ইনিংস খেলার দৃঢ়তা দেখালেও শেষ ওভারে ৪১ রানে ফেরেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ থামে ৬ উইকেটে ১৬৭ রানে।   কিউইদের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ড ও সোধি।  একটি করে নেন স্যান্টনার ও উইলিয়ামসন।  ম্যাচ সেরা হন ঝড় তুলে খেলা অ্যান্ডারসন।

এর আগে বাংলাদেশকে ১৯৫ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় নিউজিল্যান্ড। টস হেরে ব্যাট করে স্বাগতিকরা সংগ্রহ করে ৪ উইকেটে ১৯৪ রান।

আগে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গেলেও খেলতে নেমে শুরুটা দেখেশুনে করেছিল নিউজিল্যান্ড। ৪ ওভারেই আসে ৩৪ রান। যদিও পঞ্চম ওভারে রুবেলের বলে ঘটে বিপত্তি। তার ৪.২ ওভারে এলবিডব্লুতে ফেরত যান জিমি নিশাম। বিদায় নেন ১৫ রানে।

এরপর ক্রিজে নামেন কলিন মুনররো। তাকেও টিকতে দেননি রুবেল। তাকে একই ওভারের শেষ বলে সৌম্য সরকারের হাতে তালুবন্দী করেন। মুনরো বিদায় নেন রানের খাতা না খুলেই।

মাঝে একটি ওভার বিরতি গেলে ফের শুরু হয় আঘাত। ক্রিজে নামা নতুন ব্যাটসম্যান টম ব্রুসকেও ক্রিজে টিকতে দেননি মোসাদ্দেক।  ৭ম ওভারের প্রথম বলেই কিউই ব্যাটসম্যানকে ইমরুল কায়েসের তালুবন্দী করেন তরুণ এই অফ স্পিনার।  ৩ উইকেট হারানোর সঙ্গে সঙ্গে রানের গতিও কমে আসে কিউইদের।

যদিও চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে ইনিংস মেরামত করেন কেন উইলিয়ামসন ও কোরে অ্যান্ডারসন। তাদের ১২৪ রানের জুটিতে বড় পুঁজি পায় কিউইরা। ১৭তম ওভারে সৌম্য সরকারের এক ওভারেই তিন ছয় মেরে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন অ্যান্ডারসন। ৩০ বলে এই ওভারে ৬১ পূরণ করেন তিনি।

এই জুটি অতটা মারমুখী হতো না যদি উইলিয়ামসনের ক্যাচগুলো নিতে পারতো বাংলাদেশ।  কারণ কিউই এই ব্যাটসম্যানের দুটি ক্যাচ মিস করেছে টাইগাররা। ১৭.১ ওভারে দ্বিতীয়বার জীবন পান ওপেনার উইলিয়ামসন।  মাশরাফির বলে তার ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন তামিম।  এর আগে ১৫তম ওভারেও মাশরাফির বলে ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান।

তবে আজকের ম্যাচে কিউইদের ভালোই ভুগিয়েছেন পেসার রুবেল।  শুরুর দিকের মতোন ঝলক দেখান শেষের দিকেও। ১৮.১ ওভারে বোল্ড করেন ৬০ রানে ব্যাট করতে থাকা কেন উইলিয়ামসনকে।  এই উইকেটের মধ্য দিয়ে ভাঙে ত্রাস ছড়ানো অ্যান্ডারসন-উইলিয়ামসন জুটি।  উইলিয়ামসন ৫৭ রানে বলে ৬০ রান করে। তবে সব চেয়ে বেশি মারমুখী ছিলেন অ্যান্ডারসন। ৪১ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। যেখানে ছিল ১০টি ছয় ও ২টি চার। তার ব্যাটেই শেষ দিকে ১৯৪ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।

পেসার রুবেল বাংলাদেশের পক্ষে একাই নিয়েছেন ৩ উইকেট।  একটি নিয়েছেন মোসাদ্দেক।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :